ওয়েব ডেস্ক: নতুন বছর শুরু হতেই তীব্র অস্থিরতায় কাঁপছে পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) দেশ ইরান (Iran)। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) বিরুদ্ধে গত এক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নিরাপত্তাকর্মীও রয়েছেন। আহত কমপক্ষে ২০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু হয়েছে ধরপাকড়, গ্রেফতার করা হয়েছে অন্তত ৩০ জনকে।
সংবাদসংস্থা এপি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, বিক্ষোভের সূত্রপাত ২৭ ডিসেম্বর। প্রথমে তেহরানের দোকানিরা মুদ্রাস্ফীতি ও লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন। ধীরে ধীরে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। লোর্ডেগান, কুহদাশত, ইসফাহান, কেরমানশাহ, খুজেস্তান ও হামেদান প্রদেশে বিক্ষোভ তীব্র আকার নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও রাস্তায় নেমে ‘স্বৈরশাসন নিপাত যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
আরও পড়ুন: ভয়ে কাঁটা পাকিস্তান! ইজরায়েল থেকে ভয়ঙ্কর ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত
পরিস্থিতি আরও চাঞ্চল্যকর হয়ে ওঠে, যখন ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহ মহম্মদ রেজ়া পাহলভির পুত্র রেজ়া পাহলভির সমর্থনে স্লোগান ওঠে ‘শাহ দীর্ঘজীবী হোন’। মার্কিন মুলুকে নির্বাসিত রেজ়া পাহলভিও সমাজমাধ্যমে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার থাকলে ইরানের অর্থনৈতিক সঙ্কট আরও গভীর হবে।
গত এক সপ্তাহে একাধিক জায়গায় সংঘর্ষ হয়েছে। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, বুধবার দু’জন ও বৃহস্পতিবার পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। লোর্ডেগানে প্রশাসনিক ভবনে পাথর ছোড়া হয়েছে, বাজার বন্ধ, রাস্তায় রাস্তায় আগুন জ্বালানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধজনিত চাপ এবং ভয়াবহ মূল্যবৃদ্ধিই এই ক্ষোভের মূল কারণ। ডিসেম্বরে ইরানের মুদ্রাস্ফীতি ৪২.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ১ ডলারের দাম প্রায় ১৪ লক্ষ রিয়াল। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের দাবির ‘বৈধতা’ মেনে আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও স্বীকার করেছেন, রিয়ালের অবমূল্যায়ন ঠেকানো এই মুহূর্তে তাঁর পক্ষে কঠিন। তবে অশান্তির সুযোগে বিশৃঙ্খলা না ছড়ানোর বার্তাও দিয়েছেন তিনি।







