ওয়েব ডেস্ক: বুধবার মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে ভেঙে পড়ে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের বিমান (Plane Crash at Baramati)। এদিন সকাল ৯টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। বারামতী বিমাবন্দরে (Baramati Airport) অবতরণের কথা ছিল অজিত পাওয়ারের চার্টার্ড ফ্লাইটটি (Ajit Pawar Dies in Plane Crash)। কিন্তু তার আগেই জরুরি অবতরণের (Emergency Landing) অনুমতি চেয়েছিলেন পাইলট। সেটি ব্যর্থ হওয়ায় ইমারজেন্সি ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি চেয়েছিলেন পাইলট। ঘন কুয়াশার কারণে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেছিলেন পাইলট। বিমানটি অবতরণের ঠিক আগেই ভেঙে পড়ে সেই রিমোট এলাকায়।মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের দুর্ঘটনার খবর আসতেই শোকের ছায়া এনসিপি শিবিরে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কর্মী-সমর্থকেরা। দাদার প্রয়াণে শোকাহত সুপ্রিয়া সুলে, ঘটনাস্থলে যাচ্ছে পরিবার।কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আছড়ে পড়ার আগে আরও এক বার অবতরণের চেষ্টা করেছিল মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের বিমান। দ্বিতীয় বারের চেষ্টার সময়ে ভেঙে পড়ে লিয়ারজেট ৪৫। ‘ফ্লাইটরেডার ২৪’-এর তথ্য বলছে, বিমানটি আছড়ে পড়ার আগেও এক বার রানওয়েতে নামার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি। অবতরণের চেষ্টা প্রথম বার ব্যর্থ হওয়ার পরে আকাশে এক চক্কর কেটে দ্বিতীয় চেষ্টা করেন পাইলট। দ্বিতীয় বার রানওয়েতে নামার সময়েই ভেঙে পড়ে বিমানটি। বারামতী বিমানবন্দরের ম্যানেজার শিবাজি তাওয়াড়ে জানান, অবতরণের সময়ে রানওয়ের একটি ধারে ভেঙে পড়ে লিয়ারজেট ৪৫। মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় তাতে। এদিকে দুর্ঘটনার পরই এই মিড সাইজ এগজিকিউটিভ জেট নিয়ে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আরও পড়ুন: বারামতির দুর্ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ
ফ্লাইটর্যাডারের তথ্য অনুযায়ী, বম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট ৪৫ (Bombardier Learjet 45) বিমানটি সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বই বিমানবন্দর থেকে ছাড়ে, আরব সাগরের উপর দিয়ে উড়ে বারামতীতে যায়। সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ বিমানটি প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা করে। কিন্তু দৃশ্যমানতা কম থাকায় বিমানটি অবতরণ করতে পারেনি বলেই জানিয়েছে এয়ারক্রাফ্ট অপারেটর ভিএসআর ভেনচার। এরপরে সকাল ৮টা ৪২ মিনিট নাগাদ দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করে বিমানটি। ঠিক তার পরেই, সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ র্যাডার থেকে উধাও হয়ে যায় বিমানটি। জানা যায়, রানওয়ে ১১-র প্রান্তে একটি বিমান আছড়ে পড়ে আগুন ধরে গিয়েছে।
যাঁরা মূলত বিজনেস ট্র্যাভেলের ক্ষেত্রে এই ধরনের ছোট এয়ারক্রাফট ব্যবহার করেন তাঁদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই Learjet 45. গোটা দেশেই এর ব্যবহার রয়েছে।১৯৯৫ সাল থেকে এই বিমানের প্রোডাকশন শুরু হয়। ২০০৩ সালে এই ফ্লাইটকে ভারতের আকাশে সম্পূর্ণভাবে এর চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই সময় এই ফ্লাইটে একাধিক যান্ত্রিক ক্রুটি দেখা দেয়। এয়ার প্রেসার থেকে উইন্ড শিল্ড নানা ক্ষেত্রে সমস্যা ধরা পড়ে। উঁচুতে ওড়ার সময় এর উইন্ড শিল্ডে একাধিকবার ফাটলও দেখা দেয়। এই সব যান্ত্রিক ক্রুটির জন্য দীর্ঘ সময় এই বিমানের চলাচল বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে ফের রিমডেলিং করে এই এয়ারক্রাফটকে চালু করা হয়। ফের জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই ছোটখাটো বিমান।
সূত্রের খবর, এই বিমানটি দীর্ঘদিন থেকেই ব্যবহার করছিলেন অজিত পওয়ার।যে পাহাড়ি এলাকার উপর দিয়ে বিমানটি যাচ্ছিল সেখানকার আবহাওয়ার রিপোর্ট কিন্তু স্পষ্টতই বলছএ সেখানকার দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম। কিন্তু তারপরেও এটিসি কেন ছাড়পত্র দিয়েছিল সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার পর ডিজিসিএ উড়ানের ক্ষেত্রে নিয়মে বেশ কিছু কড়াকড়ি করে। উড়ানের আগে প্রতিটা যান্ত্রিক দিক খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার পর ইঞ্জিনিয়রদের সবুজ সংকেত না এলে কোনও বিমানই উড়তে পারবে না। এ ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর মতো ভিভিআইপি থাকার সময় সেই সমস্ত প্রোটোকল মানা হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।







