কলকাতা: এসআইআর (Special Intensive Revision-SIR) শুনানিতে এবার ডাক পেলেন তৃণমূলের (TMC) তারকা সাংসদ দেব (Dev) ওরফে দীপক অধিকারী। শুধু দেব নন, তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যকেও শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে খবর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর মৌসুমী দাস। যদিও এখনও পর্যন্ত কবে তাঁদের শুনানিকেন্দ্রে হাজির হয়ে নথিপত্র পেশ করতে হবে, সেই দিনক্ষণ জানানো হয়নি।
এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর দেব কিংবা তাঁর পরিবারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শাসক শিবিরের তরফে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, একজন ব্যস্ত অভিনেতা এবং একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দেবকে এভাবে নোটিস পাঠানো নিতান্তই হয়রানির মনোভাবের পরিচয়।
আরও পড়ুন: ‘মমতা দিদিকে শুভেচ্ছা’ জন্মদিনে মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনায় বার্তা মোদির
উল্লেখ্য, দেবের আদি বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে। সেখানেই তাঁর জন্ম। পরবর্তী সময়ে বাবার কর্মসূত্রে দেব ও তাঁর পরিবার মুম্বইয়ে থাকতে শুরু করেন। অভিনয় জীবনের সূত্র ধরেই অনেক পরে তিনি কলকাতায় এসে পাকাপাকি বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটি আবাসনেই তাঁর স্থায়ী ঠিকানা। টলিউডের অন্যতম সুপারস্টার হওয়ার পাশাপাশি দেব এখন একজন পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। নিজের জন্মস্থান ঘাটাল থেকেই টানা তিনবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। অভিনয়ের কেরিয়ার সামলানোর পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন ও জনতার কাজও নিয়মিত করে থাকেন দেব।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এবার তাঁকেই নিজের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি পেশ করতে হবে, এমনই দাবি উঠেছে। শুধু দেব নয়, তাঁর পরিবারের আরও তিনজনকেও এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, টলি ইন্ডাস্ট্রির আরও একাধিক পরিচিত মুখ এর আগেও এসআইআর শুনানির নোটিস পেয়েছেন। জনপ্রিয় অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল ২০০২ সালের নথি জমা না দেওয়ার অভিযোগে। পাশাপাশি টালিগঞ্জের অভিনেতা দম্পতি কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও লাবণী সরকারও সোমবার শুনানিকেন্দ্রে হাজির হন। শুনানি শেষে লাবণী সরকার জানান, শুধু নথিতে সই করিয়ে মিলিয়ে দেখেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
একাধিক সেলেবকে এসআইআর শুনানিতে তলব করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কাউন্সিলর মৌসুমী দাস। তাঁর অভিযোগ, ব্যস্ত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের এভাবে ডেকে পাঠানো অযথা হয়রানি ছাড়া আর কিছু নয়।







