Saturday, August 30, 2025
HomeScrollFourth Pillar | অসমে বাংলা বললে আর গণতন্ত্রের কথা তুললেই আপনি জেলে

Fourth Pillar | অসমে বাংলা বললে আর গণতন্ত্রের কথা তুললেই আপনি জেলে

যাঁহা ‘ডিটেনশন সেন্টার’ তাঁহাই ‘জেল’-দুটোর মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই

অসমে গত ক’বছর ধরে যে রাজনৈতিক, সামাজিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ভয়ঙ্কর, উদ্বেগের, আশঙ্কার। যে কোনও মানুষ, যাঁরা বাংলাতে কথা বলেন, যাঁরা গণতন্ত্রের কথা বলেন, তাঁরাই টার্গেট। মানুষের মনে এমন এক ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছে যে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরকারের জামানায় অসম এখন বাঙালি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের জন্য এক বিভীষিকায় পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার সমষ্টি নয়, বরং একটা অর্গানাইজড রাজনৈতিক কাঠামোর বিভিন্ন দিক, যেখানে বাকস্বাধীনতার উপর আঘাত, ভূমি অধিকারের উপর বিধিনিষেধ, নাগরিকত্বের প্রশ্নে ধর্মীয় বিভাজন এবং ডিটেনশন সেন্টারের অমানবিক পরিবেশ—এই সবকিছু মিলে এক জটিল মানবিক সংকট তৈরি করেছে। কীভাবে আপাতদৃষ্টিতে প্রশাসনিক বা জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত প্রতিটা কাজ, প্রতিটা সিদ্ধান্ত, প্রতিটা পদক্ষেপ আসলে এক বৃহত্তর হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডার অংশ হয়ে উঠছে সেটা বোঝাটা দরকার। সরকার ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ এবং ‘জাতিসত্ত্বার সুরক্ষা’-কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এমন সব দানবীয় নীতি তৈরি করছে, যা আদতে এক নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে বাংলাভাষী মানুষের নাগরিকত্ব, ভূমি অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত হানছে। বেশ কিছু ঘটনার উল্লেখ করব, উদাহরণ দেব। প্রতিটা ঘটনা আলাদা হলেও, তারা এক বৃহত্তর এবং একক রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ, যা অসমের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে তুলেছে, বা বলাই যায় যে গণতন্ত্রের সমাধি তৈরি হচ্ছে। যে কোনও স্বৈরাচারী সরকারের মতোই অসমে ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করার জন্য রাষ্ট্রদ্রোহ আইনকে এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকারের সমালোচনা যারাই করবে, সেইসব সাংবাদিক এবং অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে একের পর এক রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এই পুরো হুমকি-ধমকি-মামলা, জেলে পোরা সবটাই বাকস্বাধীনতার উপর একটা ‘চিলিং এফেক্ট’ তৈরি করছে। জানলে হাড় হিম হয়ে যাবে। এবং সেটা শুধুমাত্র সাংবাদিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাধারণ নাগরিকদের মনেও ভয় ধরিয়েছে, মানুষ কথা বলার আগে দু’বার ভাবছে। যাঁরা পণ্য সামগ্রীর বাজার সমীক্ষা করেন, তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশেষত বাঙালি হিন্দু বা বাঙালি মুসলমান এলাকা থেকে তথ্য সমীক্ষা করাটাই এখন সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এই দমনমূলক নীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল প্রখ্যাত অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিদ্ধার্থ বরদারাজন এবং সিনিয়র সাংবাদিক করণ থাপারের বিরুদ্ধে অসম পুলিশের একাধিক মামলা। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১৫২-তে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারা আসলে ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রদ্রোহ আইন (১২৪এ)-এর এক নতুন অমিত শাহি সংস্করণ। নতুন এই আইনের ভাষা আরও অস্পষ্ট এবং আরও বিপজ্জনক, যা ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবেই ধরে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। আর সেক্ষেত্রে অসম পুলিশের পদক্ষেপের ক্রোনোলজি বিশেষভাবে লক্ষ্য করার মত। ‘দ্য ওয়্যার’-এর সাংবাদিকরা যখন তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এক মামলার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা চাইছিলেন, ঠিক সেদিনই অসম পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে সমন জারি করে। মানে তুমি ক’টা মামলাতে সুরক্ষাকবচ চাইবে? কটাতে পাবে? এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, অসম পুলিশের উদ্দেশ্য শুধু এক অন্যায়কে তুলে ধরা, শাস্তি বিধান করাই নয়, বরং বারবার মামলা ও সমন জারি করে সমালোচকদের হয়রানি করা এবং তাদের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়া। যদিও সুপ্রিম কোর্ট এই পদক্ষেপকে ‘Coercive Action’ বলেছে এবং রায়ে সাংবাদিকদের সুরক্ষা কবচ দিয়েছে, তাঁদেরকে গ্রেফতার করা যাবে না। আদালত নিজে থেকেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১৫২-এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষত, এর অস্পষ্টতার কারণে এর ‘অপব্যবহারের সম্ভাবনা’ বা ‘Potentiality Of Abuse’ সম্পর্কে। এটা এখন স্পষ্ট যে, অসম পুলিশ এবং সরকার এক কড়া মেসেজ দিতে চাইছে: সরকারের সমালোচনাকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। সরকারের সমালোচনা করলে তোমাকে জেলে যেতে হবে। সিদ্ধার্থ বরদারাজন বা করণ থাপারের বিরুদ্ধে মামলা করে রাজ্যের গণতান্ত্রিক মানুষজনদেরও সেই বার্তা দেওয়া হল। এই গোটা ব্যাপারটা এক আইনি পদ্ধতিকে রাজনৈতিক নিপীড়নের এক হাতিয়ারে বদলে দিয়েছে, যা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি, বাকস্বাধীনতাকে কেড়ে নেবে। মানুষ কথা বলতেও ভয় পাবে।

