নয়াদিল্লি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্ণবৈষম্য রোধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অর্থাৎ ইউজিসি (UGC Rules) প্রণীত নয়া বিধির উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তফসিলি এবং অনগ্রস শ্রেণির পড়ুয়াদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে যে নির্দেশিকা জারি করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, তাতে স্থগিতাদেশ দিল দেশের সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানাল, UGC-র নির্দেশিকা অস্পষ্ট, তার অপব্যবহার হতে পারে। গোটা ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবও চাওয়া হয়েছে। আগামী ১৯ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিভিত্তিক বৈষম্য রোধে সম্প্রতি ঘোষিত ইউজিসির (UGC Equity Rules) নতুন নির্দেশিকা দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ বা তথাকথিত ‘উচ্চবর্ণ’ শ্রেণির বিভিন্ন গোষ্ঠী এই নিয়মকে একতরফা ও ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি করছে। গত কয়েকদিন ধরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয় কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত মামলা ওঠে আদালতে।বৃহস্পতিবার সেই নিয়ে শুনানি চলাকালীন UGC-র ওই বিতর্কিত নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ দেয় আদালত।দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরও জাতপাতমুক্ত সমাজ গড়তে পারলাম না আমরা। আমরা কি ক্রমশ পশ্চাদমুখী হয়ে পড়ছি?”আমরা এতদিন যা যা অর্জন করেছি, সব কি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে?’’ দুই বিচারপতির বেঞ্চের আরও পর্যবেক্ষণ, এই মামলায় আদালত যদি হস্তক্ষেপ না করে, তা হলে বিপজ্জনক পরিণতি হতে পারে। শিক্ষাঙ্গনের মতো প্রগতিশীল পরিবেশে এ ধরনের বিধি কার্যকর হলে তা সমাজকে আরও বিভাজনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিধির ভাষাগত অস্পষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত।
আরও পড়ুন: নবান্নের সামনে কর্মসূচি নিয়ে শুভেন্দুর আবেদন খারিজ করল হাইকোর্ট
আদালত জানিয়েছে, ইউজিসি-র এই নির্দেশিকা উচ্চশিক্ষার প্রগতিশীল কাঠামোর ওপর আঘাত আনছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সরকারকে এই নিয়মগুলো ফের খতিয়ে দেখতে এবং প্রয়োজনে নতুন করে খসড়া তৈরি করতে বলা হয়েছে। দুই বিচারপতির নির্দেশ, বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করে ওই বিধি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। তত দিন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত ২০১২ সালের বিধিটিই বহাল থাকবে।







