ওয়েব ডেস্ক : বুধবার সকালে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar)। মৃত্যু হয়েছে বিমানে থাকা আরও ৫ জনের। বিমানবন্দরে অবতরণের আগে ‘মে ডে’ ঘোষণা করে জরুরি অবতরণের অনুমতি চেয়েছিলেন পাইলট। কিন্তু তার আগেই বারামতীর পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়ে। তার পরেই আগুন ধরে যায় বিমানে। এর পরে অজিত পাওয়ারকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। জানা যাচ্ছে, মহারাষ্ট্রের (Maharastra) উপমুখ্যমন্ত্রীর শেষকৃত্য হবে বৃহস্পতিবার। সেই সময় সেখানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah)।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় শেষ যাত্রা শুরু হবে অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar)। এর পর ১১ টায় বারামতীর বিদ্যা প্রতিষ্ঠান মাঠে পূর্ণ মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। উপমুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুর কারণে মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দেশের বহু নেতা এই ঘটনায় শোক জ্ঞাপন করেছেন।
আরও খবর : সোনা ও রুপোর দামে নতুন রেকর্ড!
অন্যদিকে, বিমানটি আছড়ে পড়ার আগে আরও এক বার অবতরণের চেষ্টা করেছিল মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের (Ajit Pawar) বিমান। দ্বিতীয় বারের চেষ্টার সময়ে ভেঙে পড়ে লিয়ারজেট ৪৫। ‘ফ্লাইটরেডার ২৪’-এর তথ্য বলছে, বিমানটি আছড়ে পড়ার আগেও এক বার রানওয়েতে নামার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি। অবতরণের চেষ্টা প্রথম বার ব্যর্থ হওয়ার পরে আকাশে এক চক্কর কেটে দ্বিতীয় চেষ্টা করেন পাইলট। দ্বিতীয় বার রানওয়েতে নামার সময়েই ভেঙে পড়ে বিমানটি। বারামতী বিমানবন্দরের ম্যানেজার শিবাজি তাওয়াড়ে জানান, অবতরণের সময়ে রানওয়ের একটি ধারে ভেঙে পড়ে লিয়ারজেট ৪৫। মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় তাতে।
সূত্রের খবর, এই বিমানটি দীর্ঘদিন থেকেই ব্যবহার করছিলেন অজিত পওয়ার (Ajit Pawar)। যে পাহাড়ি এলাকার উপর দিয়ে বিমানটি যাচ্ছিল সেখানকার আবহাওয়ার রিপোর্ট কিন্তু স্পষ্টতই বলছএ সেখানকার দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম। কিন্তু তারপরেও এটিসি কেন ছাড়পত্র দিয়েছিল সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার পর ডিজিসিএ উড়ানের ক্ষেত্রে নিয়মে বেশ কিছু কড়াকড়ি করে। উড়ানের আগে প্রতিটা যান্ত্রিক দিক খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার পর ইঞ্জিনিয়রদের সবুজ সংকেত না এলে কোনও বিমানই উড়তে পারবে না। এ ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর মতো ভিভিআইপি থাকার সময় সেই সমস্ত প্রোটোকল মানা হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দেখুন অন্য খবর :







