কলকাতা: আইপ্যাক (I-PAC) অফিস ও সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়িতে ইডি (ED) হানাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে আইপ্যাক অফিসে পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ইডি-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন মমতা। পাল্টা, গোটা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত ও কড়া বিবৃতি দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
ইডি স্পষ্ট জানিয়েছে, কলকাতার আইপ্যাক অফিসে তল্লাশি বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তদন্তেরই অংশ। এই অভিযানের সঙ্গে কোনও রাজনীতি বা নির্বাচন সংক্রান্ত যোগ নেই বলে দাবি কেন্দ্রীয় এজেন্সির। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চলছে—এর মধ্যে ৬টি পশ্চিমবঙ্গে ও ৪টি দিল্লিতে। এই তল্লাশি নগদ অর্থ সংগ্রহ, হাওয়ালা লেনদেন ও আর্থিক কারচুপির সূত্র খুঁজতেই চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে মুখ্যমন্ত্রী
On WB CM Mamata Banerjee’s statement on the ED raids at the IPAC office in Kolkata, ED says, “The search is evidence-based and is not targeted at any political establishment. The search is ongoing at 10 places (6 in West Bengal and 4 in Delhi). The case relates to illegal coal… pic.twitter.com/ffEuSXBHSC
— ANI (@ANI) January 8, 2026

তবে বিবৃতিতে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ইডি-র দাবি, তল্লাশির সময় প্রথমে দক্ষিণ কলকাতার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসি এসে আধিকারিকদের পরিচয় যাচাই করেন। পরে কলকাতার পুলিশ কমিশনারও সেখানে পৌঁছন। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পৌঁছনোর আগ পর্যন্ত তল্লাশি শান্তিপূর্ণ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গেই চলছিল বলে দাবি ইডি-র।
ইডি-র অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু পুলিশ আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢোকেন এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জোরপূর্বক সরিয়ে নিয়ে যান। পরে তাঁর কনভয় আইপ্যাক অফিসে যায়। সেখান থেকেও মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সহযোগীরা, রাজ্য পুলিশের সহায়তায়, উদ্ধার হওয়া নথি ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা দাবি, ইডি তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নথি, হার্ডডিস্ক ও আর্থিক কাগজপত্র ‘লুঠ’ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এই পরস্পরবিরোধী অভিযোগে আইপ্যাক তল্লাশি ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতি কার্যত উত্তাল।







