কলকাতা: হাইকোর্টের (High Court) নির্দেশ অনুসারে ২০১৬-র শিক্ষক নিয়োগ (SSC Recruitment) প্যানেলের ‘দাগি অযোগ্য’ প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকাশিত এই তালিকায় রয়েছে মোট ১,৮০৬ জন প্রার্থীর নাম, রোল নম্বর, পিতার নাম, জন্মতারিখ ও বিষয়। তবে বিতর্ক বাড়িয়েছে একটি তথ্য। এই তালিকায় উল্লেখ নেই, এঁরা কোন কোন স্কুলে পড়াতেন বা তাঁদের বিভাগ কী ছিল।
এর আগেই সুপ্রিম কোর্টে ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা পেশ করেছিল রাজ্য সরকার। সেই তালিকার ভিত্তিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, কালো তালিকাভুক্ত এই প্রার্থীরা কোনও ভাবেই ভবিষ্যতের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু এর মাঝেই এসএসসি-র একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ পরীক্ষার ফলফলে দেখা যায়, অনেক ‘অযোগ্য’ প্রার্থী পরীক্ষার্থী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছেন, এমনকি একজন প্রার্থীর নাম ইন্টারভিউ তালিকাতেও উঠে এসেছে। সেই অভিযোগ নিয়েই মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে।
আরও পড়ুন: SSC নিয়োগে বিরাট নির্দেশ হাইকোর্টের
মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিংহ স্পষ্ট নির্দেশ দেন, শুধু নাম নয়, চিহ্নিত ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়সহ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আদালতের সেই নির্দেশ মেনেই এ দিন এই তালিকা প্রকাশ করে এসএসসি। তবে তালিকায় প্রার্থীদের স্কুল বা বিভাগ উল্লেখ না থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের অন্যতম নেতা মেহবুব মণ্ডল বলেন, “প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির প্রতিবাদ করতেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, ততই বিভ্রান্তি বাড়ছে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এখনও পাওয়া যাচ্ছে না।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ মেনে এ দিনই এসএসসি অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করবে। কিছু সময়ের মধ্যেই কমিশনের তরফে প্রকাশিত হয় তালিকাটি।
উল্লেখ্য, এ বছরের ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেয় এসএসসি। তার আগেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে অগস্টের শেষে ‘অযোগ্যদের তালিকা’ প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় সেই তালিকার কয়েকজনের নাম মিলতেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। এদিনের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ তালিকা স্বচ্ছতার পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে দাবি করলেও, স্কুলের নাম ও বিভাগ গোপন রাখায় বিতর্ক কমছে না। বরং আরও বাড়ছে।
দেখুন আরও খবর:







