কলকাতা: আনন্দপুরের (Anandapur) মোমো কারখানা ও গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Fire Breakout) ঘটনায় তদন্তে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে মোমো সংস্থার দুই আধিকারিককে। ধৃতরা হলেন সংস্থার ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী। নরেন্দ্রপুর থানার (Narendrapur Poice Station) পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকেই তাঁদের গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। ধারাবাহিক জেরার জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে তদন্তকারী সংস্থা। অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দায়িত্ব বণ্টন এবং ঘটনার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন—এই সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এই গ্রেপ্তার বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জোড়া পশ্চিমী ঝঞ্ঝায় দক্ষিণে শীতের বিদায়, দার্জিলিংয়ে তুষারপাতের পূর্বাভাস
উল্লেখ্য, রবিবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুরের এলাচি এলাকা থেকে ডেকরেটর কারখানা ও সংশ্লিষ্ট জায়গার মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। বুধবার তাঁকে বারুইপুর আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ফের আদালতে তোলা হবে। এর মধ্যেই পুলিশ তাঁকে জেরা করে কারখানা ও গুদামের পরিচালনা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অগ্নিকাণ্ডের রাতে কারখানা ও গুদামের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে। আগুন লাগার পর ভিতরে থাকা শ্রমিকরা বেরিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও দরজা বন্ধ থাকায় তাঁরা আটকে পড়েন এবং প্রাণ হারান। এমনকি কয়েকজন শ্রমিক আগুন লাগার পর পরিবারের সদস্যদের ফোন করে নিজেদের মৃত্যুর আশঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এই ঘটনার পর নাজিরাবাদের ঘটনাস্থলে বুধবার রাত থেকেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে, যা আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। কেন শ্রমিকদের ভিতরে রেখে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করা হয়েছিল, সেই অমানবিক সিদ্ধান্ত কে বা কারা নিয়েছিল—এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন ধৃত আধিকারিকদের জোরদার জেরা চালাতে প্রস্তুত পুলিশ।







