ওয়েব ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচন (WB Assembly Election 2026) যত এগিয়ে আসছে সিঙ্গুর নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। ২০১১-এর বিধানসভা ভোটে রাজ্য রাজনীতির পট পরিবর্তনে বড় ভূমিকা নিয়েছিল সিঙ্গুর।সিঙ্গুরকে কেন্দ্র করে লড়াই চলেছিল সিপিএম বনাম তৃণমূল কংগ্রেসের। বামেদের ৩৪ বছরের গদি টলিয়ে দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Singur)। বিধানসভা নির্বাচনে দু’দশক আগের সেই সিঙ্গুর উত্তাপ ফের সরগরম। সিঙ্গুরে ফের শিল্প ফেরাতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। ১০ দিন আগে এই সিঙ্গুরের ‘টাটার মাঠে’ সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ সিঙ্গুরের বারুইপাড়া পলতাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রখালি এলাকায় সভা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর থেকেই শিল্পের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন, কৃষিজমি দখল নয়, কৃষির সঙ্গে সহাবস্থান করেই শিল্প, এই নীতিতেই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।’অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সিঙ্গুরে হবে’, বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সিঙ্গুরে আজও মানুষ মাসে টাকা পায়…যারা জমি হারিয়েছিলেন। সম্পূর্ণ খাদ্যসাথী পায়, স্বাস্থ্যসাথী পায়, উন্নয়ন পায়। ট্রমা কেয়ার সেন্টার থেকে শুরু করে কৃষিবাজার, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সবকিছুই আছে। তা সত্ত্বেও কর্মসসংস্থানের লক্ষ্যে এখানে ৮ একর জমির উপর ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে সিঙ্গুর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। ২৮টি প্লটের মধ্যে বরাদ্দ হয়ে গেছে ২৫টি। অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সিঙ্গুরে হবে। কৃষিও চলবে, শিল্পও চলবে। কৃষি জমি দখল করে নয়। ৭৭ একর জমিতে প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক সিঙ্গুরে হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট এখানে বড় ওয়্যারহাউস তৈরি করছে। যেখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। যেটা আমরা ইতিমধ্যে ক্লিয়ার করেছি। আমরা মুখে বলি না, কাজে করি।”
আরও পড়ুন: সিঙ্গুর থেকে SIR নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় জানালেন, “সিঙ্গুর আমার ফেভারিট জায়গা। আমার আন্দোলনের একটা বড় অংশ জুড়ে সিঙ্গুর রয়েছে। ২০০৬ থেকে ২০০৮ আমি এখানে আন্দোলন করেছি। আমি সিঙ্গুর আন্দোলনের জন্য ২৬ দিন অনশন করেছিলাম।”এদিন মমতা মঞ্চ থেকে ফের কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সরব হন। তিনি বলেন, ১০ বছর ধরে কেন্দ্রকে চিঠি লিখেছি। কোনও উত্তর দেয়নি। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়ে কাজ আমরা শুরু করে দিয়েছি। ৫০০ কোটি দিয়েছি, ৩০০ হাজার কোটি টাকার কাজ হয়ে গেছে। কেশপুর, দাসপুরের মানুষ উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, আমি ডবল ইঞ্জিন সরকার নই।আমি কথা দিলে কথা রাখি, জুমলা করি না। সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে রাজ্যের আশাকর্মীদের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিন কয়েক আগেই আশাকর্মীদের মোবাইলের টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনারা ধৈর্য ধরুন।
সিঙ্গুর থেকে ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশানা করলেন নরেন্দ্র মোদিকে। মমতার দাবি, “দিনকয়েক আগে এখানে সভা করে একজন ব্যক্তি বলেছিলেন বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে তারা।এটা পুরো মিথ্যে। বাংলা ভাষাকে প্রথমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আমি নিজে বই পাঠিয়েছিলাম প্রমাণ হিসেবে। আমরাই বাধ্য করেছি কেন্দ্র সরকারকে বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে।”মোদি-শাহকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “সিঙ্গুরে এসে বলছে, আমি বাংলার জন্য এটা করব টেলিপ্রম্পটার দেখে। ৪ বছর ধরে বাংলা আবাসনের টাকা দেয় না, রাস্তার টাকা দেয় না..।বাংলার মেয়েরা বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি যায়। পদবী পাল্টে যায়। তাই বলে SIR-এ ডাকবে। বিজেপিকে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘‘তোমরা বাংলাকে দেখোনি। বাংলা যদি জবাব দেওয়া শুরু করে ক্ষমতা নেই তোমাদের। আমাকে তোমরা ঘেঁচু করবে। আমাকে জেলে ভর, গুলি কর, আই ডোন্ট কেয়ার। আমাকে জেলে দিলে মা-বোনেরা জবাব দেবে। কৃষকেরা জবাব দেবে। আমাকে রোখার সাধ্য আপনাদের নেই, বিজেপিকে মঞ্চ থেকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন মমতা।







