ওয়েব ডেস্ক: ১৪৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে- ডিএইচআর (Darjeeling Himalaya Railways) এবার পর্যটকদের জন্য আনছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ইউনেসকো (UNESCO) স্বীকৃত এই হেরিটেজ টয়ট্রেন (Heritage Toy Train Service) পরিষেবায় যোগ হচ্ছে তিনটি নতুন চার্টার্ড ভ্রমণ—যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘মহারানি গ্রেট এসকেপ’ (Maharani Great Escape)। পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলোয় পাহাড়ের বাঁক ঘুরে চলবে ‘খেলনা গাড়ি’, সঙ্গে থাকবে ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি ও পাহাড়ি আতিথেয়তার মেলবন্ধন।
ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরীর কথায়, টয়ট্রেনের সঙ্গে পাহাড়ের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিবেশকে একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ করে দিতেই এই উদ্যোগ। বন দফতরের সঙ্গে যৌথভাবে ট্রেকিং, হাইকিং, আদিবাসী ও গোর্খা সম্প্রদায়ের খাবার, হস্তশিল্প, নাচগানের আয়োজন থাকবে। কার্শিয়াং টয়ট্রেন মিউজিয়াম দর্শনের সুযোগও মিলবে পর্যটকদের।
আরও পড়ুন: অবসরের আগেই মৃত্যু? এবার বিবাহিত ও ডিভোর্সি মেয়েরাও পাবেন আর্থিক সুবিধা
১) মহারানি গ্রেট এসকেপ
১৯২০ সালে কোচবিহারের রানি ইন্দিরা দেবীর দার্জিলিং থেকে গোপনে পূর্ণিমার রাতে টয়ট্রেনে ফেরা—সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই বিলাসবহুল পরিষেবা। বিকেল সাড়ে ৫টায় দার্জিলিং থেকে যাত্রা শুরু হবে। তিনধারিয়া ওয়ার্কশপ দর্শন, ট্রেনে তিব্বতি চা, রংটং–সুকনা হয়ে গুলমা পর্যন্ত সফর। গুলমায় থাকবে লোকসংস্কৃতির অনুষ্ঠান ও রাতের খাবার। ভাগ্য সহায় হলে চাঁদের আলোয় চা-বাগানের অপূর্ব দৃশ্যও দেখা যেতে পারে।
২) বাঘিরা জঙ্গল ট্রেইল
বন দফতরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে টুং থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত এই বিশেষ পরিষেবা। সকাল ১০টা নাগাদ ডাউহিলে সমবেত হয়ে বনকর্মীদের সঙ্গে ট্রেকিং। জঙ্গল, ভিউ পয়েন্ট, ফরেস্ট মিউজিয়াম ও প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ দর্শনের পর কার্শিয়াং স্টেশন থেকে টয়ট্রেনে মহানদী ও গিদ্ধাপাহাড় সফর, নেতাজি মিউজিয়াম দর্শন—সব মিলিয়ে প্রকৃতি ও ইতিহাসের যুগলবন্দি।
৩) টি টিম্বার ট্রেইল
সুকনা থেকে তিনধারিয়া পর্যন্ত এই ভ্রমণে চা-বাগানের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ। রংটংয়ে সিপাহিধুরা চা-বাগানে চা-পাতা তোলা, কারখানা ও টি টেস্টিং সেন্টার ঘুরে দেখা যাবে। স্থানীয় গ্রামের খাবার ও হস্তশিল্প উপভোগের ব্যবস্থাও থাকবে।
কার্শিয়াং বনবিভাগের ডিএফও দেবেশ পান্ডে জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও গাইডের ব্যবস্থা থাকবে। ১৮৮১ সালের ৪ জুলাই প্রথম শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত টয়ট্রেন চলার পর থেকে আজও এই ঐতিহ্য অমলিন। নতুন তিন পরিষেবা সেই ইতিহাসকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলতে চলেছে।







