ওয়েবডেস্ক- মমতার (Mamata Banerjee) এসআইআর মামলা (SIR Verdict) শুনানি শুরু সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) । শুনানি শুরু হতেও সওয়াল শুরু করেন কমিশনের আইনজীবী। পাল্টা জবাব দেব রাজ্যের আইনজীবীও।
আমাদের ৩০০ জন গ্রুপ বি অফিসার দরকার ছিল। পেয়েছি ৮০, আদালতে বলল কমিশন। কমিশন কখনই রাজ্যের কাছে গ্রুপ বি অফিসার চায়নি, আদালতে জানালেন রাজ্যের আইনজীবী।
৫০ শতাংশের বেশি লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি শুধু নামের ভুলে। সব রাজ্যকে এটা বুঝতে হবে বলল সুপ্রিম কোর্ট।
রাজ্যের আইনজীবী গোপাল এস বলেন, কমিশন চাইছে মহকুমা শাসক মর্যাদার আধিকারি দেওয়া হোক। তাহলে পশ্চিমবঙ্গকে আট হাজার জেলা বানাতে হবে, তাহলে আট হাজার মহকুমা শাসক দেওয়া যায়। এটা বাস্তবে সম্ভব নয়।
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী দিওয়ানও বলেন, “মাইক্রো অবজার্ভারদের বলা হচ্ছে তাঁরা ইআরও বা এইআরওর সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত কি না, সেটা নির্দিষ্ট করতে। মাইক্রো অবজার্ভারদের এক ধরনের বেআইনি ভূমিকা দেওয়া হচ্ছে। ইআরও ও এইআরও দের ঠিক বলার পরেও মাইক্রো অবজার্ভারদের কার্যত ট্রাম কার্ড দেওয়া হচ্ছে, এটা ঠিক নয়।
কমিশনের আইনজীবী আদালতকে জানান, রাজ্যে আমাদের নির্দেশ মানছে না। সাসপেন্ড করছে না। এফআইআর করছে না। রাজ্য বলছে তাদের কিছু করার নেই, প্রতিটি পদক্ষেপেই রাজ্য অসযোগিতা করছে।
মুখ্যমন্ত্রী আইনজীবী দিওয়ান বলেন, নামের বানান গরমিলের ক্ষেত্রে ডিফল্ট অবস্থান হওয়া উচিত। এদের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। কমিশনকে এমন নির্দেশ দেওয়া হোক।
প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, এই মুহূর্তে আমরা এমন কোনও নির্দেশ দিতে পারি না। আইনজীবী দিওয়ান বলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ হবে। তার পর আর আপিল করার সুযোগ থাকবে না। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা হলে, তার পরেই নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। আমাদের একটাই উদ্বেগ যে গণহারে যে ভোটারদের নাম বাদ না দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন- আজ ফের ‘মমতা বনাম নির্বাচন কমিশন’! কখন হবে শুনানি?
কমিশনের আইনজীবী জানান, আমরা কীভাবে রাজ্যের দেওয়া ৮,৫০০ জন অফিসারকে প্রশিক্ষণ ছাড়া নেব? ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ দিন। আসলে এই কাজ নিয়ে তিলকে তাল বানানো হচ্ছে।” প্রধান বিচারপতি বলেন,
“এখন যে ৮,৫০০ জন পাঠানো হচ্ছে, তাঁদের আগামিকালই রিপোর্ট করে কাজে যোগ দিতে দিন। তবে কমিশনের বক্তব্য, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। কমিশনের আইনজীবী বলেন, এই কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। না তারা কিছুই বুঝতে পারবেন না।
প্রধান বিচারপতি বলেন, যদি রাজ্যের দেওয়া অফিসারের আগামীকাল যোগ দিতে পারেন, তবে তাদের নথি দেখতে দিন। এতে সিন্ধান্ত গ্রহণে সুবিধা হবে। বিচারপতি বাগচী বলেন, নোটিস মূলত ম্যাপড ভোটারদের জন্য। যে সফটওয়্যার টুল ব্যবহার করছেন, তাতে নামের সামান্য পার্থক্যের জন্য ডাকা হচ্ছে। পরিবারে ‘কুমার’ প্রায় মাঝের নাম কুমার ব্যবহৃত হয়। যদি ‘কুমার’ বাদ পড়ে তাহলে নোটিস পাঠানো হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এসআইআর মামলার শুনানি চলছে। গত বুধবার শুনানিতে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দিন মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন পদবি বা নামের বানানের পার্থক্যের জন্য শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। হিয়ারিংয়ে ডেকে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে, এই অভিযোগে সরব হন তিনি। গত বুধবারের শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকলেও, আজকের শুনাতিতে তিনি উপস্থিত থাকবেন না, ভার্চুয়ালি তিনি এই মামলা লড়বেন মুখ্যমন্ত্রী, এমনটাই সূত্রের খবর।
কমিশন জানায়, মাইক্রো অবজার্ভারদের অন্তত ১০ দিনের প্রশিক্ষণ দরকার। আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি, আরও ১৪ লক্ষ শুনানি বাকি আছে। আগামী সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি।







