কলকাতা: আনন্দপুর কাণ্ডের (Anandapur Incident) চার দিন পেরোলেও আতঙ্ক ও হাহাকার কাটেনি। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। পুলিশের খাতায় এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ২৮ জন। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হচ্ছে বলে মনে করছে প্রশাসন ও পরিবার-পরিজনেরা। ঘটনাস্থলে ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই প্রিয়জনের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন পরিজনেরা।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক বিজেপি নেতার। তবে তার আগেই প্রশাসনের তরফে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। বুধবার মধ্যরাত থেকেই আনন্দপুর ও সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (পূর্বতন আইপিসি ১৪৪) জারি করা হয়েছে। ফলে এলাকায় জমায়েত, মিছিল এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াতের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিউটাউনের হোটেলে সেলিম–হুমায়ুন বৈঠক, জোট নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। গড়িয়া শীতলামন্দির থেকে আনন্দপুর পর্যন্ত মিছিল করার অনুমতিও চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে আজ দুপুর ২টোর পর এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
রবিবার রাতেও আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ছিল ব্যস্ত কারখানা ও গুদাম এলাকা। প্রতিমুহূর্তে কর্মীদের আনাগোনা ছিল সেখানে। কিন্তু ভয়াবহ আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যে বদলে দিয়েছে সবকিছু। এখন সেখানে শুধু ধ্বংসস্তূপ, পোড়া গন্ধ আর নিখোঁজদের পরিবারের কান্না।
অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া ২১টি দেহাংশের পরিচয় নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার থেকেই DNA ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হতে পারে। প্রশাসনের মতে, নিহতদের সঠিক পরিচয় জানার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। DNA পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলেই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর বুধবার প্রথমবার মুখ খুলেছে ওয়াও মোমো সংস্থা। একটি সোশাল মিডিয়া বিবৃতিতে সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে, পাশের একটি গুদামে অননুমোদিতভাবে রান্না চলছিল। সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ওয়াও মোমোর গুদামে। সংস্থার দাবি, এই ঘটনায় তাদের দু’জন কর্মী এবং এক জন চুক্তিবদ্ধ নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যু হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের আজীবন মাসোহারা দেওয়া হবে এবং মৃতদের সন্তানদের শিক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে সংস্থা। তবে এই ঘটনায় নিরাপত্তা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে চাপানউতোর আরও বাড়ছে।







