ওয়েব ডেস্ক : কলকাতায় শুরু হয়েছে এক মুদ্রা প্রদর্শনী (Currency Exhibition)। যেখানে প্রদর্শন করা হচ্ছে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সংগৃহীত বিরল ও ঐতিহাসিক নোট ও কয়েন। নিউমিসম্যাটিক সোসাইটি অফ কলকাতার (Kolkata) উদ্যোগে এই প্রদর্শনির আয়োজন করা হয়েছে। যার ফলে ইতিহাসের একাধিক অজানা অধ্যায় উঠে এসেছে, যা দর্শকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে।
প্রদর্শনীতে সব থেকে আকর্ষণ হল বুরুণ্ডি (Burundi) দেশের প্রকাশিত ১০,০০০ ফ্রাঙ্কের একটি বিশাল নোট। যা বিশেবর বৃহত্তম নোট হিসেবে পরিচিত। এই নোটটি ১৫.৮ ইঞ্চি লম্বা ও ১১.৩ ইন্ডি চওড়া। নোটটিতে আফ্রিকার বিভিন্ন বৃহৎ বন্যপ্রাণীর ছবি রয়েছে এবং এতে আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যও যুক্ত করা হয়েছে।
আরও খবর : যুবভারতীকাণ্ডে ধৃত শতদ্রু দত্তকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত দিল আদালত
এছাড়াও প্রদর্শনীতে রয়েছে মালয়েশিয়ার (Malaysia) ৬০০ রিংগিট এবং ফিলিপিন্সের (Philippines) ১,০০,০০০ পেসোর মতো নোট। যাকে ঐতিহাসিক ও সংগ্রহমূল্য হিসেবেই তৈরি করা হয়েছিল। ভারতীয় নোট সংগ্রাহক অনিন্দ্য কর তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে ৩৬টি দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের সম্মানে তৈরি ৪০টি বিশেষ নোট প্রদর্শনের জন্য এনেছেন। যা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
এই প্রদর্শনীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল লেপার কলোনি এবং কারাগারের বন্দিদের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ কারেন্সির সংগ্রহ। কলম্বিয়ার কুষ্ঠ রোগীদের জন্য ব্যবহৃত জীবাণুমুক্তযোগ্য কয়েন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান যুদ্ধবন্দি শিবিরে ব্যবহৃত বিশেষ মুদ্রা এবং চেকোস্লোভাকিয়ার বন্দি শিবিরের অভ্যন্তরীণ লেনদেনের কারেন্সি প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে। এই ধরনের মুদ্রার বৈশিষ্ট্য ছিল, শিবিরের বাইরে এগুলোর কোনও মূল্য থাকত না, তবে বন্দিরা মুক্তি পেলে সেগুলি সরকারিভাবে আসল টাকায় বদল করে নিতে পারতেন।
আয়োজকদের মতে, এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বিরল নোট প্রদর্শন নয়। এটি একটি ইতিহাসকে বহন করে চলেছে। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে ইতিহাসপ্রেমী ও গবেষকদের কাছেও এই প্রদর্শনী বিশেষ গুরুত্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
দেখুন অন্য খবর :







