কলকাতা: প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট ট্রেড ইউনিয়ন ব্যক্তিত্ব, বীমাকর্মী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা এবং সারা ভারত বীমা কর্মচারী সমিতির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি ও সম্পাদক কমরেড চন্দ্রশেখর বসু (Chandra Sekhar Basu)। শুক্রবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ বিধাননগরের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর। চন্দ্রশেখর বসুর প্রয়াণে বামপন্থী আন্দোলন ও সংগঠিত শ্রমিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুর সময়ে তিনিই ছিলেন সিপিএম-এর প্রবীণতম পার্টি সদস্য। তাঁর পরিবারে রয়েছেন পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতি। প্রবীণ এই নেতার জীবনাবসানে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। শোকবার্তায় তাঁরা বলেন, চন্দ্রশেখর বসু ছিলেন আদর্শবাদী কমিউনিস্ট নেতা ও আপসহীন শ্রমিক আন্দোলনের প্রতীক। সারা ভারত বীমা কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মিশ্রও তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।
আরও পড়ুন: বন্ধ বেলঘরিয়া ব্রিজ, শনিবার থেকে কোন পথে চলবে গাড়ি?
চন্দ্রশেখর বসুর জন্ম ও প্রাথমিক শিক্ষা অধুনা বাংলাদেশের যশোরে। পরবর্তীতে তিনি কলকাতায় এসে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৪৪ সালে তিনি হিন্দুস্তান ইনসিওরেন্স সংস্থায় কর্মজীবন শুরু করেন। সেই একই বছরে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ গ্রহণ করেন, যা তিনি আমৃত্যু বহাল রেখেছিলেন।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বীমা কর্মচারীদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন চন্দ্রশেখর বসু। সংগঠন, শৃঙ্খলা ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। সহকর্মী ও অনুজ নেতাদের কাছে তিনি ছিলেন এক জীবন্ত প্রেরণা। তাঁর প্রয়াণে একটি যুগের অবসান ঘটল বলেই মনে করছেন বাম আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ।







