Tuesday, January 13, 2026
HomeScrollমহারাষ্ট্র থেকে পরিযায়ী বিজেপি কর্মীদের ফিরিয়ে, সুকান্তকে তোপ অভিষেকের
Abhishek Banerjee

মহারাষ্ট্র থেকে পরিযায়ী বিজেপি কর্মীদের ফিরিয়ে, সুকান্তকে তোপ অভিষেকের

BJP সাংসদের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক

ওয়েব ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে ধৃত পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। কথা দিয়েছিলেন বাড়ি গিয়ে দেখা করে আসব। কথা রাখলেন অভিষেক। মহারাষ্ট্রে জেল থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। ভিন রাজ্যে গিয়ে বাংলা বলায় জেল খাটতে হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের দুই পরিযায়ী শ্রমিককে। তাঁদের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, BJP সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সাহায্য মেলেনি। সেই প্রসঙ্গেই BJP সাংসদের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। বিজেপিকে তোপ দেগে তিনি বলেন, “কারও চোখের জল বিফলে যাবে না।”সেখান থেকেই তিনি আক্রমণ শানালেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে (Sukanta Majumdar)

দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের অসিত সরকার এবং গৌতম বর্মন প্রায় এক বছর পর বাড়ি ফিরেছেন। শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার জন্য তাঁদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে মহারাষ্ট্রে জেলবন্দি করে হেনস্থা করা হয়। ভিন রাজ্যে গিয়ে বাংলা বলায় জেল খাটতে হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের দুই পরিযায়ী শ্রমিককে। বুধবার প্রায় কুড়ি মিনিট দুই পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয় তাঁর। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা অভিষেকের কাছে বলেন তাঁরা। অভিজ্ঞতার কথা শুনে কার্যত শিউরে ওঠেন অভিষেক। তাঁদের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, BJP সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সাহায্য মেলেনি। মহারাষ্ট্রে ধৃত আরেক পরিযায়ী শ্রমিক গৌতম বলেন, ”মহারাষ্ট্রতে কাজ করতে যাই। আমাদের জোর করে আটকে রাখা হয়। আমি পুলক চক্রবর্তীকে বার করতে বলি। সুকান্ত মজুমদারের কাছে আমার স্ত্রী যায়। আমার স্ত্রীকে বলেন, জেলে গেছে, এমনি চলে আসবে।”দুই পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকার ও গৌতম বর্মণকে পাশে দাঁড় করিয়ে, সরাসরি সুকান্ত মজুমদারকে বিঁধলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

অভিষেক বলেন, “সুকান্ত মজুমদারের দায়িত্ব নয় যে আমার এলাকা থেকে যদি কেউ সমস্যায় পড়েন তাঁর পাশে দাঁড়ানো। আপনি তৃণমূলকে গালাগালি দিতে তো পিছপা হন না। সকাল থেকে রাত অবধি তৃণমূলকে গালাগাল দিচ্ছেন। দিল্লির জমিদারদের কাছে নিজের নম্বর বাড়াতে। আপনি বাংলার মানুষকে গালাগাল দিয়ে আপনার নম্বর বাড়ান। আমরা মানুষের কাজ করে বাংলার মানুষের চোখে আমাদের নম্বর বাড়াই। পার্থক্যটা তো এখানেই। যারা আপনাকে জিতিয়েছেন আপনার কর্তব্য নেই ? আপনার দায়িত্ব নেই ? অভিযোগ, অসহায় মানুষদের কাছ থেকে জেল থেকে মুক্তির বিনিময়ে দেড় লক্ষ টাকাও চাওয়া হয়। শেষমেশ তৃণমূল নেতৃত্বের সহযোগিতায় বাড়ি ফেরেন দু’জনে। অভিষেক বলেন, “কীভাবে তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। তা আপনারা জানেন। কোনো কথা না শুনে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের যতটুকু সামর্থ্য হয়েছে চেষ্টা করেছিলাম। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় সাড়ে ৩-৪ মাস পর। তারপরেও কয়েক মাস কেটে যায়। ডিসেম্বরের শেষে দেখা হয়। বলেছিলাম ফিরে যান। বাড়ি গিয়ে দেখা করে আসব।”

আমরা প্রথম দিনেই তো আপনাদের বলতে পারতাম। আমরা আগে এনেছি। আমরা করে তারপর কথা বলি। আমরা ওদের মতো নই যে, আমাদের সুযোগ দাও আমরা করে দেখাব। আমরা করে দেখাই তারপর সুযোগ চাই। আজ যেভাবে বিভাজনের রাজনীতি, বৈষম্যের রাজনীতি-বিচ্ছিন্নতাবাদের রাজনীতি করে বাংলাকে অশান্ত করা হচ্ছে। বাংলার জন্য নিয়ম আলাদা। গুজরাতের জন্য নিয়ম আলাদা। উত্তরপ্রদেশের জন্য নিয়ম আলাদা, বাংলার জন্য নিয়ম আলাদা। ১১ বছর তো বিজেপি সরকার ক্ষমতায়। ক’পয়সা নিয়ে এসেছেন ? একটা খালি ট্রেনের স্টপেজ করে দিচ্ছে। আর চারটি করে চিঠি রিলিজ করছেন। আপনাকে মানুষ নির্বাচিত করেছেন ট্রেনের স্টপেজ করার জন্য ? আপনি কি স্টপেজ মিনিস্টার ? সুকান্ত মজুমদার আপনাদের বলেছেন প্রাক্তন বুথ সভাপতি। তার মানে তাঁর কোনও দায়িত্ব নেই ? মানে, বুথ সভাপতি হলে করব। নাহলে, করব না ! ১৩৪৩ বুথ সভাপতি। এই ১৩৪৩ বুথ সভাপতির বাইরে আর কারো প্রতি দায়বদ্ধতা নেই সাংসদ হিসাবে ? এই অহঙ্কারের কারণেই উনি প্রাক্তন হবেন।

Read More

Latest News