Saturday, August 15, 2026
HomeScrollAajke | আবার কবে এই বাংলায় আসবেন মোদি, অমিত শাহ?
Aajke

Aajke | আবার কবে এই বাংলায় আসবেন মোদি, অমিত শাহ?

অমিত শাহ, তাঁর ওয়ার রুম গুটিয়ে আপাতত বঙ্গাল সে বাহর, ওনার নেক্সট ডেস্টিনেশন উত্তরপ্রদেশ

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাৎসরিক কাজ সেরে ফিরে গিয়েছেন, আবার ২০২৯-এ লোকসভা নির্বাচনের আগে আমরা নিশ্চয়ই তাঁর দেখা পাবো, আবার ‘সুনার বাংলা’, আবার ‘চোলায় চোলায়’ বাজবে ‘জোয়ের ভেড়ি’ হবে, আবার ‘বঙ্কিম দা’, আবার ‘ঝালমুলি’, আবার নৌকতে বসে ফটো তোলার ফটোগ্রাফি, আবার আমরা দেখবো তো উনি যাবার আগে বলে গিয়েছেন এই বাংলাতে এসে ‘‘আমি অনুভব করতাম আমার এক তীর্থযাত্রা হচ্ছে। আমি যখন মা কালীর ভক্তদের মধ্যে যেতাম, তখন সম্ভবত মা কালী নিজেই আমাকে নতুন শক্তিতে পরিপূর্ণ করে দিচ্ছিলেন।’’ মানে সেই অজৈবিক নরেন্দর মোদি, ‘নন-বায়োলজিক্যাল’, যাঁকে ইশ্বর কনুইয়ের গুঁতো দিয়ে এই ধরাধামে পাঠিয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছে এর আগে অযোধ্যায় রামলালার মন্দিরে মূর্তি প্রতিষ্ঠার আগে ব্রত পালনের সময় ‘প্রভু রামচন্দ্র’ তাঁকে বিপুল শক্তি দিয়েছিলেন। এবার বাংলার জনগণের মুখোমুখি হয়ে তিনি সেই একই শক্তি পেয়েছেন। খালি রামলালার বদলে এখানে তাঁকে শক্তি যুগিয়েছেন স্বয়ং মা কালী, এই একই শক্তি ওনাকে গোয়াতে যোগান যিশুখ্রিষ্ট নিজে, অন্ধপ্রদেশে লর্ড তিরুপতি, অসমে মা কামাখ্যা আর তামিলনাড়ুতে মুরুগান, মানে যেখানে যাদের ভোট, সেখানে সেই তাঁদের দেবতা ওনাকে শক্তি দেন, এখানে আগে রাম দিত, কিন্তু দেখা গেল রামের শক্তিতে বিশেষ করে বিরাট লাভ হয়নি, তাই বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের অ্যাডভাইজ নিয়েই উনি মা কালীতে শিফট করেছেন। অমিত শাহ, তাঁর ওয়ার রুম গুটিয়ে আপাতত বঙ্গাল সে বাহর, ওনার নেক্সট ডেস্টিনেশন উত্তরপ্রদেশ। সেটাই বিষয় আজকে, আবার কবে এই বাংলায় আসবেন মোদি, অমিত শাহ?

মোদিজি যাবার আগে এক বিশাল টুইট করে বলে গিয়েছেন যে, ৪ তারিখের পরে শপথ গ্রহণের দিনে উনি আবার কলকাতায় আসবেন, এটা এক অপ্রত্যাশিত সৌজন্য, আমাদেরও ধারণা এবারে চার বারের জন্য শপথ নেবার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চয়ই ওনাকে নেমন্তন্ন করবেন, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পাশেই একটা ঝালমুড়ি কাউন্টার থাকলে বেশ হবে, ওনার ১০ টাকা খরচ না করেই ওই ঝালমুড়ি খাওয়া হয়ে যাবে। কিন্তু সমস্যা হল আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে, উনি নির্বাচনের পরে ফিরে এসে দু’দুটো কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন, এক হল সেই সমস্ত উদ্ধত প্রতিবাদীদের উলটো করে ঝোলাবেন, এটার জন্য অনেকে ওই রামদেবের শীর্ষাসন প্রাকটিস করছেন, আসলে গণতান্ত্রিক আচার আচরণের উপরে কিছুমাত্র ভরসা থাকলেও বলতেন, তাদের বিচার হবে, শাস্তি হবে, কিন্তু না, এক মধ্যযুগীয় ধ্যান ধারণার মানুষ এই তাড়িপার অমিত শাহ বলেছেন উলটো করে লটকে দেবেন। দু’নম্বর কাজটা আরও গুরুত্বপূর্ণ, ভালো করে শুনে নিন, ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট। প্রথমে বাছো, তারপর নাম কাটো, তারপর তাকে অন্যদেশে পাঠিয়ে দাও। হ্যাঁ, অমিত শাহ বলে গিয়েছেন, কেবল এটা করার আগে একটা ক্লজ জুড়েছেন, ওনারা জিতে এলে তবে এই কাজটা করবেন। ব্যস, আর কেউ ব্যাপারটাকে সিরিয়াসলি নিচ্ছেই না, খিল্লি করছে, ওরে ভাই আগে সাড়ে সাত মণ তেল পুড়ুক, তবে তো রাধা নাচবে। কিন্তু ওনার এই কথাগুলো এ রাজ্যের ভোটারদের অনুপ্রাণিত করেছে, প্রেরণা যুগিয়েছে, যাঁরাও একটু দ্বিধায় ছিলেন, একটু দোনোমনো করছিলেন, তাঁরাও আজ দেখছি এক্কেবারে ধনুকের ছিলার মতো টান টান প্রতিজ্ঞা নিয়ে বুথমুখো হবার কথা বলছে, যারা আমার সহনাগরিককে সাত দশ আঠেরো পুরুষ ধরে এই দেশে বসবাস করার পরে দেশ থেকে তাড়ানোর কথা বলে, তাদের বিরুদ্ধেই যাবে আমার গণতান্ত্রিক মতো।

