Monday, September 1, 2025
HomeScrollনারী নিরাপত্তায় প্রশ্নের মুখে কলকাতা, এনসিডব্লিউ রিপোর্টে উদ্বেগ

নারী নিরাপত্তায় প্রশ্নের মুখে কলকাতা, এনসিডব্লিউ রিপোর্টে উদ্বেগ

কলকাতা মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়?

কলকাতা: ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কলকাতায় দুটি বড় গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে (Women Safety in Kolkata)। এর মধ্যে একটিতে প্রাণ হারিয়েছেন নির্যাতিতা। এই ঘটনাগুলি মহানগরে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। সেই প্রেক্ষিতেই সম্প্রতি প্রকাশিত এক সমীক্ষায় কলকাতাকে দেশের অনিরাপদ শহরগুলির তালিকায় রাখা হয়েছে (Crime Against Women)।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয় ন্যাশনাল অ্যানুয়াল রিপোর্ট অ্যান্ড ইনডেক্স অন উইমেন’স সেফটি ২০২৫। সেখানে দেখা গেছে, কোহিমা, বিশাখাপত্তনম, ভুবনেশ্বর, আইজল, গ্যাংটক, ইটানগর ও মুম্বই সবচেয়ে নিরাপদ শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে। অপরদিকে পটনা, জয়পুর, ফারিদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, শ্রীনগর ও রাঁচি অনিরাপদ শহরের তালিকায় রয়েছে।

আরও খবর: মন্দিরের সেবায়েতকে পিটিয়ে খুন, দিল্লি থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত

সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)। কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহতকর জানিয়েছেন, ৩১টি শহরে মোট ১২,৭৭০ জন নারীকে নিয়ে এই সমীক্ষা চালানো হয়। নিরাপত্তা সূচকে ৬৫ শতাংশের বেশি স্কোর করা শহরকে “ভাল”, আর এর নিচের শহরকে “দুর্বল” রেটিং দেওয়া হয়েছে।

কলকাতার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। সমীক্ষায় দেখা গেছে, শহরের প্রতি ছ’জনের মধ্যে চারজন নারী রাতে বাইরে নিজেদের অনিরাপদ মনে করেন। গত এক বছরে ৭ শতাংশ নারী প্রকাশ্যে হয়রানির শিকার হয়েছেন।  ২৪ বছরের কম বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রে হার প্রায় ১৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি হয়রানি ঘটছে পাড়া-মহল্লায় (৩৮ শতাংশ) এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্টে (২৯ শতাংশ)। এর মধ্যেও মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ঘটনারই পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়।

অন্যদিকে, সমীক্ষায় উঠে এসেছে পুলিশের প্রতি আস্থাহীনতার বিষয়ও মাত্র ২৫ শতাংশ নারী মনে করেন প্রশাসন তাঁদের পাশে দাঁড়ায়। বিজয়া রাহতকর বলেন, নারী নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এর প্রভাব শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান থেকে ডিজিটাল উপস্থিতি পর্যন্ত বিস্তৃত।

তবে বিশিষ্টজনেদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আইনজীবী কৌশিক গুপ্ত এই রিপোর্ট মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, কলকাতা তুলনামূলকভাবে অন্যান্য রাজ্যের চেয়ে অনেক নিরাপদ। কিন্তু প্রাক্তন এডিজি নজরুল ইসলাম এই রিপোর্টকে যথার্থ বলেছেন। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে পরিস্থিতি গুরুতর।

রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, “শহরে নারীরা আগের চেয়ে বেশি প্রতিবাদ করছেন— এটাও ইতিবাচক দিক। তবে অপরাধের একটি ঘটনাও ঘটুক, তা কাম্য নয়। নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সরকার নয়, সমাজ ও নারীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News