Friday, January 30, 2026
HomeScrollAajke | হিরো বন গয়া হুমায়ুন কবীর
Aajke

Aajke | হিরো বন গয়া হুমায়ুন কবীর

হুমায়ুন কবীরের পলিটিক্যাল কেরিয়ারটা দেখুন, ‘বাটি চচ্চড়ি’র মতো!

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

বহুদিন আগে সুব্রত মুখোপাধ্যায় আমাদের এক সিনিয়র সাংবাদিক দাদাকে বলেছিলেন, “বহুদিন হল গালাগালি দিচ্ছ না, লিখছ না, ব্যাপার কি? শরীর খারাপ?” সাংবাদিক দাদা জানিয়েছিলেন, “না তো শরীর তো ভালোই আছে।” তো সুব্রত বাবু বলেছিলেন, “তাহলে লেখ, গালাগালিই দাও, কাগজে থাকতে হবে ভাই, খারাপ হোক, ভালো হোক খবরের কাগজে প্রথম পাতায় নাম না থাকলে রাজনীতি করা যায় না।” আর সেই লাইন মেনে এই সময়ের সংবাদপত্রের হিরো হীরণ হলেন হুমায়ুন কবীর। ভাবা যায়, মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবীরের জন্য বেধড়ক গালাগালি খাচ্ছেন কমরেড সেলিম, সাস, মানে সাধারণ সম্পাদক, পবুস, মানে পলিটব্যুরো সদস্য সিপিএম। দলের ভেতরে, দলের বাইরে। কে এই খাঞ্জা খাঁ? আমরা আমাদের এই অনুষ্ঠানেই বলেছিলাম তৃণমূল দলের বোঝা এক অতি সাম্প্রদায়িক ধান্দাবাজ নেতা হলেই এই হুমায়ুন। পলিটিক্যাল কেরিয়ারটা দেখুন, বাটি চচ্চড়ির মতো।

২০১৩ পর্যন্ত কংগ্রেস করেছেন, অধীরের চামচা বলেই লোকজন চিনত। অধীরের অধীনে না থেকে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলার জন্যই ২০১৩-তে তৃণমূলে এলেন। ২০১৬ পর্যন্ত থাকলেন, তারপর টিকিট না পেয়ে নির্দল। তো কত বড় খাঞ্জা খাঁ? জেতেননি, হেরেছিলেন। ২০১৮, হাওয়া বুঝে চলে গেলেন বিজেপিতে, বিজেপিতে এক মুসলমান নেতা, তাও আবার মুর্শিদাবাদের মতো জায়গাতে, বিজেপিও লুফে নিল, গেরুয়া ঝান্ডা ধরে তিনি মুর্শিদাবাদে দাঁড়ালেন, লোকসভা নির্বাচনে ২০১৯-এ, হারলেন, কেবল হারলেন না তিন নম্বরে ছিলেন। এরপরে তিনি আবার কালীঘাটে এসে নাক রগড়ালেন, দিদিমণি আবার বিক্ষুব্ধ, বিদ্রোহীদের বেশি পছন্দ করেন, দলে নিলেন, টিকিট দিলেন, তৃণমূলের টিকিটে এই প্রথম তিনি এমএলএ হলেন। এবারে টিকিট পেতেন না, সেটা বুঝেই নিজের দল বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, খানিকটা চাপ দেবার চেষ্টা, কিন্তু দল পাত্তা দেয়নি, কাজেই জনতা উন্নয়ন পার্টি করলেন। এর আগে হিন্দুদের কেটে ভাগীরথীতে ভাসানোর কথা বলেছিলেন, এবারে বাবরি মসজিদ তৈরির কথা বললেন, প্রচুর টাকা ডোনেশনও পেলেন। কিন্তু এসব নাকি কমরেড মহম্মদ সাস, পব্যুস, সিপিএম জানতেন না, তাই জানার জন্য ঠিক বলা যাবে না, মন বোঝার জন্য সাস কমরেড সেলিম গেলেন নিউ টাউনের এক হোটেলে, যে হোটেলে সচরাচর বিজেপির বৈঠক ইত্যাদি হয়, এই অনুষ্ঠানেই আমরা বলেছিলাম যে, এই হোটেলে হুমায়ুন কবীরের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে, সেখানেই তাঁর মন বুঝতে গেলেন। অতএব খবর। কাগজের প্রথম পাতায় হুমায়ুন কবীর। সেটাই বিষয় আজকে, হিরো বন গয়া হুমায়ুন কবীর।

আরও পড়ুন: Aajke | রবি ঠাকুর সাহিত্যে নয়, শান্তিতে নোবেল পেলেন, বাঙালি বিরোধী বিজেপির নতুন আবিষ্কার

