কলকাতা: দুর্গাপুজো (Durga Puja 2025) এখন দরজায় কড়া নাড়ছে। প্রতি বছরই উৎসবের মরশুমে শহরের বিভিন্ন মণ্ডপ চত্বরে, ফুটপাথে কিংবা বাড়ির সামনে অস্থায়ী খাবারের স্টল বসে। সেই সব স্টলে বিক্রি হওয়া খাবারে ভেজাল মেশানো হচ্ছে কি না, তা দেখতে কলকাতা পুরসভার খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ বিভাগ বিশেষ নজরদারি চালাবে। ইতিমধ্যেই সেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অতীতেও দেখা গিয়েছে, পুরসভার অভিযানে নিম্নমানের ও ভেজাল খাদ্যের হদিশ মিলেছে, এবং দোষী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, এ বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না।
২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে খাবারের মান রক্ষার নিয়ম ভাঙার অভিযোগে মোট ৫৭ জন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুরসভা। নিম্নমানের খাদ্য বিক্রির অপরাধে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে প্রায় ১৩ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা। জানা গিয়েছে, এই সময় সংগৃহীত কিছু নমুনা গত পুজোর স্টল থেকেই নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: পুজোয় যাত্রী ভিড় সামলাতে বিশেষ উদ্যোগ রেলের
কোন খাবার বেশি ঝুঁকিপূর্ণ? আধিকারিকদের মতে, পুজোর সময়ে রান্নায় ক্ষতিকর রং ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে যায়। মূলত গ্রাহকদের আকর্ষণ করতেই তা করা হয়। তাই রঙিন খাবার খাওয়ার আগে সাবধান হওয়া জরুরি। বিশেষত অচেনা জায়গা থেকে বিরিয়ানি, মাংসের পদ, জিলিপি বা অমৃতি কেনা এবং খাওয়া এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পুরসভার এক আধিকারিকের ভাষায়, “বেশিরভাগ দোকান নিয়ম মেনে চলে। তবে কয়েকটি দোকানের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটে। পুজোর সময়ে এই প্রবণতা আরও বেশি দেখা যায়। দুর্গাপুজো থেকে কালীপুজো পর্যন্ত কলকাতার নানা প্রান্তে নতুন নতুন খাবারের স্টল উঠে আসে। অন্য জেলা থেকেও অনেকে এসে দোকান খোলেন। সেই সব দোকান অনেক সময় মান বজায় রাখতে সচেতন থাকে না।”
ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, “পুজোর তিন দিন আগে থেকেই এই অভিযান শুরু হবে এবং চলবে উৎসবের শেষ দিন পর্যন্ত। সারা বছর ধরেই নজরদারি চালানো হয়, তবে পুজোর সময় থাকে বিশেষ ব্যবস্থা।”
দেখুন আরও খবর: