কলকাতা: আনন্দপুর কাণ্ডের (Anandapur Fire) পর চারদিন পেরিয়ে এখনও চারপাশ জুড়ে শুধুই স্বজন হারানো হাহাকার। ঘটনা এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা গিয়ে ২৩। পাশাপাশি পুলিশের খাতায় এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ২৮ জন। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই নিখোঁজদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হচ্ছে। বুধবার ১৬ জনের ময়নাতদন্ত হয়েছে, এবং আজ আরও পাঁচজনের ময়নাতদন্ত করা হল। মোট ২১ জনেরই ময়নাতদন্ত কার হয়েছে। এই ২১ জনের থেকে দুটো করে DNA স্যাম্পেল পাঠানো হয়েছে ফরেনসিক সাইন্স ল্যাবটারিতে।মোমো সংস্থার সূত্রে জানা যাচ্ছে, তারা মৃতদের পরিবারদের ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। তার পাশাপাশি আজীবন বেতন দেওয়ার কথা বলেন। তাছাড়া পড়াশোনার খরচও বহন করবেন তারা।
আনন্দপুরের ঘটনাস্থলে জারি করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা। এই মর্মে ঘটনাস্থলে লাগানো হয়েছে নোটিস। এলাকায় রয়েছে পুলিশ। জমায়েত করতে দিচ্ছে না। দুটি স্তরে ব্যারিকেড করে ঘিরে রাখা হয়েছে ঘটনাস্থল। ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়েছে হাইড্রা। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া দেহাংশ কাদের, সেই পরিচয় নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার ডিএনএ ম্যাপিং শুরু হতে পারে। কড়া নিরাপত্তায় এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ভস্মীভূত প্লাস্টিক ফুলের গুদামের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া টিনের শেড উপড়ে ফেলে নিখোঁজদের দেহাংশ খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ১৩ জনের দেহ মিলেছে। নিহতদের চিহ্নিত করার জন্য শুরু হতে পারে ডিএনএ ম্যাপিং। নিহতদের সঠিক পরিচয় নির্ধারণে এই প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।আর সেই কাজ সম্পন্ন হলেই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে খবর।
আরও পড়ুন: পর্যবেক্ষক ইস্যুতে কমিশনকে বিকল্প নাম পাঠাল রাজ্য!
এই অগ্নিকাণ্ডের প্রশ্নে মুখে ওয়াও মোমো। ঘটনার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর বুধবার এই বিষয়ে সংস্থার তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সোশাল মিডিয়া পোস্টে সংস্থার তরফে দায় চাপানো হয়েছে পাশের গুদামের উপর। বলা হয়েছে, পাশের গুদামে অননুমোদিতভাবে রান্না চলছিল গুদামে। সেখান থেকেই আগুন লাগে। যা ছড়িয়ে যায় ওয়াও গুদামে।মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া আজীবন মৃতদের পরিবারের সদস্যরা মাসোহারা পাবেন। মৃতদের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব সংস্থা নেবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।







