Friday, May 1, 2026
HomeScrollAajke | এসআইআর কি আপাতত স্থগিত হবে?
Aajke

Aajke | এসআইআর কি আপাতত স্থগিত হবে?

মুখ্যমন্ত্রী জ্ঞানেষ কুমারকে লিখেছেন, ‘অবিলম্বে এই হ্যারাসমেন্ট বন্ধ করুন, বন্ধ করুন এই মানুষ মারা কল’

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

এক তুঘলকি কান্ড চলছে রাজ্যজুড়ে, সেই নোটবন্দির দিনগুলো যেন ফিরে এসেছে। কেউ জানে না কী হচ্ছে। বিএলও জানে না ঠিক কি ভুল? কী করতে হবে? মানুষ জানে না তার নাম কেন বাদ পড়েছে। ইআরও জানে না ঠিক কোন কাগজ দিলে চলবে। এক নরক গুলজার চলছে। বিভিন্ন ব্লকের নির্বাচন কমিশন দফতরের সামনে বিশাল লাইন। মানুষ অ্যাম্বুলেন্সে নাকে অক্সিজেনের নল লাগিয়ে হাজির, ২০ কিলোমিটার দূর থেকে এসে ছ’ঘন্টা অপেক্ষা করার পরে একজন কেবল এটা জেনে বেরিয়ে আসছেন যে, তাঁর বাবার বার্থ সার্টিফিকেট নাহলে পেনশনের কাগজ লাগবে, সে কাঁদছে তারা বাবা গরীব কৃষক, পেনশনের কাগজ কোথায় পাবেন আর বাবার বার্থ সার্টিফিকেট কোথ্বকে পাবো। বহু মানুষ তো বুঝেই পাচ্ছেন না যে, কেন তাঁদের নাম ২০০২-এ নেই? তাঁরা তো বহুবার, এমনকি গত বিধানসভা লোকসভাতেও ভোট দিয়েছেন। মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে মারা যাচ্ছেন, বাড়ি ফিরে নাম কাটা গেলে কী হবে, সেই আশঙ্কায় মারা যাচ্ছেন। একেই কি গণতন্ত্রের জন্য বলিদান বলা হবে? নির্বাচনী দফতরে যে সরকারি কর্মচারীরা কাজ করছেন, তাঁদের অবস্থা করুণ। কারণ একদিকে উপরের আধিকারিক, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের এই অসহায় অবস্থা। আর এসব হচ্ছে কোথ্বেকে? এক অদ্ভুত শব্দ এসেছে তথ্যগত ভ্রান্তি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। মানে এমনকি ২০০২-এ নাম থাকলেও যদি বানান, লিঙ্গ, বয়স ইত্যাদির ভুল থাকে তাহলেও তাঁকে সেই সব কাগজ এনে হাজির করতে হবে, আর এত মানুষের সেই অত শত ডকুমেন্ট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া এক হারকুলিয়ান টাস্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক সেটাই লিখে পাঠিয়েছেন নির্বাচন কমিশনারকে, সেটাই বিষয় আজকে, এসআইআর কি আপাতত স্থগিত হবে?

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, অযথা মানুষকে হয়রান করছে কমিশন। তাঁর বক্তব্য, সামান্য বানান ভুলের জন্যও নোটিস দেওয়া হচ্ছে, ডেকে পাঠানো হচ্ছে জমিদারের মতো। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা খুব ছোট, যা অফিসে বসেই ঠিক করা যায়। তার বদলে মানুষকে শুনানির জন্য নোটিস পাঠিয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে সময় এবং টাকা নষ্ট করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন নিজেদের পুরনো নির্দেশই মানছে না। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “এর আগে কমিশন বলেছিল, পুরানো ভোটার তালিকার সঙ্গে না মিললে ভোটারকে নোটিস দেওয়া হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, যাঁদের সব তথ্য মিলেছে, তাঁদেরকেও নোটিস পাঠানো হচ্ছে।’’ কেন এটা হচ্ছে? এর মূলে আছে কয়েকটা সফটওয়ার। প্রথমে ২০০২-এর তালিকা কেসিএসভি ফাইলে বদলানো। সেটা কী? সেটা হল ২০০২-এর যে ভোটার তালিকা, তার ওয়ার্ড ফাইল নেই, কেবল পিডিএফ ফাইল আছে। তা নিয়ে তো কাজ করা যায় না, তাই তাকে কমা সেপারেটেড ভ্যালুতে এনে দাঁড় করাতে হয়। সেটা করতে গিয়েই হয়েছে প্রথম বিপত্তি, উদোর পিন্ডি বুধোর ঘজাড়ে চেপেছে, এর বাবার নাম তার মায়ের ঘাড়ে, এর বয়স তার মেয়ের ঘাড়ে, আর সে এক চরম বিশ্রি, আইটির ভাষায় ন্যাস্টি ডেটাবেস নিয়েই কাজ শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: Aajke | শুভেন্দু অধিকারীর বাংলার সংস্কৃতি এবং হিজাবে আপত্তি

