কলকাতা: গত সপ্তাহে কলকাতায় মেট্রো প্রকল্পের উদ্বোধনে এসে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বিঁধতে গিয়ে মোদির বক্তব্যে একাধিকবার ‘চুরি’, ‘চোর’ শব্দগুলি শোনা গিয়েছিল। মঙ্গলবার তাঁর সেসব ‘বিশেষণ’ নিয়ে কড়া নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বর্ধমানের প্রশাসনিক সভা মমতার তাঁর প্রশ্ন, ”আপনার চেয়ারকে সম্মান করি, কিন্তু প্রশ্ন করতেই হবে, বাংলাকে চোর কেন বললেন প্রধানমন্ত্রী?” মমতার পালটা জবাব, ”আপনাদের ডবল ইঞ্জিন সরকার – উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র সবচেয়ে বড় চোর। আপনি চোর সর্দারদের নিয়ে মিটিং করেন।”
বাংলায় আবাস যোজনায় দুর্নীতি, রাজ্যে অবৈধ খনি, বালি চুরি সহ একাধিক বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে এসেছিল কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। মমতার অভিযোগ, একাধিক একশো দিনের কাজ, আবাস-সহ একাধিক প্রকল্পে টাকা আটকে দিয়েছে কেন্দ্র। শুক্রবার কলকাতায় মেট্রো উদ্বোধনে এসে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর ভাষণে বাংলার দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। বঞ্চনার জবাবে বারবার চুরির অভিযোগকে হাতিয়ার করে কেন্দ্র। মঙ্গলবার বর্ধমানে প্রশাসনিক কর্মসূচি থেকে তিনি বললেন, ”বাংলাকে চোর কেন বললেন? চোর আপনাদের ডবল ইঞ্জিন সরকার। আর আপনারা ভোটের সময় পরিযায়ীর মতো আসেন বাংলায়। এসে চোর সর্দারদের সঙ্গে মিটিং করেন।” তিনি আরও বলেন,সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরও নম্বর কাটা হচ্ছে। বাংলাকে চোর বলা হচ্ছে। অথচ চোরদের, গদ্দারদের সঙ্গেই মিটিং চলছে। লজ্জা করে না! ‘‘লজ্জা, ঘৃণা, ভয়—এই তিন থাকতে নেই। একটা কান কাটা থাকলে আর একটা কান কাটার ভয় থাকে। ওদের দু’টো কানই কাটা! তাই আর ভয় কীসের?’
আরও পড়ুন: বিজেপির ললিপপ, কমিশনকে তোপ মমতার, দেখুন এই ভিডিও
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোট এসেছে তাই আসছেন। আমি চাই ৩৬৫ দিন আসুন। আপনার সব তো ফ্রি, আমি কোনও পয়সা নেই না। আমি টাকা চাই না, আমি মেধা চাই, বাংলার মায়ের সন্মানে আঘাত লাগলে আমার উপর আঘাত লাগে। আমার উপর যতই আঘাত করুন আমি লড়ে যাব। আমার বুঁকের পাটা আছে। এটা আমার জমি। আমাকে ভয় দেখানো যাবে না“। বাংলা মায়ের সম্মানে আঘাত করলে আমার গায়ে লাগে। বাংলার অপমান আমি বরদাস্ত করব না।
মমতা বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় আপনারা বাংলা, পঞ্জাব ভাগ করেছিলেন। পঞ্জাবেরও একটা দিকে পাকিস্তান আছে, তো কই সেটা তো বল না। আমাদের পাশে বাংলাদেশ আছে। এটা তো তোমরা করেছ। বাংলা ভাষা দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা। অন্যান্য ভাষাকে আমরা সম্মান করি। তো বাংলা ভাষা বলব না কেন? ওরা বাংলাকে সহ্য করতেই পারে না। বাংলা দেখলে ওরা জ্বলে।” বাংলার ছাত্র ছাত্রীদের মেধার শিক্ষক ও গবেষকদের মেধাকে গোটা বিশ্ব সম্মান করে। বাংলার অবদানের কথা ভুলবেন না। বাবাসাহেব আম্বেদকর সর্বপ্রথম এই বাংলা থেকেই সাংসদ হয়ে পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন। সারে জাঁহা সে আচ্ছা’র লেখক ইকবাল বাংলায় জন্মেছেন। বাংলায় শ্রমিকরা ভালো কাজ জানেন। সেইজন্য তাদের কাজ দেখে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দয়া করে নিয়ে যায়নি, দক্ষতা বিচার করেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে নিয়ে গিয়ে চলছে অত্যাতাচার।
দেখুন ভিডিও