কলকাতা: বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল মেসির (Lionel Messi) অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত সল্টলেকের (Saltlake) যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন (Yuva Bharti Stadium)। কলকাতার গর্বের এই আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নতুন বছরের শুরু থেকেই সংস্কারের কাজে হাত দিচ্ছে রাজ্য সরকার। জানুয়ারি মাস থেকেই পূর্ত দফতরের তত্ত্বাবধানে সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ও স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর নেতৃত্বে সেই কমিটি পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করে। একই সঙ্গে যুবভারতীতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় পূর্ত দফতরকে। সেই রিপোর্ট নবান্নে জমা পড়ার পরই সংস্কারের সবুজ সংকেত মেলে।
আরও পড়ুন: এক ধাক্কায় ৭.২ ডিগ্রি কমল কলকাতার তাপমাত্রা, জেলায় জেলায় হাড়কাঁপানো শীত
পূর্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন পুনর্নির্মাণ শুরু করা সম্ভব ছিল না। সম্প্রতি পুলিশের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাওয়ার পরেই সংস্কারের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। দফতরের এক আধিকারিক জানান, “জানুয়ারি থেকেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হবে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট, তাই কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে যত দ্রুত সম্ভব খেলাধুলা শুরুর উপযোগী করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”
মূল্যায়নে উঠে এসেছে, ১৩ ডিসেম্বর মেসিকে দেখতে না পেয়ে উত্তেজিত দর্শকদের একাংশ স্টেডিয়ামের বহু বাকেট চেয়ার ভেঙে ফেলেন। একাধিক জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লোহার গ্রিল। খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথের ছাদেও ভাঙন ধরা পড়েছে। এমনকি ফুলের টব, মাঠের পাতার ম্যাটও নিয়ে চলে যায় উত্তেজিত জনতা। ফলে বেশ কিছু অংশ নতুন করে নির্মাণ করতে হবে।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ক্রীড়া দফতরের অধীনে থাকলেও পরিকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বরাবরই পূর্ত দফতরের। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ক্রীড়া দফতরের দায়িত্বে থাকায়, তাঁর তত্ত্বাবধানেই সংস্কারের কাজ চলবে। কবে কাজ শেষ হবে, তা এখনই জানাতে নারাজ প্রশাসন, তবে লক্ষ্য একটাই—যুবভারতীকে দ্রুত আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম হিসেবে ফের তুলে ধরা।







