Sunday, January 11, 2026
HomeScrollFourth Pillar | টাকা দিয়েই মোদি-শাহ কিনে নেবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো?
Fourth Pillar

Fourth Pillar | টাকা দিয়েই মোদি-শাহ কিনে নেবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো?

বিজেপি অর্থের দাপট এবং এজেন্সির ব্যবহার করে গণতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা করছে

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

ভারতের রাজনীতি বা বলা ভালো এক লাগাতার চলতে থাকা সার্কাসে গত এক দশকে যে পরিবর্তনগুলো ইদানিং এসেছে কেবল নয়, এসেছে আগের সব নিয়ম নীতি ভেঙে, কালাপাহাড়ের মতো, তার কেন্দ্রে রয়েছে এক অভাবনীয় ক্ষমতার আস্ফালন। ভারতের মতো এক বিশাল গণতান্ত্রিক দেশে, যেখানে প্রতিটা ভোটকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা, সেখানে আজ প্রশ্ন উঠেছে—অর্থের পাহাড় আর রাষ্ট্রীয় শক্তির দাপট কি শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরকে চুপ করিয়ে দেবে? এই আলোচনার শুরুতেই আমাদের বিজেপির সেই তিনটে প্রধান অস্ত্রের কথা মাথায় রাখতে হবে, যা তারা ২০১৪ থেকে ব্যবহার করছে, শুরুতে খানিক আবরণ ছিল সেই অস্ত্রের, এখন তাও আর নেই। প্রথমত, কট্টর হিন্দুত্ববাদ আর মেরুকরণের রাজনীতি; দ্বিতীয়ত, উগ্র জাতীয়তাবাদ বা পেশি প্রদর্শন; এবং তৃতীয়ত, ইডি ও সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিরোধীদের কোণঠাসা করা। আর এই সবকিছুর উপরে রয়েছে বিজেপির সেই বিপুল পরিমাণ অর্থভাণ্ডার, যার সামনে দেশের অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের টিকে থাকা আজ অসম্ভব। আসুন একটু বোঝার চেষ্টা করি, কীভাবে এই তিনটে অস্ত্র মিলেমিশে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিজেপির রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বিতর্কিত হাতিয়ার হল হিন্দুত্ববাদ। ‘হিন্দু খতরে মে হ্যায়’ বা ‘হিন্দুরা বিপদে আছে’—এই ন্যারেটিভটা এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে, যাতে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনে এক ধরনের নিরাপত্তাবোধের অভাব তৈরি হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে আমরা দেখেছি, কীভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে দলের শীর্ষ নেতারা বারবার এমন সব মন্তব্য করেছেন যা সরাসরি সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদন বলছে, ওই নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী একাই প্রায় ১১০টা ঘৃণা ভাষণ বা ‘হেট স্পিচ’ দিয়েছেন। এই ভাষণগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল, হিন্দু ভোটকে সংহত করা এবং বিরোধীদের এমনভাবে তুলে ধরা যেন তারা কেবল মুসলিমদের তুষ্টির রাজনীতি করছে। এই মেরুকরণের রাজনীতির প্রভাব সমাজে অনেক গভীরে পৌঁছায়। যখন সাধারণ মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া যায় যে, তাঁদের অস্তিত্ব সংকটে, তাঁরা বিপদে আছেন, তখন তাঁরা আর কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে না। তুলছেন না, তাঁরা তখন ধর্মের নামে একজোট হয়, হচ্ছেন। বিজেপির এই কৌশল কেবল একটা নির্বাচনী জেতার পদ্ধতি নয়, বরং এটা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ পরিকাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘বাটেঙ্গে