Wednesday, January 28, 2026
HomeScrollকারখানার বাইরে স্বজনহারাদের কান্না, মৃত বেড়ে ১৬!
Anandapur Incident

কারখানার বাইরে স্বজনহারাদের কান্না, মৃত বেড়ে ১৬!

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে কী কী জানা গেল

কলকাতা: আনন্দপুরের (Anandapur Fire Incident) আগুনে নিখোঁজ ২৩। পুলিশের কাছে ২৩ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরি। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছিল। এবার আরও ৫ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। সরকারি সূত্রে পাওয়া শেষ তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬। উদ্ধার মোট পোড়া ১৬ দেহাংশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর জানা গিয়েছে, প্রথম আগুন লাগে ডেকরেটার্সের গুদামে! তার পর সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের মোমো কারখানাতেও। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল, যা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশেও। আনন্দপুরে কারখানার বাইরে স্বজনহারাদের কান্না, আর্তি। প্রিয়জনদের খোঁজ পাচ্ছেন না অনেকেই।

আনন্দপুরের গুদামে অগ্নিকাণ্ডে বেশ কিছু প্রশ্ন প্রকাশ্যে এসেছে। রবিবার রাত ৩টে নাগাদ আনন্দপুরের জোড়া গুদামে আগুন লাগে। দমকলের ১২টি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলে দেড় দিনের বেশি সময় ধরে ধিকিধিকি করে জ্বলতে থাকে গুদামগুলি। আগুনের গ্রাসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সূত্রের দাবি, নিখোঁজের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ জনের মধ্যে। তাঁদের অনেকেই রাতের পাহারায় নিযুক্ত ছিলেন অথবা কারখানার মধ্যেই থাকতেন বলে জানা যাচ্ছে। নিখোঁজদের খোঁজ এখনও না মেলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ঘটনায় গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে আটক করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর বাড়ি থেকেই অভিযুক্তকে ধরেছে পুলিশ। তাঁকে বারুইপুরে জেলা পুলিশ দফতরে নিয়ে আসা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য মমতাকে কুর্ণিশ ওমর আবদুল্লাহ-র!

আগুন লাগার পর পর কেউ কেউ গুদামের সামনের দিক দিয়ে বাইরে বার হওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ আবার পিছন দিকে চলে যায়। গুদামের নানা জায়গায় দাহ্য পদার্থে পূর্ণ ছিল। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ডেকরেটার্স এবং মোমোর গুদাম একে বারে লাগোয়া নয়। মাঝখানে কিছুটা জায়গা ছিল। তবে সেই জায়গাও বেশির ভাগই দাহ্য পদার্থ। ফলে আগুন ডেকরেটার্সের গুদাম থেকে ছড়িয়ে পৌঁছে যায় মোমোর গুদামে। কয়েক মিনিটের মধ্যে গোটা গুদাম আগুনের গ্রাসে চলে যায়। জানা গেছে, যে গুদামে আগুন লেগেছে সেখানে পুরো জমিটারই মালিক ছিলেন গঙ্গাধর। মোমো কোম্পানি ডেকরেটার্সের গোডাউন লিজে নিয়েছিল।গুদাম মালিকের বিরুদ্ধে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ওই গুদামের মধ্যে একটা অংশে রান্নার জায়গা ছিল। তা ছাড়াও দু’টি ঘর ছিল ওই গুদামের ভিতরে।সব শ্রমিকদের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত ছিল গুদামে। থাকার জন্য প্লাইউড ও কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি করেছিলেন শ্রমিকেরা। সব কিছু পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। তবে রান্নার জায়গা থেকে আগুন ছ়ড়ায়নি বলে অনুমান পুলিশের।

ধ্বংসস্তূপের নীচে প্রাণের সন্ধান করেছে দমকল এবং পুলিশবাহিনী।সময় গড়িয়েছে যত ভস্মীভূত গুদামের মধ্যে থেকে দেহাংশ উদ্ধার হয়। তবে সেই দেহের টুকরোগুলি কাদের, তা শনাক্ত করার উপায় ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষা করে দেহাংশগুলি শনাক্ত করা হবে। একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।গুদামগুলিতে আদৌও কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না প্রশ্ন উঠছে। দমকল বিভাগের মতে, ওই গুদামে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। তারা অভিযোগ দায়ের করে। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া চলছে। কিছু নমুনা ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক দল। তবে আরও কিছু নমুনা সংগ্রহ বাকি রয়েছে। সেই নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে।

Read More

Latest News