কলকাতা: সোনার দামের (Gold Price) দৌড়ে রীতিমতো সিঁদুরে মেঘ দেখছে দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারের উত্তাপ আর ঘরোয়া চাহিদার জেরে প্রায় প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড গড়ছে হলুদ ধাতু। মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ— তবে কি চলতি বছরেই ১০ গ্রাম সোনার দাম ২ লক্ষ টাকার দিকে হাঁটছে (Gold Price Hike)?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। আমেরিকা ও ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা বাড়তেই বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ বাজার ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকেই ঝুঁকছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সোনার জোগান-চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট করছে। এর উপর ডলারের তুলনায় টাকার ক্রমাগত অবমূল্যায়ন দেশীয় বাজারে সোনার দামকে আরও চড়া করে তুলছে।
আরও পড়ুন: জোড়া পশ্চিমী ঝঞ্ঝায় দক্ষিণে শীতের বিদায়, দার্জিলিংয়ে তুষারপাতের পূর্বাভাস
চলতি সপ্তাহের শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বাজার খুলতেই মিলেছে নতুন চমক। ওই দিন ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৩৯৫ টাকা, অর্থাৎ ১০ গ্রাম সোনার দাম ছাড়ায় ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৩৫ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার দামও প্রতি গ্রামে ১৩ হাজার ৪১৪ টাকায় পৌঁছেছে। পিছিয়ে নেই রুপোও। বর্তমানে ১ কেজি রুপোর দাম ৪ হাজার ১০০ টাকা।এর সঙ্গে ৩ শতাংশ জিএসটি এবং মেকিং চার্জ যোগ হলে সাধারণ ক্রেতার পক্ষে সোনা কেনা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, স্বল্পমেয়াদে অর্থাৎ আগামী কয়েক মাসে ২ লক্ষ টাকা ছোঁয়া কঠিন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সেই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা মজুত বাড়ানো এবং ডলারের আধিপত্য কমার প্রবণতা ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়াতে পারে।
এদিকে বিয়ের মরশুম শুরু হওয়ায় ঘরোয়া বাজারে সোনার চাহিদা তুঙ্গে। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ— হুজুগে পড়ে একবারে বড় অঙ্কের সোনা না কিনে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের। গয়নার বদলে গোল্ড ইটিএফ বা ডিজিটাল গোল্ডে বিনিয়োগ এখন অনেকের কাছেই তুলনামূলক নিরাপদ ও লাভজনক বিকল্প হয়ে উঠছে।