ওদিকে ওই অসম সরকার ক’দিন আগে আন্তঃধর্মীয় ভূমি হস্তান্তরের মানে হিন্দুরা যদি মুসলমানদের জমি বেচে বা তার উল্টোটা হলে, তার জন্য একটা নতুন ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ বা SOP তৈরি করেছে। এই SOP অনুযায়ী, যদি ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে জমি কেনাবেচা হয়, তবে সেই প্রস্তাবের উপর পুলিশ এবং অসম পুলিশের ‘স্পেশাল ব্রাঞ্চ’ দ্বারা বিশেষ তদন্ত করা হবে। এই তদন্তে দেখা হবে যে, লেনদেনটা জবরদস্তিমূলক বা অবৈধ কিনা, টাকার উৎস কী, এবং এর ফলে ‘সামাজিক সংহতি’ ও ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র উপর কোনও প্রভাব পড়বে কী না। এই নয়া ফতোয়ার সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হল, এর স্পষ্ট ধর্মীয় বৈষম্য। এই SOP শুধুমাত্র ভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য প্রযোজ্য, একই ধর্মের মানুষের জন্য নয়। সরকার এই পদক্ষেপকে ‘অসমের মতো এক সংবেদনশীল রাজ্যে’ ভূমি হস্তান্তরকে ‘খুব, খুব সতর্কতার সাথে’ পরিচালনা করার এক প্রচেষ্টা হিসেবে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু এক দুধ খাওয়া বাচ্চাও জানে আসলে সরকার কী চাইছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বহিরাগত এনজিওদের, বিশেষত কেরলের মতো রাজ্য থেকে আসা এনজিওদের, অসমের বিভিন্ন স্থানে জমি কেনার প্রবণতাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন। মানে সেসব অর্গানাজেশন নাকি মিশনারিরা চালাচ্ছে, আর সেখানে ধর্মান্তরণ চলছে। এই নীতির পিছনের গভীর উদ্দেশ্য একটাই, এক হিন্দুত্ববাদকে প্রতিষ্ঠা করা। ‘সামাজিক সংহতি’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র নামে আসলে ‘ডেমোগ্রাফিক শিফট’ বা জনসংখ্যার বিন্যাসের পরিবর্তনের ভয়কে মোকাবিলা করা হচ্ছে, যা বিশেষত বাঙালি মুসলিম যে জেলাগুলোতে বহু বছর ধরে বসবাস করে সেই জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে খর্ব করার এক কৌশল, যা তাদের সামাজিক গতিশীলতাকে আটকে দেবে, সমাজ অবরুদ্ধ হবে, যা নাকি সংবিধানের ১৪ (সাম্যের অধিকার) এবং ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) ধারার মৌলিক লঙ্ঘন। একইভাবে, বাইরের এনজিওদের উপর চাপানো বিধিনিষেধও শুধুমাত্র আর্থিক নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়। এটা অসমের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বহিরাগতদের প্রভাব সীমিত করার এক পুরানো প্রবণতা যা আমরা সেই কবেই ‘বঙাল খেদা’ আন্দোলনের সময় দেখেছি। সরকার বলতে চাইছে যে, বাইরের কোনও সংস্থা বা ব্যক্তি, যাদের সরকারের জাতিগত সংজ্ঞার সঙ্গে আদর্শগত মিল নেই, তাদের উপস্থিতি অবাঞ্ছিত। পরিস্কার কথা হল, সেই শ্লোগান ঘুরে ফিরে আসছে যা আমরা ইউপিতে শুনেছি – ‘ইউপি মে রহনা হোগা তো যোগী মোদি কহনা হোগা’। এটাই ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করার এক পদ্ধতি, যা সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এবং তার সঙ্গে অসমের নাগরিকত্ব সংকট এখন এক নতুন ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছে, অনায়াসে, যেখানে সেখানে বাংলাভাষী মুসলিমদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে জোর করে সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | ১০টা বোমা, যা মমতা ছুঁড়লেন বিজেপির দিকে, হ্যাঁ এগুলোই ২৬-এর নির্বাচনের ইস্যু