তো কাটেঙ্গে’ বা মোদির ‘এক হ্যায় তো সেফ হ্যায়’ স্লোগানগুলো আসলে সেই ভয়ের রাজনীতিরই প্রতিফলন যা হিন্দু সম্প্রদায়কে এক ভোটব্যাঙ্ক হিসেবেই ধরে রাখতে চায়। আর বিজেপি এই হিন্দুত্ববাদী আদর্শকে কেবল স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি, তারা একে রাম মন্দির নির্মাণ বা জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করার মতো কাজের মধ্য দিয়ে জাতীয় গৌরবের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে। বিজেপির দ্বিতীয় অস্ত্র হল উগ্র বা জঙ্গি জাতীয়তাবাদ। ‘ঘর মে ঘুশকর মারেঙ্গে’ অর্থাৎ শত্রুর ডেরায় ঢুকে মারার যে প্রচার, তা ভারতের সাধারণ মানুষের এক অংশের মধ্যে এক প্রবল দেশপ্রেমের উন্মাদনা তৈরি করে, সেই তাদের মধ্যেই যারা মনে করছেন হিন্দু খতরে মেঁ হ্যাঁয়। এখানে জাতীয়তাবাদকে কেবল দেশের প্রতি ভালোবাসা হিসেবে নয়, বরং এক আগ্রাসী চাহিদা হিসেবে তুলে ধরা হয়। বিজেপির দাবি অনুযায়ী, মোদি জমানার আগে ভারত ছিল এক ‘দুর্বল’ রাষ্ট্র, আর এখন ভারত বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এই ন্যারেটিভটাই ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়া, মূলধারার সংবাদমাধ্যমে। এই ধরনের জাতীয়তাবাদের এক বড় বিপদ হল, এটা দিয়ে সরকারের যেকোনও সমালোচনাকে ‘দেশদ্রোহিতা’ বলে দাগিয়ে দেওয়া যায়, যারা সরকারের আর্থিক নীতি বা এজেন্সিগুলোর অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাদেরকে ‘আরবান নকশাল’ বা ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বলে অপমানিত করা যায়। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও আমরা দেখেছি, কীভাবে বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে পাকিস্তানের স্বার্থের সঙ্গে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যখন জাতীয় নিরাপত্তাকে এক নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাফল্যের সঙ্গে এক করে দেখা হয়, তখন গণতন্ত্রের সুস্থ বিতর্ক এবং ভিন্নমতের জায়গাটা তো আর থাকলেই না, কুঁকড়ে যায়। এই জাতীয়তাবাদের আড়ালে অর্থনৈতিক ব্যর্থতাগুলোও ঢাকা পড়ে যায়, যা ভোটারদের নজরকে ঘুরিয়ে রামমন্দির বা পাক সীমান্তে নিয়ে যায়। আর এরপরে বিজেপির সবচেয়ে বিতর্কিত হাতিয়ার হল – ইডি (ED) এবং সিবিআই (CBI)-এর মতো তদন্তকারী সংস্থাগুলোর একতরফা ব্যবহার। তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ বছরে ইডি যত রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তার ৯৮ শতাংশই বিরোধী দলের নেতা। এই পরিসংখ্যানটা সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য ভয়ঙ্কর। ইডি-র কাজকর্ম গত এক দশকে কীভাবে পাল্টেছে, তা দেখলে চমকে উঠতে হয়। ইউপিএ জমানায় যেখানে মাত্র ৮৪টা তল্লাশি হয়েছিল, সেখানে এনডিএ জমানায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭,২৬৪টাতে, যা প্রায় ৮৬ গুণ বেশি। একইভাবে গ্রেফতারের সংখ্যা ২৯ থেকে বেড়ে ৭৫৫ হয়েছে এবং অ্যাটাচ করা সম্পদের মূল্য ৫,০৮৬ কোটি টাকা থেকে লাফিয়ে ১,২১,৬১৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিপুল পরিমাণ তল্লাশি আর মামলা সত্ত্বেও সাজার হার কিন্তু অত্যন্ত কম। ইডি-র ক্ষেত্রে সাজার হার মাত্র ০.