কলকাতা: অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে বৈঠকের পরই ফের চেনা মেজাজে ধরা দিলেন বঙ্গ বিজেপির (BJP) দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। কয়েক মাস পর বৃহস্পতিবার সল্টলেকে (Saltlake) বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে হাজির হন তিনি। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) সঙ্গে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election) রণকৌশল নিয়েও বৈঠক করেছেন বলে খবর। তবে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, কোন কথায় দিলীপের ‘মান ভাঙালেন’ শাহ? সেই গোপন বৈঠকের ইঙ্গিতই শুক্রবার প্রকাশ্যে এনে দিলেন দিলীপ নিজেই।
কলকাতায় থাকলে নিয়মিত নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে যান দিলীপ ঘোষ। দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার সময়ে কিছুটা আড়ালে থাকলেও, শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের পর শুক্রবার তাঁকে দেখা গেল পুরনো ছন্দে। সেখানেই দিলীপ জানান, অমিত শাহ তাঁকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “কাজ করতে বলেছেন। আমি কাজে নেমে পড়েছি।” সংক্ষিপ্ত এই মন্তব্যেই পরিষ্কার, ফের সক্রিয় ভূমিকায় ফিরছেন তিনি।
আরও পড়ুন: জানুয়ারিতেই নয়া টিম নীতিন নবীনের, কেন্দ্রীয় তালিকায় কি এবার জায়গা পাবে বাংলা?
প্রসঙ্গত, সস্ত্রীক দিঘার জগন্নাথধামের দ্বারোদ্ঘাটনে গিয়ে বিতর্কে জড়ান দিলীপ। এরপরই তাঁর দলবদলের জল্পনা শুরু হয়। বিজেপিতে ফের সক্রিয় হতেই বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর মন্তব্য ছিল, “জগন্নাথধামে গিয়েছিলেন বলেই দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন।” শুক্রবার তার পালটা জবাব দিতে ছাড়েননি দিলীপ। বললেন, “জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদেই ছাব্বিশে বাংলায় বিজেপির সরকার আসবে।” স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, বঙ্গে বিজেপির সংগঠন মজবুত করতে একশো শতাংশ দিয়ে লড়াই করবেন তিনি। দল যে দায়িত্ব দেবে, সেটাই পালন করবেন।
দলের সঙ্গে দূরত্ব, মোদি-শাহের সভায় ডাক না পাওয়ার প্রসঙ্গে দিলীপের ব্যাখ্যা, “মাঝে ভোট ছিল না। দল অন্যদের দায়িত্ব দিয়ে সামনে এনে দেখেছে। এখন মনে হয়েছে আমাকে প্রয়োজন, তাই ডেকেছে।” এদিন পুরনো আক্রমণাত্মক মেজাজে তৃণমূল ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন দিলীপ। অভিষেকের মাসব্যাপী কর্মসূচি নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “ডায়লগ দিয়ে ভোটে জেতা যায় না। সিপিএমও ভেবেছিল ওদের কেউ হারাতে পারবে না। এমনভাবে হারল যে খুঁজেই পাওয়া গেল না।” বিজেপির লড়াই যে আরও ধারালো হচ্ছে, সে ইঙ্গিতও স্পষ্ট করে দিলেন দিলীপ।







