ওয়েব ডেস্ক: হরমুজ প্রণালী বন্ধ (Starit of Hormuz) করেছে ইরান। প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে যায়। তেলের বাজারে হাহাকার। পাল্টা দিল আমেরিকা। ইরানের ‘লাইফলাইন’ খার্গ দ্বীপে (US Strike Irans Kharg Island) শক্তিশালী মার্কিন হামলা।ইরানের খনিজ তেলের প্রধান ঘাঁটি খার্গ আইল্যান্ডে হামলা চালাল আমেরিকা। ইরানের ‘খাজানা’ খার্গ দ্বীপে (Iran’s oil hub Kharg Island) বোমা হামলা আমেরিকার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল আরবদুনিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) জানিয়েছেন, খার্গের সামরিক ঘাঁটিগুলি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ট্রাম্প লিখেছেন, তাঁর নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে (Military Targets on Kharg Island)। তাঁর কথায়, “ইরানের ‘মুকুটমণি’ খার্গ দ্বীপে থাকা সমস্ত সামরিক লক্ষ্য সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।” তবে আপাতত দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে হামলা করা হয়নি বলেও জানান তিনি। ইরান যদি হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে তেলের ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। খার্গে হামলা নিয়ে এখনও তেহরানের বক্তব্য জানা যায়নি। আমেরিকা চাইলে ইরানের যে কোনও ঘাঁটিই আক্রমণ করতে পারে এবং তা আটকানোর ক্ষমতা তেহরানের নেই, দাবি করেছেন ট্রাম্প। যুদ্ধ চলাকালীন যখন পশ্চিম এশিয়ার অন্য দেশগুলি তেল রফতানি বন্ধ রেখেছে, তখনও ইরান তেলের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু খার্গে হামলার পর তা ব্যাহত হতে পারে।
আরও পড়ুন: ‘ভারত আমাদের ভালো বন্ধু’, হরমুজে ভারতীয় জ্বালানি জাহাজে ছাড়পত্র ইরানের!
খার্গ দ্বীপ (Kharg Island) ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ইরানের সমুদ্র উপকূল থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরে খার্গ আইল্যান্ড। প্রবাল দিয়ে ঘেরা এই দ্বীপেই রয়েছে সবচেয়ে বড় তেল স্টোরেজ ট্যাঙ্ক এবং রপ্তানির পাইপলাইন। ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র।প্রায় সমস্ত কাঁচা তেল এখান থেকেই বিদেশে পাঠানো হয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এখান থেকে প্রায় ১৩.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানি হয়েছে বলে জানা গেছে।ইরানের অর্থনীতি তেলের উপরে নির্ভরশীল। আর তাদের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো চিন।ওয়াকিবহাল মহলের মতে, খার্গ দ্বীপে হামলা হলে ইরানের অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগতে পারে। খার্গ দ্বীপ শুধু তেল রপ্তানির কেন্দ্র নয়, স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখতেও ইরানের জন্য এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি।







