কলকাতা: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) নির্ঘণ্ট প্রকাশ হওয়ার পর থেকে কমিশন রাজ্যের একাধিক আমলা ও পুলিশের শীর্ষকর্তাদের বদল করেছে। প্রশাসনিক রদবদল ঘিরে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (ECI Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে ফের একবার তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, নজিরবিহীনভাবে বাংলাকে নিশানা করছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন যেভাবে বাংলাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে, তা কেবল নজিরবিহীনই নয়—বরং তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission) পক্ষপাতিত্ব করছে। রাজ্যের আধিকারিকদের বদলির নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপারদেরও ব্যাপক হারে বদলি করা হয়েছে। তাঁর কথায়, এটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। যেসব প্রতিষ্ঠানকে নিরপেক্ষ থাকার কথা, সেগুলোর ওপর পরিকল্পিতভাবে রাজনীতির প্রভাব বিস্তার করাটা সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাতের শামিল। এমন এক সময়ে—যখন একটি গভীর ত্রুটিপূর্ণ ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া চলছে এবং ইতিমধ্যেই ২০০-এরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে—কমিশনের কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব এবং রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে এক অস্বস্তিকর নতিস্বীকার ফুটে উঠেছে; যা বাংলার মানুষকে ক্রমাগত ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
মমতার অভিযোগ, যে সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ থাকার কথা, সেগুলিকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক রঙে রাঙানো হচ্ছে। এতে সংবিধানের মূল চেতনার উপর আঘাত লাগছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাংলার মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে, বিজেপি এখন জবরদস্তি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহারের মাধ্যমে এই রাজ্যটি দখল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলা কখনোই ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।বাংলা লড়াই করবে, বাংলা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং বাংলার মাটিতে বিভেদ সৃষ্টিকারী ও ধ্বংসাত্মক কোনও এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার যেকোনও প্রচেষ্টাকে বাংলা চূড়ান্তভাবে পরাস্ত করবে।
আরও পড়ুন: ভোটের আগে রাজভবনে বৈঠক! রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ শীর্ষ আমলাদের
মমতা আরও বলেন, মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশাবলিকে স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করে সম্পূরক ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি, যার ফলে সাধারণ নাগরিকরা গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এরই মধ্যে, আইবি (IB), এসটিএফ (STF) এবং সিআইডি (CID)-র মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর বরিষ্ঠ আধিকারিকদের বেছে বেছে পদ থেকে সরিয়ে রাজ্যের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে; যা বাংলার প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টার দিকেই ইঙ্গিত করে।বিজেপি কেন এত মরিয়া হয়ে উঠেছে? কেনই বা বাংলাকে এবং বাংলার মানুষকে এভাবে অবিরাম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে? স্বাধীনতার ৭৮ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও, সাধারণ নাগরিকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বাধ্য করার মধ্যে তারা ঠিক কী ধরনের তৃপ্তি খুঁজে পায়?
কমিশনের কার্যকলাপের মধ্যে যে স্ববিরোধিতাগুলো প্রকট হয়ে উঠেছে, তা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার সম্পূর্ণ পতনের বিষয়টিকেই উন্মোচিত করে দেয়। তারা দাবি করে যে, পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া আধিকারিকদের নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়; অথচ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সেই একই আধিকারিকদের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শিলিগুড়ি ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করার সময় তাঁদের স্থলাভিষিক্ত করার জন্য বিকল্প কাউকে নিয়োগ না করায়, এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নগরকেন্দ্র কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছিল। এই চরম প্রশাসনিক ত্রুটিটি প্রকাশ্যে আসার পরেই কেবল তড়িঘড়ি করে তা সংশোধন করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এটি কোনওভাবেই সুশাসন বা প্রশাসনিক দক্ষতা নয়। এটি মূলত বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি এবং চরম অযোগ্যতারই প্রতিফলন—যাকে কিনা ‘কর্তৃত্ব’ হিসেবে চালানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা বর্তমানে যা প্রত্যক্ষ করছি, তা কার্যত একটি ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ এবং ‘রাষ্ট্রপতি শাসনের’ই এক অপ্রকাশিত রূপ—যা কোনো গণতান্ত্রিক আদর্শ বা নীতির দ্বারা চালিত নয়, বরং সম্পূর্ণভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দ্বারা পরিচালিত।
The manner in which the Election Commission has singled out and targeted Bengal is not just unprecedented- It is deeply alarming. Even before the formal notification of elections, more than 50 senior officials including the Chief Secretary, Home Secretary, DGP, ADGs, IGs, DIGs,… pic.twitter.com/ITipND3qYr
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 19, 2026






