ওয়েব ডেস্ক : গুজরাটে (Gujrat) ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল পেশ করল সরকার। বুধবার বিধানসভায় আনা এই বিলের (Bill) লক্ষ্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একক ও ধর্মনিরপেক্ষ আইনি কাঠামো গড়ে তোলা। উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি বিলটি উত্থাপন করেন।
বিল অনুযায়ী, লিভ-ইন সম্পর্কে (Live-in relationship) থাকা দম্পতিদের সম্পর্ক শুরু হওয়ার এক মাসের মধ্যে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে তা নথিভুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার যাচাই করবেন, উভয় পক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক কিনা, কেউ বিবাহিত কিনা এবং সম্পর্কটি আইনসিদ্ধ সীমার মধ্যে পড়ে কি না। এই নিয়ম মানা না হলে কারাদণ্ড বা জরিমানার মতো শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে এই বিলে। পাশাপাশি, লিভ-ইন সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানকে বৈধ মর্যাদা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। সম্পর্ক ভেঙে গেলে সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে। নিয়ম না মানলে ১০ হাজার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
এই বিলে একাধিক বিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিয়ের ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে। সরকারের এই আইন মানা না হলে ৭ বছর পর্যন্ত কারাবাস হতে পারে। যদিও কিছু আদিবাসী ও বিশেষ সুরক্ষাপ্রাপ্ত গোষ্ঠীকে এই আইনের বাইরে রাখা হয়েছে।
আরও খবর : ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড় পতন! ১৮০০ পয়েন্টের বেশি পড়ল সেনসেক্স
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইসলামের ‘হলালা’ প্রথার সরাসরি উল্লেখ করে এই বিলে (Bill) স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোনও বিবাহবিচ্ছিন্ন দম্পতি কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই একে অপরকে পুনরায় বিয়ে করতে পারবেন। এর মধ্যে এই শর্তটিও বাতিল করা হয়েছে যেখানে বলা হতো, পুনর্বিবাহের আগে মহিলাটিকে প্রথমে অন্য কোনো ব্যক্তিকে বিয়ে করতে হবে। তারপর তাকে তালাক দিতে হবে। এই বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
উত্তরাধিকারের বিষয়ে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো উইল বা দানপত্র না করে মারা যান, তবে তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারীদের জন্য একটি ত্রি-স্তরীয় শ্রেণিবিন্যাস তৈরি করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছেন, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং পিতামাতা। দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছে, সৎ-পিতামাতা, পৈতৃক দাদু-দিদিমা এবং মাতামহ-মাতামহী। তৃতীয় স্তরে রয়েছে, অন্যান্য সমস্ত আত্মীয়রা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হবেন।
অন্যদিকে, একই দিনে কর্নাটকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হয়েছে। সেখানে সম্মানের নামে হত্যা বা অনার ক্রাইম রুখতে কড়া আইন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তঃজাতি বা আন্তঃধর্ম বিবাহের ক্ষেত্রে হুমকি, হিংসা বা সামাজিক বয়কটের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড এবং মোটা অঙ্কের জরিমানার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
দেখুন অন্য খবর :