স্বাধীন সাংবাদিকদের খবর অনুযায়ী, মে মাস থেকে ৩০০-র বেশি মুসলিমকে জোর করে ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বলেছেন যে, এই অভিযান আরও ‘তীব্র’ করা হবে। কিন্তু মজার কথা হল, এই অভিযানগুলো কোনও আইনি প্রক্রিয়া মানেই না, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই কাজ করে। একটা একতরফা এবং বিচারবহির্ভূত বহিষ্কার চলছে সব জায়গায়। অনেক ক্ষেত্রেই এই মানুষজনদের নাগরিকত্বের মামলা আদালতে বিচারাধীন ছিল। উফা আলির মতো যারা জীবনে প্রথমবার ‘বাংলাদেশি’ নামক শব্দটা ‘একটা গালি’ হিসেবে শুনেছেন, তাদেরও জোর করে সীমান্তের ‘নো-ম্যান’স ল্যান্ড’-এ ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তারা ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাঝে আটকে পড়েছিলেন, যেখানে মারধর ও চরম দুর্দশার শিকার হতে হয়েছে তাদের। এই ধরনের সমস্ত কাজ আন্তর্জাতিক আইন সমর্থন করা তো দূরের ব্যাপার, অন্যায় বলে মনে করে। আর এই সংকট তৈরি হচ্ছে কেন? তার মূলে রয়েছে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন (CAA) আর তা দিয়ে তৈরি ধর্মীয় বিভাজন। অসম সরকার অমুসলিমদের যারা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে এসেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সমস্ত ‘বিদেশি’ মামলা প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছে। মানে অনুপ্রবেশ, ‘অবৈধ অভিবাসী’ বাছার প্রক্রিয়াটা নিরপেক্ষ নয়, বরং এটা ধর্মীয় পরিচয়ের উপর ভিত্তি করেই চলছে। এর ফলে মুসলমান মানুষজনেরা রাষ্ট্রহীনতার এক চরম সংকটে পড়েছে, যেখানে তাদের নাগরিকত্বের ভাগ্য নির্ভর করছে রাজনৈতিক সুবিধার উপর, কোনও আইনি নীতির উপর নয়। একটা ‘দুই-স্তর বিশিষ্ট নাগরিকত্ব ব্যবস্থা’ তৈরি হচ্ছে, যা সংবিধানের মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থী, কিন্তু সেটাই তো আরএসএস, বিজেপির লক্ষ্য। এই ‘পুশব্যাক’-এর নির্মম বাস্তবতা শুধুমাত্র শারীরিক হয়রানি নয়, বরং মানুষের আত্মপরিচয় তার মর্যাদাকে চুরমার করে দেয়। ভাবুন না, একজন মানুষ, যিনি নিজেকে ভারতীয় হিসেবে জানেন, তাকে জোর করে অন্য এক দেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, বা তার সমস্ত অস্তিত্বকেই অস্বীকার করছে। একটা জলজ্যান্ত মানুষকে রাষ্ট্রহীন করে দেওয়া হচ্ছে, যারা নিজের দেশ, বিদেশের কাছেও ‘অবাঞ্ছিত’ হয়ে পড়ছে। অসমের ডিটেনশন সেন্টারগুলো হয়ে উঠেছে জীবন্ত সমাধিক্ষেত্র, যেখানে মানবাধিকার খুঁজলেও পাওয়া যাবে না। ঠিক এই মূহুর্তে অসমে ছ’টি ডিটেনশন সেন্টার আছে, যার সবকটাই কারাগারের ভিতরে। ফলে যাঁহা ‘ডিটেনশন সেন্টার’ তাঁহাই ‘জেল’-দুটোর মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। ঘোষিত ‘বিদেশি’দেরও সাধারণ অপরাধী বন্দিদের সঙ্গে একই জায়গায়, একই ভাবে রাখা হয়, যা চরম মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি করে। এই অমানবিক পরিবেশের সবচেয়ে মর্মান্তিক প্রমাণ হল, ডিটেনশন সেন্টারের মৃত্যু মিছিল। এখনও পর্যন্ত এই কেন্দ্রগুলোতে অন্তত ২৯ জন বন্দি মারা গিয়েছেন, যার মধ্যে একজন ৪৫ দিনের শিশু নজরুল ইসলামও ছিল। মৃত্যুগুলোর কারণ খুঁজলে দেখা যাবে, সবটাই সামান্য শারীরিক অসুস্থতা, বেশিরভাগটাই অসম্ভব মানসিক চাপ।