শুরুতেই এই ভুল ধরা পড়েছিল, কাজও বন্ধ হয়েছিল, কিন্তু তারপর অর্ডার আসে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। দু’নম্বর সফটওয়ার হল ডুপ্লিকেট নাম খুঁজে বের করা, সেখানেও এক গোলমেলে সফটওয়ার যা কেবল নাম দেখেই দুই সঞ্জয় সিংকে এক করে দিচ্ছে, তারপরে বাবার নাম মায়ের নাম বয়স ঘেঁটে ঘ। সেটাও বোঝা গিয়েছিল, কিন্তু তারপরে আবার অর্ডার আসে, ঐ সফটওয়ারেই কাজ চলছে। তিন নম্বর এক এআই সফটওয়ার যা দিয়ে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি খুঁজে বার করা হচ্ছে, যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বুদ্ধিতে অমর্ত্য সেন, ঘনশ্যাম দাসের কোনও তফাৎই নেই, যেমন বুদ্ধি আমাদের খোকাবাবুর, উনিও বলেছেন যে অমর্ত্য সেন তো কী হয়েছে? তো যাই হোক সেই সফটওয়ারেও বিস্তর ভ্রান্তি। সফটওয়ারের এই ভ্রান্তির দাম দিচ্ছে কে? কেন? সাধারণ মানুষ। সেটাই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ৬ নম্বর চিঠিতে ওই জ্ঞানেষ কুমারকে লিখেছেন। লিখেছেন, ‘অবিলম্বে এই হ্যারাসমেন্ট বন্ধ করুন, বন্ধ করুন এই মানুষ মারা কল’। ওদিকে বিরোধী দলনেতা বলেই যাচ্ছেন, ‘হবেই, মরুক, তরুক, যা হয় হোক, এই কাজ চালিয়ে যেতেই হবে’। আমরা আমাদের দর্শকদের কাছে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেষ কুমারকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন মানুষের দুরবস্থার কথা, বলেছেন আপাতত স্থগিত রাখা হোক এই প্রক্রিয়া, যা বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, বহু জেনুইন ভোটারের ভোট দেবার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। আপনারা কি তাঁর সঙ্গে একমত? কেন একমত?

গণতন্ত্রের এক সোজা ডেফিনেশন হল গণতন্ত্র মানুষের দ্বারা, মানুষকে নিয়ে, মানুষের জন্য এক ব্যবস্থা। আর সেই গণতন্ত্রের সবথেকে বড় শর্ত অবাধ নির্বাচন। তার নাম করে গোটা রাজ্যে চলছে প্যান্ডামোনিয়াম, মানুষ মারা যাচ্ছে, কাঁদছে, হ্যারাস হচ্ছে, একজন দু’জন নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী সেই প্রক্রিয়াকে বন্ধ করতে বলেছেন। সে নিয়ে মামলার শুনানি হবে আর কিছুদিন পরে। বন্ধ হবে তেমন আশা আমরা করি না, কিন্তু একটু মানবিক হয়ে উঠবে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সেটুকু চাওয়াও কি বিরাট কিছু?

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor WDBOS slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ traveltoto toto slot slot gacor situs slot gacor situs togel situs toto slot gacor toto https://josephmellot.com/nos-vins/ https://todayinnewsfocus.com/ BWO99 poker idn poker benteng786 situs slot gacor idn poker toto slot MySlot188