Tuesday, March 24, 2026
HomeScrollAajke | শুভেন্দুবাবু, নন্দীগ্রামে তো বিসর্জনের বাজনা বাজছে
Aajke

Aajke | শুভেন্দুবাবু, নন্দীগ্রামে তো বিসর্জনের বাজনা বাজছে

সমবায় সমিতিতে বিজেপির গোহারান হার কি শুভেন্দুরাজের পতনের ইশারা?

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

ছোটবেলায় এত পুজোটুজো বুঝতাম না, যেই মহালয়া বেজে উঠত, সেই আশ্বিনের শারদপ্রাতে, বুঝে যেতাম ছুটি, এবার ছুটি, পুজো এসেছে। আর যেদিন মা কাকিমারা সিঁদুর মাখামাখি হয়ে ঘরে ফিরতেন, সেদিন মন খারাপ হয়ে যেত, বুঝতাম, বিসর্জন এসে গিয়েছে। আবার স্কুলের ঘন্টা আর হোমটাস্ক কড়া নাড়তে শুরু করে দিত মাথার মধ্যে। এক্কেবারে সেইভাবেই ২০০৯-এর লোকসভার নির্বাচন বলে দিয়েছিল, বাম বিদায় আসন্ন। হ্যাঁ, কিছু এমন সিগন্যাল থাকে, যা ইসারা দেয় এক পরিবর্তনের, আগাম সূচনা। অন্য কেউ বুঝুক না বুঝুক, আমাদের শুভেন্দুবাবুর তো সেসব ইশারা বোঝার কথা। কারণ এটা তো বলতেই হবে এই গাঢ় তৃণমূলী বাজারে তিনি সেই ২০২১-এ দলবদলের পর থেকেই নিজের দূর্গ অন্তত সামলে রেখেছেন। কেবল নন্দীগ্রামে নিজের আসন নয়, লোকসভা, জেলার বিধানসভাগুলোর বড় অংশই নয়, স্থানীয় পঞ্চায়েত, মিউনিসিপালিটি, এমনকি সমবায় সমিতিগুলোরও দখল তিনি নিয়েছেন। হ্যাঁ, বেশিরভাগের। বাংলার রাজনীতি তো মাথা থেকে হয় না, মানে লোকসভা বা বিধানসভা দখলের আগে সমবায় সমিতি, পঞ্চায়েত সমিতি, স্থানীয় ক্লাবগুলো দখল করতে হয়। তো সেটা বেশ মন দিয়েই করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, আমাদের শান্তিকুঞ্জের মেজখোকা। কীভাবে? পরে আলোচনা করছি, কিন্তু যেভাবেই করে থাকুন, করেছিলেন, তা না হলে তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে তিনি খড়কুটোর মত উড়ে যেতেন। কিন্তু হয়নি। সেই ২১-এর পরে আজ ৫ বছর কেটেছে, আমরা দেখেছি বিজেপির সেই চূড়ো যা ২০১৯-এ বিজেপিকে সবথেকে বেশি উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল, সেই উচ্চতা তারপর থেকে ধারাবাহিকভাবেই কমেছে। আজ সেখানে আকাশের গায়ে কেন টক টক গন্ধ। বেশ কিছু ইনপুট বলছে, হাওয়া অনেকটাই ঘুরে গিয়েছে। তবে কি বিসর্জনের বাজনা বাজছে? সেটাই বিষয় আজকে, শুভেন্দুবাবু, নন্দীগ্রামে তো বিসর্জনের বাজনা বাজছে।

গ্রামে স্বাস্থ্য সেবা কি আগের থেকে ভালো? হ্যাঁ এবং না। গ্রামের ছোট হেলথ সেন্টারগুলো এখন অনেক বেশি পরিষ্কার, বসার জায়গা, কিছু সহায়ক সহায়িকা নিয়ে মন্দ নয়, আবার সেই হেলথ সেন্টারে ডাক্তার নেই, প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই। বিপ্লবী ডাক্তারবাবুরাই তো জেলায় পাঠালে আদালতে চলে যাচ্ছেন, কাজেই ডাক্তার নেই, যিনি আছেন তিনি সোমবার বিকেলে ঢোকেন, বৃহস্পতিবারে বাড়ি ফেরেন, কখনও সখনও গোটা সপ্তাহেই তাঁর দেখা মেলে না। সেই গ্রামে হঠাৎ করে সেবাশ্রয়ের ঢেউ, হ্যাঁ, যুবরাজের নেতৃত্বে মেডিক্যাল ক্যাম্প আর মানুষ সেখানে উপচে পড়ল, কেবল তাই নয়, ওখানে কড়া ম্যান মার্কিংয়ের জন্য কুণাল ঘোষও শুনেছি দায়িত্ব পেয়েছেন। কাজেই সবকটা ঘুঁটি নাড়ানো শুরু হয়েছে, পছন্দের কিছু পুলিশ অফিসারদের পোস্টিং করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এটাই ভোটের আগের প্রস্তুতি, আর তাতে ফল ধরেছে প্রথমে আমদাবাদ অঞ্চলের সমবায় সমিতির ভোট, পরে রানীপুর সমবায় সমিতিতে গোহারান হেরেছে বিজেপি। হ্যাঁ, এটাই হল সেই সিঁদুরপুজো যা বলে দেয় ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ? ঠাকুর যাবেই বিসর্জন।