মহম্মদ সেলিম দেখা করলেন হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে, বলতেই পারেন চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে, আমরা ভেবে করবো কী? বলতেই পারেন। কিন্তু খেয়াল করে দেখুন ওইটুকু এক ঘন্টার দেখা সাক্ষাৎ, আলোচনা বা যাইহোক কিছুর জন্য সব্বাই রে রে করে কমরেড সেলিমের উপরেই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। কেন? সব্বার প্রায় একই বক্তব্য যে, কেবলমাত্র ওনার আসনটুকু, মান একটা আসন জেতার জন্য, শূণ্য থেকে একে ওঠার জন্যই নাকি সেলিমের এই বৈঠক, যদিও সেলিম সাহেব বলেছেন ইটিং ইস বিলিভিং, পুডিং খেয়েই তো তার টেস্ট বুঝতে পারা যায়? তো উনি ওই এমআইএম-এর আসাউদ্দিন ওয়েইসির পুডিংটা কবে চাখবেন? আর যদি চাখতেই হয়, তাহলে শিব্রামের ভাষায় শ্রেষ্ঠটাকে চাখা ভালো, তিনি জ্যেষ্ঠও হতে পারেন। শুভেন্দু অধিকারীই বা কী দোষ করল? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? চাখার কি আর শেষ আছে? তারপর বললেন, মাইরি বলছি নিজে কানে শুনেছি, প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না, তারপরে আবার শুনলাম, কমরেড সেলিম বলছেন, তোমরা ওই একটা চোখ মারার ঘটনাই শুধু দেখলে? তার মানে শুধু মন বোঝা নয়, চোখ মারার ঘটনাও আছে? আসলে সাস কমরেড সেলিমের আর দোষ কোথায় বলুন, সেই কবে ২০১৪ থেকে ২০১৯, রায়গঞ্জের এমপি, পেলেনে যাওয়া আসা, দিল্লিতে কত বৈঠক, সেসব তো বাংলা মিডিয়ার রাডারের বাইরেই হত। ২০১৯ থেকে উনি না এমএলএ, না এমপি। কাজেই বৈঠক করে মন বোঝার চেষ্টা তো জায়জ। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, কমরেড মহম্মদ সেলিম মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে দেখা করে মন বুঝতে গিয়েছিলেন, আপনারা কী মনে করেন, বাম দলগুলো হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোট করলে তাদের শূণ্যের গেরো কাটবে?

আমার আপত্তি যাঁর সঙ্গে বৈঠক হল, সেই হুমায়ুন কবীরকে কিন্তু কেউ কোনও কথা বলছে না, একটা কথাও না। কেন? কারণ উনি তো ঐরকমই, হুমায়ুন কবীর বিজেপিতে গিয়েছিল, বিজেপি তাঁকে সাদরে বরণ করেছিল, কেউ বিজেপিকে কিছু বলছে না, কারণ বিজেপি তো বহু চোর ডাকাতকে দলে নেয়। বিজেপি থেকে ফিরতেই তৃণমূল হুমায়ুন কবীরকে দলে নিয়ে এমএলএ করেছিল, মন্ত্রীও করেছিল, কেউ তৃণমূলকে কিছু বলছে না। কারণ তৃণমূলে বহু নেতা দল বদল করে এসেছেন গিয়েছেন, একজন নয় অনেকে। কিন্তু মহম্মদ সেলিমকে বলছেন, সাধারণ মানুষও বলছে, শেষ পর্যন্ত মহম্মদ সেলিম? কারণ মানুষ এখনও কোথাও একটা বামেদের অন্য চোখে দেখে। আর ঠিক এই জায়গটাতেই বিষয়টা স্পষ্ট করে দিয়েছেন কমরেড শতরূপ ঘোষ, তিনিও হেরেছেন, একবার নয়, বার তিনেক, তো হেরো শতরূপ বলেছেন যে নীতি নৈতিকতার দায় কি কেবল সিপিএম-এর? ওসব চলবে না, একবার বৈঠক হয়েছে, আবার হবে, সব্বাই যে যার মত নোংরামি করবে, আমরা বসে থাকব নাকি? শব্দগুলো ঠিক এটা না হলেও এটাই বোঝাতে চেয়েছেন। মানে এবারে কমিউনিস্ট পার্টিও নীতি নৈতিকতা ছেড়ে দিয়েই রাজনীতি করবে, করছিল না তা নয়, এবারে ঘোষণা করে জানিয়ে দিল, বেশ করব, এক সাম্প্রদায়িক নেতার সঙ্গে বৈঠক একবার নয় দশবার করব। জিও কচিনেতা শতরূপ।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News