কলকাতা: রাত পোহালেই মকর সংক্রান্তি (Makar Sankranti)। পুণ্যস্নানের মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই ভিড় বাড়তে শুরু করেছে সাগরদ্বীপে। লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীর নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে গঙ্গাসাগর (Gangasagar Mela 2026) যাওয়ার জাতীয় সড়কের পাশে হকার বসানো, পার্কিং ও অটো স্ট্যান্ডের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করল পুলিশ ও জেলা প্রশাসন। গঙ্গাসাগর মেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কের যে সব জায়গায় আগে হকার বসত বা বেআইনি পার্কিং ও অটো স্ট্যান্ড ছিল, সেগুলি ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানে অংশ নিতে আসা তীর্থযাত্রীদের যাতে কোনও ভাবেই যানজটে পড়তে না হয়, সেই কারণেই জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণ দখলমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: এবার আরও রঙিন গঙ্গাসাগর! শুরু সাগর আরতি ও সংকীর্তন, শীতে ভিড় পুণ্যার্থীদের
১২ জানুয়ারি থেকেই গঙ্গাসাগর মেলায় ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তবে রাজ্য সরকারের অনুমান, মঙ্গলবার থেকেই ভিড় কয়েক গুণ বাড়বে। বুধবার মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে সাগরদ্বীপে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, এই বিপুল জনস্রোতের বড় অংশই সড়কপথে জাতীয় সড়ক ধরে সাগরদ্বীপে পৌঁছন। ধর্মতলা থেকে বাসে কাকদ্বীপের লট নম্বর আট, সেখান থেকে ভেসেলে কচুবেড়িয়া এবং পরে আবার বাসে করে মেলাপ্রাঙ্গণে পৌঁছন তীর্থযাত্রীরা।
নিরাপত্তা ও সুবিধার স্বার্থে জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। যেখানে স্থায়ী স্ট্রিট লাইট নেই, সেখানে অস্থায়ী আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। উস্তি রোড, খড়িবেড়িয়া থেকে বিষ্ণুপুর থানা, শিরাকল থেকে কপাটহাট, ফলতা এলাকা এবং বঙ্গনগরে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত আলো। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তৈরি হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। পৈলান থেকে হটুগঞ্জ পর্যন্ত বসানো হয়েছে ২২টি অস্থায়ী পুলিশ বুথ।
এছাড়া আমতলা, খড়িবেড়িয়া ও নেতড়া মোড়ে যানজট এড়াতে বাড়তি নজরদারি থাকবে। গোটা রাস্তাজুড়ে রাখা হয়েছে সাতটি ব্রেকডাউন ভ্যান। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০০ প্রশিক্ষিত পুলিশকর্মী, হোমগার্ড ও সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন থাকবেন। প্রশাসনের দাবি, সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ—পুণ্যার্থীদের নির্বিঘ্ন যাত্রাই এখন একমাত্র লক্ষ্য।







