ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। এই আবহে এদিন বাঁকুড়ার (Bankura) বড়জোড়ার বীরসিংহপুর ময়দানে জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা।মমতা এদিন বলেন, “বাংলায় একজন দুঃশাসন এসেছেন। ভোট আসলে বাংলায় দুর্যোধন আর দুঃশাসন আসে। শকুনির চ্যালা চামুন্ডারা ঘুরে বেড়াচ্ছে।” যদিও এই আক্রমণে কোনও নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
এসআইআর নিয়ে যখন রাজনৈতিক চাপানউতোরের সেই আবহে রাজ্যে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ রুখবই, কলকাতা থেকে চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের (Amit Shah)। সেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে পাল্টা বিজেপিকে আক্রমণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা। বিজেপির দাবি, এসআইআর-র ফলে অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গাদের নাম বাদ যাবে। আর এই নিয়েই এদিন মমতা প্রশ্ন তোলেন, “শুধু বাংলায় অনুপ্রবেশকারী থাকলে পহেলগাঁও ও দিল্লিতে হামলা তোমরা চালালে?” নাম না করে অমিত শাহকে দুর্যোধন, দুঃশাসন বলে তোপ তাঁর। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,” ভোট এলেই দুর্যোধন, দুঃশাসনরা আসেন।বাঁকুড়ার বড়জোড়ার জনসভা থেকে শাহ-সহ গোটা বিজেপিকে চড়া সুরে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলকাতা থেকে অমিত শাহ অভিযোগ করেছিলেন রাজ্য সরকার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জমি দিচ্ছে না। নাম না করে শাহকে পাল্টা তোপ দাগেন মমতা। তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘ভোট এলেই দুর্যোধন-দুঃশাসনরা বাংলায় আসেন। শকুনি মামার চেলারা ঘুরছে চারিদিকে। এখন বলছে আমি নাকি জমি দিই না। “কমরেড- বোমরেডদের প্রশ্ন করুন, আমি যদি জমি না দিতাম, আমি জমি না দিলে ECL-এর কাজ হতো? পানাগড়, অন্ডাল, পেট্রোপোল, তারকেশ্বর- এসবের জমি কে দিয়েছে। যা দিয়েছি ওই কাজগুলো আগে করুন। আমি BSF-এর বিরুদ্ধে নই। শুধু নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করুন।’
আরও পড়ুন: ‘বাংলাতেই শুধু অনুপ্রবেশকারী থাকলেপহেলগাঁও আর দিল্লিতে হামলা তোমরা চালালে?’
বিজেপিকে ‘রাজনৈতিক হ্যাংলা’ বলে কটাক্ষ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এই রাজনৈতিক হ্যাংলার দল আগের বার এসে বলেছিল ইস বার ২০০ পার, হয়ে গিয়েছে পগাড়পার। এবার আপনাকে দেশ থেকে বার। আবার বাংলার ক্ষমতায় এসে গণতান্ত্রিকভাবে দেশ থেকে বার করে দেব। শাহ অভিযোগ করেছেন, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য কাঁটাতার বসানোর জন্য জায়গা দেয় না রাজ্য সরকার। কিন্তু মমতা পালটা জবাবে বললেন, ”রায়গঞ্জ, চ্যাংড়াবান্ধা, ঘোজাডাঙায় আমরা জমি না দিলেন কী করে কাজ করতেন? অনুপ্রবেশ রুখে দেওয়ার দায়িত্ব তো বিএসএফের। তারা কেন রুখতে পারে না?” এরপরই কার্যত গর্জে উঠে বলেন, ইউ মাস্ট রিজাইন। আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিন।”
“মমতা বলেন, “দুটো কান থাকলে এক কান কাটার ভয় থাকে, কিন্তু যার দুটো কানই কাটা, তার আবার কান কাটার ভয় কী?মমতা বলেন, যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন এই দূরাচারী, শকুনি মামা, দুর্যোধন, দুঃশাসনদের বিরুদ্ধে লড়ব। এছাড়াও, বিজেপিকে দাঙ্গাকারী, ব্যাভিচারী, দুঃশাসনকারী, বিভ্রান্তকারি, স্বৈরাচারী – বলেও তোপ দাগেন মমতা। বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার নিয়েও সরব হন তৃণমূল সুপ্রিমো। বলেন, “উত্তর প্রদেশ, অসম, ওড়িশা, রাজস্থানে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। বাংলায় দেড় কোটি পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। আমরা তো অত্যাচার করি না।”