আরও পড়ুন: Aajke | হাওড়া থেকে কামাখ্যা, মোদিজির বন্দে ভারতে কেবল নিরামিষ, বিজেপি বাঙালি বিরোধী

আসলে মূলত দু’টো কারণেই এই পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। শুভেন্দুবাবু এমন এক হাবভাব নিয়ে চলা শুরু করেছিলেন, যা সেখানকার বাসিন্দাদের বুঝিয়েছিল, এ তো আর কদিনের ব্যাপার, বিজেপি তো এসেই গিয়েছে ক্ষমতায়, আর তা হলে মুখ্যমন্ত্রী তো উনিই হবেন। কিন্তু সেই ২০২১-এর পরে এতদিন ধরে মানুষ অন্তত এটা তো সাফ বুঝেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী তো দুরস্থান, ২৬-এও সেই সিংহাসন থেকে শুভেন্দু বাবু আর তাঁর দল অনেক অনেক অনেক দূরে। আর দ্বিতীয় হল, ক্ষমতার গা ঘেঁষে থাকতে চান মানুষ, সাধারণ মানুষ আর মেজ, সেজ, ছোট নেতারা, তাঁরা ধীরে ধীরে ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা হিসেব কষেই শিবির বদলাচ্ছেন। হ্যাঁ, এই দুই কারণে ধস নামছে। এক্কেবারে তলার স্তরের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর প্রভাব কাজ করছে না। এবারে ওই নন্দীগ্রামের দূর্গ কি রক্ষা করতে পারবেন মেজখোকা? সেই প্রশ্ন ছড়াচ্ছে গ্রাম থেকে গ্রামে। মানে ঢাক বাজছে? সেই সুর? ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ ঠাকুর যাবেই বিসর্জন? আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, নন্দীগ্রামের মধ্যেই পর পর দু’দুটো সমবায় সমিতিতে বিজেপি গোহারান হেরেছে, এটা কি শুভেন্দু রাজের পতনের ইশারা? শুনুন মানুষজন কী বলছেন?

হ্যাঁ, শুভেন্দু জীবনের কঠিনতম লড়াইটা লড়তে যাচ্ছেন আর মাস দুই-তিনের মাথায়। লড়াই শক্ত ছিল তো তখনও যখন বাম জামানার সেই সর্বময় কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে তিনি জমি আন্দোলনে নেমেছিলেন, কিন্তু সেই লড়াইয়ে তাঁর মাথায় ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছাতা। কিন্তু কখনও সখনও মানুষের নিজের অ্যাসেসমেন্টে ভুল হয়ে যায়, রথ ভাবে আমিই দেব, সেরকম আর কী। সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছাতার তলায় না থাকলে কী হতে পারত, তা বোঝার চেষ্টা তো মেজখোকা করেননি, বরং আত্মতুষ্টিতে ভুগেছেন, মনে করেছেন তিনিই আন্দোলনের জয় এনে দিয়েছেন। আজ নিজের কঠিনতম লড়াইয়ের দিনে তাঁর সেই বোধোদয় নিশ্চই হবে, তিনি ফারাকটা বুঝতে পারবেন, মাথায় মমতার হাত থাকা আর না থাকার ফারাকটা বুঝতে পারবেন।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News

evos gaming

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor situs slot gacor joker toto slot maxwin slot maxwin situs bola WATITOTO LGO188 DEPOBOS https://www.demeral.com/it/podcast xgo88 WDBOS SLOT GACOR toto togel slot toto togel slot poker slot gacor idn poker 88 slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ https://www.demeral.com/it/demeral_software/ nobu99 toto slot