৭ শতাংশের কাছাকাছি বলে দাবি করা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, অনেক প্রভাবশালী বিরোধী নেতা, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই সেই সব তদন্ত রহস্যজনকভাবে থেমে গিয়েছে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা মণীষ সিসোদিয়ার মতো আপ (AAP) নেতাদের গ্রেফতার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই তো নয়। পিএমএলএ (PMLA) আইন এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেখানে জামিন পাওয়া প্রায় অসম্ভব, যা এই ‘এজেন্সি রাজ’-কে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | নির্লজ্জ স্বৈরাচারী ট্রাম্প আজ বিশ্বের দখল নিতে চায়

আর বিজেপির এই তিন অস্ত্রের সঙ্গে যখন তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ জুড়ে যায়, তখন ভারতের নির্বাচন, গণতান্ত্রিক কাঠামোতে আর সমান সুযোগের লড়াই থাকে না। ২০২৪-২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির অনুদান বা ‘পার্স’ এক বছরেই ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৬,০৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের অনুদান আগের বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক হয়ে মাত্র ৫২২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ, বিজেপি কংগ্রেসের চেয়ে প্রায় ১২ গুণ বেশি টাকা পেয়েছে। অতীতেও এই ফারাক ছিল বিস্তর; যেমন ২০২৩-২৪ সালে বিজেপি পেয়েছিল ৩,৯৬৭ কোটি টাকা, যেখানে কংগ্রেস পেয়েছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ সালে বিজেপির ৩,৪২৭ কোটি টাকার উলটো দিকে কংগ্রেসের ঝুলিতে ছিল মাত্র ৪৬৯ কোটি টাকা। ইলেকটোরাল বন্ডের মতো ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বছরের পর বছর ধরে তাদের ভাঁড়ার ভরিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এই ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক বলে বাতিল করার আগে পর্যন্ত দেখা গিয়েছে, এই বন্ডের থেকে আসা মোট অর্থের এক বিরাট অংশ বিজেপির কাছেই গিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে যে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির রেইড থেকে বাঁচতে অনেক কোম্পানি বন্ডের মাধ্যমে বিজেপিকে টাকা দিয়েছে। এটা ‘আইনসম্মত চাঁদাবাজি’ বা ‘তোলাবাজি’ নয় তো কী? এই বিপুল অর্থ দিয়ে বিজেপি কেবল বিজ্ঞাপনই দেয় না, তারা বুথ স্তরে কর্মী বাহিনী পরিচালনা করছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারের এক বিশাল যন্ত্র তৈরি করেছে, যার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া বিরোধীদের কাছে এক দুঃস্বপ্ন। ভারতে রাজনৈতিক ফান্ডিংয়ের একটা বড় অংশ এখন আসে কর্পোরেট হাউসগুলোর কাছ থেকে। ২০২৪-২৫ সালের তথ্য বলছে, নির্বাচনী ট্রাস্টগুলো তাদের দেওয়া ফান্ডের সিংহভাগই শাসক দলকে দিয়েছে। ‘প্রুডেন্ট ইলেকটোরাল ট্রাস্ট’ একাই বিজেপিকে ২,১০০ কোটি টাকা দিয়েছে, যেখানে কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ২১৬ কোটি টাকা। এই ট্রাস্টের মধ্যে রয়েছে মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং, আদানি এবং এয়ারটেলের মতো বড় সংস্থা। টাটা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘প্রগ্রেসিভ ইলেকটোরাল ট্রাস্ট’ বিজেপিকে ৭৫০ কোটি টাকা দিলেও কংগ্রেসকে দিয়েছে মাত্র ৭৭.