কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা উসকে দিল নিউটাউনের (Newtown) একটি হোটেলে সিপিএমের (CPIM) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Muhammed Salim) ও মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের (Humayun Kabir) বৈঠক। বুধবার রাতে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে দু’জনের মধ্যে আলোচনা হলেও, জোট করে ভোটে লড়াইয়ের কোনও কথা হয়নি বলে স্পষ্ট দাবি করেছেন সেলিম। যদিও হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য, বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচন নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে এবং পরে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করে রাজ্য রাজনীতিতে চমক দিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা হুমায়ুন কবির। সেই নেতার সঙ্গেই বৈঠক করায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বৈঠক শেষে সেলিম বলেন, “হুমায়ুন বহুদিন ধরেই নানাভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর বক্তব্য শুনতে এবং তাঁকে বুঝতেই এখানে আসা। এটা কোনও জোট-বৈঠক নয়।”
আরও পড়ুন: নাজিরাবাদ কাণ্ডে উদ্ধার ২১টি দেহাংশ, পরিচয় নিশ্চিত করতে শুরু হচ্ছে DNA ম্যাপিং
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একত্রিত করার বার্তা দীর্ঘদিন ধরেই দিয়ে আসছে সিপিএম। সেলিম আগেই জানিয়েছেন, বামফ্রন্টের বাইরে থাকা দল ও ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত। অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যাঁরা আগ্রহী, তাঁদের সকলকেই ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়েছে দল।
এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক জোট-বৈঠক হয়নি আলিমুদ্দিনের। উপরন্তু, সাম্প্রতিক সময়ে কংগ্রেস নিয়ে সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্যেও কিছুটা কড়া সুর শোনা গিয়েছে। ফলে কংগ্রেসের আগে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সেলিমের বৈঠক রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে হুমায়ুন কবিরের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের সঙ্গে সিপিএমের আদর্শগত ফারাকও স্পষ্ট। ধর্মীয় ইস্যুতে হুমায়ুনের একাধিক মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, যেখানে সিপিএম বরাবরই ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানে অনড়। সেই কারণেই জোট প্রসঙ্গে সেলিমের স্পষ্ট বার্তা, “জোট নিয়ে আলোচনা হলে তা আলিমুদ্দিনেই হত, কোনও হোটেলে নয়।”
সেলিম যতই জোটের সম্ভাবনা অস্বীকার করুন না কেন, এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। নওশাদ সিদ্দিকী-সহ একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে আগেও কথা বলেছে সিপিএম। ফলে বিধানসভা ভোটের আগে এই বৈঠক বঙ্গ রাজনীতির কোনও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর।







