২০২৬ সালের ২৭শে জানুয়ারি নাকি ভারতের অর্থনৈতিক কূটনীতির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে খোদাই করা থাকবে। হ্যাঁ, মোদিজি তাই বলেছেন। শেষ মুহূর্তের ম্যারাথন দর কষাকষির পর নাকি ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ (FTA) চূড়ান্ত করার ঘোষণা করেছে। দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্টা, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন যখন এই ‘মাদার অফ অল ডিল’ বা সব চুক্তির সেরা চুক্তির কথা ঘোষণা করলেন, তখন নাকি বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্র উথাল পাথাল। আসলে ভারত, ইউরোপ—দুই পক্ষই আমেরিকার ইচ্ছে খুশি মত ট্যারিফ চাপানোর কারণে কিছুটা কোণঠাসা হয়েছিল, এই চুক্তি করে তাঁরা নিজেরা নিজেদের পিঠ চাপড়াচ্ছেন। এদিকে ভারত যখন ব্রাসেলসের সঙ্গে মৈত্রী সুদৃঢ় করছে, চুক্তি সই হচ্ছে, তখন ভারতের বৃহত্তম একক বাণিজ্যিক অংশীদার আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এখনও অগাধ জলে ভাসছে। আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের রফতানি পণ্যের উপর যে ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা চাপিয়ে রেখেছে, তার ফলে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের রফতানি ২১ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। সেরকম এক অবস্থায় ইউরোপের সঙ্গে করা এই নতুন চুক্তি কি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য না হওয়ার যে বিশাল ক্ষতি, তা কি সত্যি সামাল দিতে পারবে? ভারতের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি কি এই একটা চুক্তির হাত ধরে নিয়ন্ত্রণে আসবে? নাকি ভারতের অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়বে?
যদিও ইউরোপ ইউনিয়ন আর ভারতের এই চুক্তি কেবল শুল্ক কমানোর চুক্তি নয়, এটা প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একট বিশাল বাজারকে এক জায়গাতে আনার এক ভূ-রাজনৈতিক কৌশল। তবুও জানা গেল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের প্রায় ৯৯.৫ শতাংশ রফতানি পণ্যের উপর থেকে শুল্ক তুলে নিচ্ছে। ভারতের শ্রমনিবিড় ক্ষেত্রগুলো যেমন বস্ত্র শিল্প, চামড়াজাত পণ্য, সামুদ্রিক খাদ্য এবং গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো এখন আমেরিকার বদলে ইউরোপের বাজারে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে চলে আসবে। এর আগে ভিয়েতনাম বা বাংলাদেশের মতো দেশগুলো ইউরোপে যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত, ভারত সেই দৌড়ে পিছিয়ে ছিল। এখন ভারতীয় টেক্সটাইল রফতানিকারকরা ১২ থেকে ১৬ শতাংশ শুল্কের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে সরাসরি ইউরোপীয় গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে পারবে। কিন্তু বিনিময়ে কী পাবে ইউরোপ ইউনিয়ন? ভারতও একইভাবে ৯৭.৫ শতাংশ বাণিজ্যিক মূল্যের উপর শুল্ক ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। ইউরোপীয় গাড়ি, মদ এবং দামী যন্ত্রপাতির উপর থেকে আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। ফরাসি বা ইতালীয় ওয়াইনের ওপর ১৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। হ্যাঁ, ভেড়ার মাংস রফতানিতেও ওই ১০ শতাংশ ট্যারিফ দিতে হবে তাদের। প্রশ্ন হল মোদিজি এই সস্তার ওয়াইন, স্কচ হুইস্কি, ভেড়ার মাংস কাদের খাওয়াবেন? একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন ইউরোপ ইউনিয়নের টার্গেট পপুলেশন হল মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত আর ধনী মানুষজন, যাঁরা দেশের কমবেশি ২৫ শতাংশ। কিন্তু সংখ্যার দিক থেকে সেটাই গোটা ইউরোপ ইউনিয়নের জনসংখ্যার কাছাকাছি, মানে আমাদের দেশের জনসংখ্যার ওই ২৫ শতাংশ মানে হল ৩৫ কোটি আর ইউরোপের জনসংখ্যাই হল ৪৫ কোটি। তাহলে দাঁড়াল কী? ইউরোপ ইউনিয়ন ৩৫ কোটি মানুষের এক নির্দিষ্ট বাজার পেল, যেখানে তাঁদের কোনও প্রতিযোগিতাই নেই, ফ্রেঞ্চ ওয়াইন বা স্কচ হুইস্কি বা নেদারল্যান্ডের ভেড়ার মাংসের তো কোনও ভারতীয় প্রতিদন্দ্বী নেই, কিন্তু আমরা যা যা পাঠাচ্ছি, সে সি-ফুড, চামড়ার জিনিষপত্র, জুয়েলারি, টেক্সটাইলের কড়া প্রতিযোগিতা রয়েছে, সেখানে সেই তালিকাতেই আছে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, জাপান ইত্যাদি অনেকগুলো দেশ। ইউরোপ ইউনিয়ন আমেরিকার সঙ্গে লড়ার জন্যই তাদের বাজারের পরিধিটা বাড়িয়ে নিল। আর আমাদের দেশের ওয়াইন বা স্পিরিট তৈরি করে যে কোম্পানিগুলো, যে কোম্পানিগুলো একটু হাই ভ্যালু গাড়ি তৈরি করে, যারা ভোজ্য তেল তৈরি করে, তারা এবারে কড়া প্রতিযোগিতার মধ্যেই পড়বে।
আরও পড়ুন: Fourth Pillar | বাংলাদেশি না বাঙালি? কাদের পেটানো হচ্ছে? কাদের তাড়ানো হচ্ছে?
