কলকাতা: রাহুলে’র জন্য একজোট বাংলা সিনেদুনিয়া। মঙ্গলবার, সকাল থেকে জনশূণ্য কলকাতার বিভিন্ন স্টুডিও। শুরু হল শিল্পীদের ডাকে কর্মবিরতি। ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সকলেই তুলছেন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন। সেই সঙ্গে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছেন প্রায় সকলেই। সুরক্ষার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল টলিপাড়া। মঙ্গলবার, টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় দিনভর দফায় দফায় বৈঠক হয়। পরে সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করেন রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তরা। টলিপাড়ার বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়, কর্মবিরতি প্রত্যাহার করছেন তাঁরা। ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স বা ওই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কারও সঙ্গে কোনও কাজ আপাতত করবেন না শিল্পী বা টেকনিশিয়ানরা।সাংবাদিক সম্মেলনে নজিরবিহীনভাবে চলে এল, টলিউডের ‘ব্যান কালচার’-এর কথা। এদিন দেব (Dev) এই প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে কথা বলেন। তাঁর কথায় এটা স্পষ্ট যে, ‘ব্যান’ কালচারের চির-বিরোধী তিনি।
অবশেষে কী দেব-স্বরূপ দ্বন্দ্ব মিটতে চলেছে? অবশেষে কী কাজে ফিরতে পারবেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য, ঋদ্ধি সেনের মতো ‘ব্যান’ হয়ে থাকা শিল্পীরা? এই প্রশ্নই টলিপাড়ার অন্দের ঘুরছে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে টলিউডকে। ইন্ডাস্ট্রিতে এতটাই নজিরবিহীন সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা হয়ত আগে কখনও হয়নি। ‘ঘরের ছেলেকে নিয়ে গিয়েছে’ উল্লেখ করে, একটা প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ না করার ঘোষণা, টলিউডে সাম্প্রতিক অতীতে কবে হয়েছে, মনে পড়ে না। রাহুলের মৃত্যুর সঠিক কারণ যতক্ষণ না জানা যাচ্ছে, যতক্ষণ না, প্রযোজনা সংস্থার তরফ থেকে সর্বসমক্ষে এই ঘটনায় দায়স্বীকার করা হচ্ছে, ততক্ষণ কাজ করা হবে না শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্য়ায়ের প্রযোজনা সংস্থা Magic Moments Motion Pictur।
সাংবাদিক সম্মেলনে টলিউডের ‘ব্যান কালচার’-এর কথা তুললেন দেব। তাঁর কথায় এটা স্পষ্ট যে, ‘ব্যান’ কালচারের চির-বিরোধী তিনি। দেবের কথায়, ‘আমায় বুম্বাদা অর্থাৎ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) কথা দিয়েছেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত ব্যান হওয়া শিল্পীদের উনি কাজে ফেরাবেন। জানি না, উনি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে কী কথা বলবেন, কী বোঝাবেন, কী করবেন? কিন্তু উনি আমায় কথা দিয়েছেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উনি সমস্ত ব্যান হওয়া শিল্পীদের কাজে ফেরাবেন।’ রাহুল চলে যাওয়ায় আমরা বুঝতে পেরেছি যে, কাজ করতে না দেওয়াটাও কতখানি কষ্টের। যাদের কাজ নেই, এই কষ্ট একমাত্র তারাই বুঝতে পারবে। তাই তাদের সকলকে ফেরানো হবে। এর আগেও, অনির্বাণ ভট্টাচার্য্যের (Anirban Bhattacharyya) ও অন্যান্য শিল্পীদের কাজে ফেরা নিয়ে বারে বারেই সরব হয়েছিলেন দেব। এদিন তিনি জানান, রাহুলের মৃত্যুতে গোটা টলিউড বুঝতে পেরেছে, মানুষের জীবন কতটা ঠুনকো। আর সেই কারণেই টলিউডের ব্যান কালচারের বিরোধী তিনি।
আরও পড়ুন: আয়ের দিক থেকে ‘বাহুবলী ২’-কে পিছনে ফেলল ‘ধুরন্ধর ২’!
এরপরে স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas) বক্তব্য রাখতে বসেই কার্যত উল্টো কথা বলেন। তিনি বললেন, ‘হঠাৎ করে দেব যে প্রস্তাব করলেন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উঠিয়ে দেবে, সেটা যদি আজ থেকে একবছর ৩ মাস আগে এসে উনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতেন তাহলে ভাল লাগত। কিছু কিছু আমাদের আর্টিস্ট কাজ করতে পারছেন না তা নিয়ে আমাদের একজন অভিনেতা প্রশ্ন করেছেন। কিন্তু তাঁর জ্ঞাতার্থে জানাই আমাদের টেকনিশিয়ানরা শেষ ১ বছর ৩ মাস ধরে কোর্টে নিজেদের অধিকার রক্ষা করার জন্য লড়াই করছেন। তাঁর উচিত ছিল, একবছর আগে এসে এই বিষয়টি জানা।আমরা যদি কাজের অধিকার না পাই, নূন্যতম কলাকুশলীও নিতে না পারি, নূন্যতম মজুরিও না পাই… এ সব নিয়েই আমাদের লড়াই ছিল। একবছর দশ দিনের মাথায় মহামান্য আদালত ওদের মামলা খারিজ করে দিয়েছে। কিন্তু এখনও আমরা হাইকোর্টে একটি কেসের জন্য লড়াই করছি।’এরপরে অবশ্য দেব আর কোনও কথা বলেননি। তবে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্টেটাস শেয়ার করে নেন তিনি। সেখানে বড় বড় লাল হরফে লেখা রয়েছে, ৭২ ঘণ্টা (72 Hours)।