আরও পড়ুন: Aajke | বিজেপির মিটিং গুলোতে ফাঁকা মাঠ কোন খবর দিচ্ছে?

হ্যাঁ, সেই কবে এক্কেবারে প্রচারের শুরুতেই বলেছিলাম যে, এই মোদি-অমিত শাহ যোগী-নাড্ডারা যত এই বাংলাতে প্রচারে আসবে, যত মুখ খুলবে, তত কমবে বিজেপির ভোট, কারণ বাংলার সংস্কৃতি ইনক্লুসিভ, ডিলিশনের নয়, আমরা বেঁধে বেঁধে থাকতে ভালোবাসি, আমরা সম্প্রিতীতে বিশ্বাস করি, আমরা ধর্মের এই বিভাজন রেখাকে অস্বীকার করেই বাঙালি হয়ে উঠেছি, আমাদের ঠাকুর মানবতার কথা বলে গিয়েছেন। এই আকশে মুক্তির কথা বলে গিয়েছেন, বিশ্বভরা প্রাণের কথা বলে গেছেন, বলে গিয়েছেন দেবে, ‘আর নেবে মিলাবে মিলিবে যাবে না ফিরে, এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে’, সেখানে এই জান্তব চিৎকার আর ঘৃণার কোনও জায়গা নেই, সেটা কবে বুঝবেন এই মোদি–অমিত শাহ? ৪ তারিখের পরে? হ্যাঁ, খানিকটা বুঝবেন, বাকিটা বোঝাতে হবে ২০২৯-এ। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, প্রায় দিন ১৫ ধরে ঘাঁটি গেঁড়ে পড়ে থাকলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এসেছেন ১৪ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কিন্তু এই বিরাট ঝটিকা বাহিনীর প্রচারে কি মানুষ সায় দেবে? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।

মরশুমি পাখির মতো আসবেন বাংলাতে আসুন, ঝালমুড়ি খান, গঙ্গার ধারটা এখন ভারী সুন্দর, নৌক চড়ুন, চাইকি এক আধজনের ঘরে ওই শুদ্ধ শাকাহারী পোস্ত-রুটি খাবার ব্যবস্থাও করে দেবো, আগেরবার যাঁদের ঘরে গিয়েছেন তাঁরা তো কেউ ঘরে ঢুকতেই দেবেন না। সে না দিক, অন্য আরও অনেকে আছে, দু’বেলা দু’মুঠো অতিথিকে খাওয়ানো বাংলার সাধারণ সংস্কৃতি। কিন্তু ওই নাগরিকত্ব, ঘুসপেটিয়া এসব কথা মুখেও আনবেন না, বাংলার ছেলেমেয়েরা খুব আন-প্রেডিকটিভ, কখন যে কী করে ফেলবে কে জানে। আর মোদিজি এই রাজ্যের কিছু জিনিষপত্র নিয়ে বাঙালিরা বড্ড সেনসিটিভ, এরা তো ওই গালগোটিয়া ইউনিভার্সিটির বা আপনার সেই অদৃশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয়, যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি এসব নিয়ে বেশি কথা আপনার না বলাই ভালো, কারণ এগুলো জানতে গেলেও বিস্তর পড়তে হবে। তার চেয়ে হঠাৎ চুলকুনি হলে, মানে এই বঙ্গে আসার ইচ্ছে হলে, বরং দু’চার লাইন মুখস্থ বলে দেবেন, ওই সেই কবিতাটার, যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো? হ্যাঁ, আপনার বঙ্গ সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যে কবির ছবি দিয়েছিলেন, এটা তাঁরই কবিতা, এটাই মানাবে। আসতে চান? কিন্তু কেন আসবেন বলুন তো?

দেখুন আরও খবর:

[youtube-feed feed=1]
Read More

Latest News

JUARA88 situs slot gacor WDBOS slot gacor mix parlay idn slot poker idn poker situs slot gacor situs toto istanaslot istanaslot sohibslot slot gacor hari ini AMANAHTOTO garuda4d https://mybett188.com toto permata888 nobu99 situs slot gacor link slot gacor Depo 5k