কলকাতা: ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) পরিযায়ী শ্রমিক খুনের ঘটনাকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বেলডাঙা (Beldanga)। শুক্রবার সকাল থেকেই পথ অবরোধ ও রেল অবরোধে কার্যত অচল হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এই আবহেই উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার পথে দমদম বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বেলডাঙায় বিক্ষোভরত সংখ্যালঘুদের ক্ষোভ সম্পূর্ণভাবে বৈধ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বারবার অত্যাচার হচ্ছে। কোথাও খুন, কোথাও হেনস্তা—এতে মানুষের ক্ষোভ হওয়াটাই স্বাভাবিক।” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে একটি রাজনৈতিক দল। নাম না করেই বিজেপিকে নিশানা করে মমতার মন্তব্য, “কারা উসকানি দিচ্ছে, সবাই জানে। বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি চলবে না।”
আরও পড়ুন: প্রয়াত সিপিএমের প্রবীণতম নেতা চন্দ্রশেখর বসু
বেলডাঙায় অশান্তির সূত্রপাত হয় ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর খবরে। অভিযোগ, কাজ করতে গিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল ও ট্রেন পরিষেবা। যদিও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য সরকার বারবার কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার এ বিষয়ে উদাসীন। “বাংলার শ্রমিকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন। অথচ তাঁদের সুরক্ষার দায়িত্ব নেওয়া হচ্ছে না,” বলেন মমতা।
তিনি আরও আশ্বাস দেন, বেলডাঙার পরিস্থিতির ওপর রাজ্য সরকার কড়া নজর রাখছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলা শান্তির রাজ্য। কেউ যদি অশান্তি ছড়াতে চায়, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।”