৩ কোটি টাকা। মহিন্দ্রা গ্রুপের ‘নিউ ডেমোক্রেটিক ট্রাস্ট’ বিজেপিকে ১৬০ কোটি টাকা দিলেও কংগ্রেসকে কিছুই দেয়নি। একইভাবে আদিত্য বিড়লা গ্রুপের ‘এবি জেনারেল ট্রাস্ট’ বিজেপিকে ৬০০ কোটি টাকা দিয়ে কংগ্রেসকে দিয়েছে মাত্র ১৫ কোটি টাকা। খুব পরিস্কার করে এই তথ্য বলে দিচ্ছে, ভারতের বড় কর্পোরেট হাউসগুলো শাসক দলের কাছে মাথা নীচু করেই থাকতে চায়। হ্যাঁ, এর পিছনে আয়কর ছাড়ের মতো কিছু সুবিধাও কাজ করে। তবে এর ফলে যে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ বা ‘ফড়ে পুঁজিবাদ’-এর জন্ম হয়, তা সাধারণ মানুষের স্বার্থকে বিপন্ন করে। যখন সরকার কর্পোরেটদের টাকায় পুষ্ট হয়, তখন সেই সরকারের নীতিগুলো স্বাভাবিকভাবেই বড় শিল্পপতিদের সুবিধের জন্যই তৈরি হয়। এমনকি অভিযোগ উঠেছে যে, ওষুধ পরীক্ষায় ফেল করা ফার্মা কোম্পানি বা গোমাংস রফতানিকারক কোম্পানিগুলোও বিজেপিকে টাকা দিয়েছে, যা দলটার ধর্মীয় ভাবাদর্শের সঙ্গে চরমভাবে বৈপরীত্যপূর্ণ।

তাতে কী, ওসব তো হাতীর বাইরের দাঁত, দেখানোর জন্য। নির্বাচনে এই অঢেল টাকার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে স্থানীয় রাজনীতিকে। ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম নির্বাচনে একজন প্রার্থী গড়ে মাত্র ২৫,০০০ টাকা খরচ করতেন, আজ সেই খরচ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বিজেপি যেভাবে তাদের অর্থবল ব্যবহার করে, তার এক ছোট্ট চেহারা দেখা যায় গুজরাতের ‘সামরাস’ গ্রাম পঞ্চায়েত পদ্ধতিতে, যেখানে নির্বাচন না করে ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ প্রতিনিধি বেছে নিলে গ্রামকে বিশেষ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়, ‘ভোট দিতে হবে না, আমাদের রাখো, আমরা টাকা নিয়ে আসবো’, এটাই নাকি গ্রাম পঞ্চায়েত। কিন্তু এত কিছুর পরেও দেখুন ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল, বিজেপি তাদের সর্বশক্তি—হিন্দুত্ববাদ, জাতীয়তাবাদ, এজেন্সি এবং অঢেল টাকা—দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেও এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ২০১৯ সালে ৩০৩ খানা আসন পাওয়া বিজেপি এবার ২৪০-এই থমকে গিয়েছে, যা তাদের আগের সংখ্যার তুলনায় ৬৩টা কম। অন্যদিকে, কংগ্রেস গতবারের ৫২টা আসন থেকে বাড়িয়ে এবার ৯৯টা আসন দখল করেছে। ফলাফল বলছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২৯৩টা আসন পেয়ে সরকার গড়লেও বিরোধীদের আই.এন.ডি.আই.এ (INDIA) জোট ২৩৪টা আসন জিতেছিল। এই ফলাফল বলে দেয়, মানুষের পেটের জ্বালা বা রুটি-রুজির প্রশ্নের কাছে ধর্মের সুড়সুড়ি সব সময় কাজ করে না। বিজেপিকে এখন নীতীশ কুমার বা চন্দ্রবাবু নাইডুর মতো আঞ্চলিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যদিও বিজেপি তাদের অর্থের দাপট এবং এজেন্সির ব্যবহার করে গণতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা করছে, ভারতের সাধারণ মানুষ ২০২৪-এ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে—ভোটের কালিটা কোন টাকার বান্ডিলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। গণতন্ত্রকে হয়তো সাময়িকভাবে অর্থের জোরে চাপে রাখা যায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের চিন্তা, বোধ, সচেতনতাই তাকে রক্ষা করবে।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News