নয়াদিল্লি: পাজামার দড়ি টানা, বুকে হাত দেওয়া ধর্ষণের চেষ্টা হিসাবেই গণ্য হবে! এলাহাবাদ হাইকোর্টের (Allahabad High Court) সেই রায় খারিজ করে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। কোনও নাবালিকার স্তন হাত দিয়ে ধরা এবং তার পায়জামা বা সালোয়ারের দড়ি টেনে ছিঁড়ে দিয়ে কালভার্টের নীচে জোর করে টেনে নিয়ে যাওয়ার ধর্ষণের চেষ্টা নয়৷ নিম্ন আদালতের এহেন রায়ের বিরুদ্ধে মতামত জানাল দেশের শীর্ষ আদালত, সুপ্রিম কোর্ট৷
১১ বছরের এক নাবালিকার স্তনে হাত দিয়ে তাকে কালভার্টের নীচে টেনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পবন এবং আকাশ নামে দুই যুবকের বিরুদ্ধে৷ ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানিয়েছিল, কিশোরীর বুকে হাত দিলে বা তার পাজামার দড়ি খোলার চেষ্টা করলে তা ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা বলে গণ্য হবে না। রায় দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আগেই এই ‘বিতর্কিত’ রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। গত বছরের মার্চে এই মামলার পর্যবেক্ষণে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বিআর গবই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চ জানিয়েছিল, এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় অত্যন্ত ‘অসংবেদনশীল ও অমানবিক’। বুধবার শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় খারিজ করে জানিয়ে দিল, স্তনে হাত দেওয়া বা পাজামার দড়ি ধরে টানাকে ধর্ষণের চেষ্টা হিসাবেই ধরা হবে।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিয়ে গেল I-PAC মামলার শুনানি!
সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ‘‘যে সমস্ত অভিযোগ এসেছে, তা কেবল ধর্ষণের অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি, ধর্ষণের চেষ্টা নয়, আমরা হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে পারি না৷’’প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ জানাল, মহিলাদের বুকে বা স্তনে হাত দেওয়া, পাজামা বা সালোয়ারের দড়ি খোলার চেষ্টা অবশ্যই ধর্ষণের চেষ্টা হিসাবে পরিগণিত হবে। দেশের বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের যৌন অপরাধের মামলার বিষয়ে আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।