গত আট বছরের বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এক অদ্ভুত প্রবণতা লক্ষ্য করা যাবে। ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য এক দুর্দান্ত গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছিল। ২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিল ১৪২.৮ বিলিয়ন ডলার। সেই সময় ভারতের আইটি পরিষেবা এবং ওষুধের জন্য আমেরিকা ছিল এক সোনার খনি। ২০২৪-২৫ সালে আমেরিকা-ভারত বাণিজ্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৩.৫ বিলিয়ন ডলারে। ইন ফ্যাক্ট সেই সময়ে ভারতের আমেরিকার উপরে একতরফা ভরসা বাড়ানো হয়েছিল এক লাফে। ওদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ভারতের অন্যতম পণ্য বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে, বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৬ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু মূল পার্থক্য হল বাণিজ্যের প্রকৃতির মধ্যে। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যে ভারত বরাবরই লাভবান হত, মানে ভারত রফতানি বেশি করত। কিন্তু ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যে ভারত এখন সামান্য উদ্বৃত্ত বা সারপ্লাস বজায় রাখলেও তা আমেরিকার মতো এতটা বিশাল নয়। আমেরিকা: ২০২৪ সালে কেবল পণ্য রফতানি ছিল ৮৭.৩ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু উচ্চ শুল্কের কারণে ২০২৫ সালে তা ২১ শতাংশ কমেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ২০২৪-২৫ সালে পণ্য রফতানি ছিল ৭৬ বিলিয়ন ডলার। আমেরিকা থেকে আমদানি অনেক কম ছিল বলেই এক সারপ্লাস ট্রেড হত, ইইউ-র সঙ্গে সেই সারপ্লাস ছিল নামমাত্র। আমেরিকার বাজারে ভারতীয় রফতানি বাণিজ্যে যে ধস নেমেছে, ইউরোপ কি সেটা পূরণ করতে পারবে? ইউরোপের সঙ্গে মোদিজির এই ‘মাদার অফ অল ডিল’ ভারতের জন্য এক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে, কিন্তু তা রাতারাতি আমেরিকার অভাব পূরণ করতে পারবে না। এর কয়েকটা জোরালো কারণ রয়েছে। প্রথমত, আমেরিকার গ্রাহক সমাজ বা কনজিউমার বেস অত্যন্ত শক্তিশালী, তারা ভারতীয় আইটি পরিষেবা, ওষুধের উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। ইউরোপের ২৭টা দেশের বাজার যদিও বিশাল, তবুও সেখানে ভাষা আর আলাদা আলাদা রেগুলেটরি বা আইনি কাঠামোর জন্য চুক্তি হলেও প্রবেশ করা অনেকটা সময়সাপেক্ষ। মানে চুক্তি থেকে সুবিধে পেতে অন্তত দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে। কিন্তু ইইউ তাদের বাণিজ্য এই বছরের শেষ থেকেই করতে পারবে। অন্যদিকে আমেরিকা যে ধরণের শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছে, তা সরাসরি ভারতের পকেট কাটছে। ভারতের রফতানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ আমেরিকায় যায়। ইউরোপের সঙ্গে চুক্তির ফলে ভারতের রফতানি বাড়বে ঠিকই, কিন্তু আমেরিকার বাজারের ওই বিশাল গর্ত ভরাট করা সহজ হবে না।
মনস্তাত্বিক যুদ্ধে এটা বলাই যায় যে, আমেরিকা যদি দরজায় খিল দেয়, তবে ভারতের সামনে ইউরোপের জানালা খোলা রয়েছে, কিন্তু সেই জানলা পুরোপুরি খোলার আগে ভারতের বাজারের হাল কী হবে তা তো জানা নেই। তার উপরে আছে সার্ভিস সেক্টর, পরিষেবা খাতের উপর প্রভাব। ভারতের জন্য আমেরিকা হল আইটি বা তথ্যপ্রযুক্তির প্রধান গন্তব্য। ইউরোপীয় বাজারে আইটি পরিষেবার রফতানি বাড়ানো ভারতের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ ইউরোপে আইটি সেক্টরের চেহারা মান আর কাজের সেক্টরগুলো আলাদা। আসলে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই এক বিশাল বাণিজ্য ঘাটতির সঙ্গে লড়াই করছে। মানে ভারত রফতানি যা করে, তার চেয়ে অনেক বেশি আমদানি করে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল, সোনা এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের আমদানি ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে বড় টান ফেলে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি এক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল—প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার। যদিও নভেম্বরে তা কমে ২৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, তবুও পরিস্থিতি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়লে ভারতের আমদানি বিল লাফিয়ে বাড়ে। আমেরিকা থেকে আসা শুল্কের ধাক্কা আর চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি ভারতের জন্য এখনও এক বড় মাথাব্যথার কারণ। চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। ইউরোপের সঙ্গে চুক্তি ভারতকে সাহায্য করবে ঠিকই, কিন্তু চীন এবং আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সমীকরণ ঠিক না হওয়া পর্যন্ত ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির পূর্ণ সমাধান হওয়া কঠিন। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর ভারতের এই চুক্তি নিশ্চয়ই ভারতের পুরানো বন্ধু রাশিয়াকে খুশি করবে না, তারাও তাদের মতো করে ব্যবস্থা নেবে, ওদিকে ইউরোপ রাশিয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তবুও তারা ভারতের গুরুত্ব বোঝে আর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনকে রুখতে ভারতকে এক অপরিহার্য অংশীদার মনে করে। এই কৌশলগত মিত্রতাই ভারত ও ইউরোপকে ২০ বছর পর এক টেবিলে আনতে সাহায্য করেছে। ইউরোপ ইউনিয়ন ভারতের সঙ্গে এই চুক্তি করেছে সেটা আসলে আমেরিকার জন্য এক সতর্কবার্তা, একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনকেও একটু সামলে রাখার চেষ্টা।
কিন্তু এই চুক্তি মোদিজি যেমন বলছেন ‘মাদার অফ অল ডিল’ ইত্যাদি, সেগুলো নিছক বাওয়াল, এই চুক্তির মধ্যে কিছু বড় চ্যালেঞ্জও লুকিয়ে আছে। প্রথম চ্যালেঞ্জ হল, ইউরোপের ‘কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম’ বা সিবিএএম (CBAM)। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিবেশ রক্ষার তাগিদেই আমদানি করা পণ্যের উপর কার্বন কর বসানোর পরিকল্পনা করেছে। ফলে ভারতের ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, সিমেন্ট শিল্পের উপর বিরাট অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ ওই কার্বন কর এই ভারী শিল্পগুলোর লাভের গুড় পিঁপড়েকে খাইয়ে দেবে। দু’নম্বর চ্যালেঞ্জ, ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) ইউরোপের কড়া মানদণ্ড বা স্ট্যান্ডার্ড মেনে পণ্য তৈরি করতে কতটা সক্ষম হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। এর আগে লট কে লট যন্ত্রাংশ ফেরত আসার ইতিহাস তো আছে। ইউরোপের বাজারে প্রবেশ করতে হলে পণ্যের গুণমান এবং প্যাকেজিং-এর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। তিন নম্বর চ্যালেঞ্জ, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে ইউরোপীয় পণ্যের অনুপ্রবেশ। যখন বিএমডব্লিউ বা অডি গাড়ির উপর শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমে আসবে, তখন ভারতের দেশীয় গাড়ি উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো বড় প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। একইভাবে, ইউরোপীয় ওয়াইন বা ডেইরি পণ্যের ক্ষেত্রেও একই আশঙ্কা রয়েছে। আসলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেই হবে, আর তা কমানোর জন্য কেবল নতুন নতুন চুক্তি করলেই হবে না, বরং দেশের ভেতরে উৎপাদনের খরচ কমাতে হবে, পরিকাঠামো উন্নত করতে হবে। পিএলআই স্কিমগুলো যেভাবে কাজ করছে, তা যদি অন্যান্য ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত করা যায়, তবে ভারত একসময় নিট রফতানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে। ইউরোপের সঙ্গে করা এই চুক্তি আসলে ভারতকে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য একটা পোক্ত সিঁড়ি তৈরি করে দিয়েছে। সেই সিঁড়িতে ওঠার জন্য এক সক্ষম শিল্পনীতি কোথায়? তবে এটা ঠিক যে এই চুক্তির ফলে এক সাইকোলজিক্যাল যুদ্ধে কয়েক পা এগিয়ে থাকল ভারত।
দেখুন আরও খবর:








