কলকাতা: বেতনবৃদ্ধি, কাজের চাপ ও সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে বুধবার সকাল থেকেই উত্তাল রাজ্য (West Bengal)। আশা কর্মীদের স্বাস্থ্যভবন অভিযান (Asha Workers Swastha Bhavan Abhijan) ঘিরে কলকাতা-সহ (Kolkata) একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।আশাকর্মীদের স্বাস্থ্যভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড। স্বাস্থ্যভবনের বাইরে লোহার দুর্গ, ব্যারিকেড করে রেখেছিল পুলিশ। আন্দোলনকারী আশা কর্মীদের (Asha Workers Protest) দফায় দফায় টানাপড়েনের ছবি সামনে আসে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ উঠছিল, কলকাতায় (Traffic Disrupted in Kolkata ) যাওয়ার পথে আটকানো হচ্ছে আশাকর্মীদের। অন্যদিকে শহিদ মিনারে আইএসএফের কর্মসূচি। তার জেরেই বুধবার তীব্র যানজট (Traffic Disrupted in Kolkata ) শহরে। অন্য দিকে মধ্য কলকাতার এজেসি বোস রোড, এসএন ব্যানার্জি রোডেও রয়েছে ভিড়ের চাপ। হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশনেও ছিল স্বাস্থ্যভবন অভিযানকারী আশাকর্মীদের ভিড়। তার জেরে ভোগান্তি হয়েছে ট্রেনের নিত্যযাত্রীদেরও।
স্বাস্থ্যভবনে রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরুপ নিগমের কাছে তাঁদের ডেপুটেশন দেওয়ার কথা বুধবার। সেই ডেপুটেশানে যোগ দিতেই এদিন সকালে পুরুলিয়া-বাঁকড়া এমনকী উত্তরবঙ্গ থেকেও একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে কলকাতার উদ্যেশ্যে রওনা দেওয়ার চেষ্টা করেন আশাকর্মীদের একাংশ সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আশাকর্মীদের আটক করার অভিযোগ উঠেছে। উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক আশাকর্মীই ট্রেনে চেপে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছোন। শিয়ালদা স্টেশনের (Sealdah Station) ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম কার্যত অবরুদ্ধ। অফিস টাইমে নিত্যযাত্রীরা হয়রানির শিকার হন। নিত্যযাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, সে কারণে দুই স্টেশনেই ছিল ভিড়, বিশৃঙ্খলা। ট্রেন থেকে নেমে বাস বা প্রয়োজনীয় যান ধরতে সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। যদিও পরে তাঁদের সেখান থেকে যেতে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:আশাকর্মীদের বিক্ষোভ ঘিরে তুলকালাম কলকাতায়, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি
শিয়ালদহ স্টেশন থেকে মিছিল করে আশাকর্মীরা ধর্মতলার দিকে এগোতে শুরু করে। তাঁদের কলকাতা পুরভবনের সামনে ব্যারিকেড করে আটকে দেয় পুলিশ। বেশ কয়েকজন আশাকর্মী ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করেন। এর ফলে পরিস্থিতি আরও তপ্ত হয়। এই মিছিলের ফলে মৌলালি, শিয়ালদহ ব্রিজের দক্ষিণমুখী রাস্তায় ব্যাপক যানজট হয়। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে জানানো হয়, মৌলালি ক্রসিং থেকে প্রয়োজন মতো গাড়িগুলি ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।এই যানজটের কারণে সপ্তাহে কাজের দিনে বিপাকে পড়েন অফিসযাত্রীরা। প্রথমে সেক্টর ফাইভ ঢোকার মুখে নিকো পার্কের কাছে মন্থর হয় গাড়ির গতি। ক্রমে যানজট ছড়িয়ে পড়ে চিংড়িঘাটা পর্যন্ত। অফিসযাত্রীদের অভিযোগ, সায়েন্স সিটির মোড়েও অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি সময়ে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকেত হয়েছে তাঁদের। এর পরে চিংড়িহাটা থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত রাস্তা ছিল এক প্রকার স্তব্ধ।
বুধবার শহিদ মিনারে রয়েছে আইএসএফের কর্মসূচি। প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সেই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তারা। ধর্মতলার শহিদ মিনারে সেই জমায়েতের কারণে এজেসি বোস রোড, এনএস ব্যানার্জি রোডে রয়েছে ভিড়ের চাপ। সেক্টর ফাইভ, নিউটাউনে যখন এই অবস্থা, তখন ভিড়ের চাপ বেড়েছে মধ্য কলকাতাতেও। নিত্যযাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, সমর্থকদের গাড়ি সায়েন্স সিটি হয়ে গিয়েছে ধর্মতলায়। সে কারণে সায়েন্স সিটি মোড়, তপসিয়া, পার্ক সার্কাসেও হয়েছে যানজট।







