কলকাতা: নির্বাচনের নিঘন্ট এখনও প্রকাশ হয়নি। তার আগে বঙ্গে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পারদ চড়ছে। হাইভোল্টেজ বৃহস্পতিবার।সকাল থেকে আইপ্যাকের (I PAC ED Raid) কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেক অফিসে ED তল্লাশি ঘিরে হুলস্থূল রাজ্য রাজনীতিতে। এই তল্লাশির পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর দাবি, ‘ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করেছে। আমাদের কাগজ, তথ্য সব লুট করেছে। আমি মনে করি এটা অপরাধ।পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তল্লাশিতে বাধা দেওয়া ও নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তল্লাশি অভিযানের সময় অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ ইডি।এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআরের (FIR)-এর হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর।
এদিন মমতা বলেন, ওদের ফরেন্সিক টিম তথ্য ট্রান্সফার করে নিয়েছে। এটা অপরাধ। ফরেন্সিক টিমের বিরুদ্ধে এফআইআর হবে। সূত্রের খবর, শেক্সপিয়র সরণি থানায় ইডির বিরুদ্ধে পুলিশের FIR। অজ্ঞাতপরিচয় ইডি, CRPF আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের FIR। অনুপ্রবেশ, কর্তব্যরত পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগে পুলিশের FIR। ইডি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের FIR। জোর করে আটকে রাখা, অনুপ্রবেশের অভিযোগে আরেকটি FIR। শেক্সপিয়র সরণি থানায় আরেকটি FIR প্রতীক জৈনের পরিবারের।
আরও পড়ুন: ‘ক্ষমতার অপব্যবহার, ফাইল ছিনতাই’, হাইকোর্টে ইডি, কাল শুনানি?
সাংবাদিকদের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ‘এটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ। উনি দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না! আমার দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন! দলীয় প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করতে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রে হতে পারে না। পার্টি অফিসে ঢুকে এটা করা যায় না। আমরা যদি BJP-র অফিসে তল্লাশি চালাই? কী হবে?’ মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ উড়িয়ে ইডি স্পষ্ট ভাবে বিবৃতিতে বলেছে, ‘কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়নি। এই তল্লাশি কোনও নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত নয়। IPAC কর্ণধারের বাড়ি-অফিসে তল্লাশি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইডির। বলা হয়, ‘শান্তিপূর্ণ ও পেশাদারি কায়দায় তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। তল্লাশি চলাকালীন হঠাৎ প্রচুর পুলিশ নিয়ে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস কেড়ে নিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। IPAC কর্ণধারের বাড়ি থেকে সল্টলেকে IPAC-এর অফিসে ঢোকেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর সহযোগী ও পুলিশ অফিসাররা IPAC-এর অফিসে ঢোকেন। জোর করে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস কেড়ে নেন’।