আপনি জানেন না আপনার ভবিষ্যৎ কী? আপনি জানেন না আপনার দেশ কোনটা? আপনি জানেন না আদৌ জেল থেকে বের হতে পারবেন কী না? আর সেই চাপে মারা গিয়েছেন, দুলাল চন্দ্র পাল এবং রতন চন্দ্র বিশ্বাস, যারা অসুস্থ অবস্থাতে জেলেই মারা গিয়েছেন। সেই তালিকায় আরও আছেন ভুলু সদাকার, আমির আলি, দুলাল মিয়া, প্রভা রায়, সন্তোষ বিশ্বাস, আব্দুল কুদ্দুস আলি, হুসেন আলি, কবুতর বাস্ফোর, আবু শহীদ, তাজিমুদ্দিন, রশিদ আলি, সুন্দর মনি রায়, সুব্রত দে, নগেন দাস, আরও অনেকে। নাম দেখেই নিশ্চই বুঝতে পারছেন যে, এরা সবাই মুসলমানও নন, অনেকেই হিন্দু। অসমের এই চলমান পরিস্থিতি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বাকস্বাধীনতার কণ্ঠরোধ, ভূমি অধিকারের উপর বিধিনিষেধ, নাগরিকত্বের সংকটে ধর্মীয় বিভাজন আর ডিটেনশন সেন্টারের অমানবিক পরিবেশ—এই সবকটাই এক অর্গানাইজড হিন্দুত্ববাদের চেহারা। তাদের মূল লক্ষ্য হল, এক নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্র ও সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং তাদের ‘অবৈধ’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা। আর সেক্ষেত্রে তাদের টার্গেট বাঙালি আর গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলা মানুষ। যখন বাকস্বাধীনতা, ভূমি অধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে ‘দেশদ্রোহিতা’র সঙ্গে তুলনা করা হয়, তখন তা কেবল এক গোষ্ঠীর জন্য বিভীষিকা নয়, বরং এর ফলে পুরো জাতির ওপর, দেশের উপর অনিবার্যভাবেই এক গভীর সংকট নেমে আসছে।

Read More

Latest News