Thursday, May 14, 2026
HomeScrollAajke | রাহুল গান্ধী চাইছেন সিপিএম বাংলাতে শূন্য হয়ে যাক
Aajke

Aajke | রাহুল গান্ধী চাইছেন সিপিএম বাংলাতে শূন্য হয়ে যাক

সেলিম সিপিএম-এর থেকে দূরত্ব চান রাহুল গান্ধী! তাই নির্দেশ দিলেন একলা চলার?

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

রাজনীতি এক অদ্ভুত বিষয়। একদল একটা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তার আসল উদ্দেশ্য বুঝতে অনেক সময় লাগে। আদতে সেই দল যা চাইছে, তা বোঝার জন্য অনেক হিসেব নিকেশ করতে হয়। এখনও বাংলার নির্বাচনের তিন মাস বাকি, তৃণমূলের জোট করার কোনও দায় নেই, যদি তাদের শর্তে ঘাড় ও মাথা নীচু করে কংগ্রেস আসে তো ভালো, না হলে তারা একলাই লড়বেন – এরকমই একটা মনোভাব। ওদিকে সিপিএম খানিকটা ‘কানামাছি ভোঁ ভোঁ, যাকে পাবি তাকে ছোঁ’, এরকম একটা মনোভাব নিয়ে মন বোঝার চেষ্টা করছে, বা বলা ভালো মন বুঝতে গিয়ে আরও বড় সমস্যা তৈরি করছে দলের ভেতরে, ফ্রন্টে বা সাধারণভাবে সমর্থকদের মধ্যে। বিজেপির অবস্থা হল হিংসুটে দৈত্যের মতো, যার খেলা কোনও সঙ্গী নেই, সে যতই চাক না কেন, তার জোট সঙ্গী এ বঙ্গে মেলা দুষ্কর। অঢেল টাকা আছে, সেই টাকা দিয়ে কিছু ভোটা কাটাউদের তারা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন, টাকা খরচ হবে প্রচুর, কিন্তু ভোট কাটার কাজ তারা কতটা করতে পারবেন, তা জানা নেই। বাকি রইল কংগ্রেস, এ বাংলার কংগ্রেস আবার দু’মুখো – একদলের নেতা হলেন অধীর চৌধুরী, তাঁরা খানিকটা সিপিএম-কংগ্রেসও বলা যায়, যাঁদের উঠিতে-বসিতে-শয়নে-স্বপনে-জাগরণে মাত্র একটাই চিন্তা – ‘মমতাকে সরাও’, দেশ, রাজনীতি, আদর্শ, সময়, বাস্তবতা কিচ্ছু নেই মাথায়, ‘মমতা হাটাও’ তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য। অন্যদল হলেন কেন্দ্রীয় কংগ্রেস – রাহুল যাহা বলিবেন ওনারা তাহাই করিবেন, তাঁদের নিজস্ব মতামতের কোনও ব্যাপারই নেই। কিন্তু ওভার-অল কংগ্রেসে এখনও ওই হাই-কমান্ড কালচারটা তো আছে। তাই এক্কেবারে রাহুলের নির্দেশেই তাঁরা এই রাজ্যের ২৯৪টা আসনেই লড়বেন। প্রার্থী পেয়ে যাবেন? জানি না, কিন্তু লড়বেন তো বলেছেন। কিন্তু এই নির্দেশ কেন এল? সেটাই বিষয় আজকে, রাহুল গান্ধী চাইছেন সিপিএম বাংলাতে শূন্য হয়ে যাক।

বলবেন না যে, এই নির্দেশ দিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব বা ওই খাড়গে সাহেব। হ্যাঁ, ওনারা ছিলেন, কিন্তু নির্দেশ এক্কেবারে রাহুল গান্ধীর। একলা চলো রে। ৭ শতাংশ ভোট আছে বামেদের, কিছু পকেটে সেটা ২০ থেকে ২৫ শতাংশের কাছাকাছি, সেই সব জায়গাতে কংগ্রেসের ভোট জুড়ে গেলে, আর ওই ভোট কাটুয়াদের আশীর্বাদে কিছু ভোট কাটাকাটি হলে দু’চারটে কি পাঁচটা আসনে সিপিএম জিতে গেলেও অবাক হতাম না। কিন্তু সেখানে যদি কংগ্রেসের প্রার্থী থাকে? তাহলে? অসম্ভব, গোটা রাজ্যে আবার শূন্য ছাড়া আর কোনও অপশন তাঁদের সামনে খোলা নেই। কংগ্রেসের কী হবে? (১) যদি কোনওরকম বোঝাপড়া ছাড়াই তাঁরা নির্বাচনে নামেন, তাহলে মামু এলাকা। মানে মালদা মুর্শিদাবাদ এলাকাতে কয়েকটা আসন ভোট কাতাকাটিতে জিতে যাবে বিজেপি। হ্যাঁ, কয়েকটা আসন পাবে কংগ্রেসও। (২) যদি তৃণমূলের সঙ্গে একটা হালকা বোঝাপড়া নিয়ে তারা ভোটে নামে, তাহলে গোটা ৮ থেকে ১০টাও আসন পেতে পারে। কিন্তু সিপিএম? ধরুন সেলিম সাহেবের এবারের লড়া মুর্শিদাবাদ আসনে ডোমকল বিধানসভা, ২০১৯-এ জোট হয়নি, সিপিএম পেয়েছিল ১৭.৪ শতাংশ ভোট, কংগ্রেস ৩৪.৬ শতাংশ ভোট, ২০২৪-এ জোট হয়েছিল, সিপিএম পেয়েছিল ৪২.৮২ শতাংশ ভোট। মানে খুব পরিস্কার, রাহুল গান্ধীর এই সিদ্ধান্তে সিপিএম-এর শূন্যের গেরো তাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না। সেলিম সাহেবেরও আর এ জীবনে বিধায়ক হয়ে ওঠা হবে না, এমপি হওয়া তো দুরস্থান।

আরও পড়ুন: Aajke | এই বাজেট ঐতিহাসিক, মমতা যা করলেন তা আগামীদিনে মানুষ মনে রাখবেন

তো এরকম সিদ্ধান্ত রাহুল গান্ধী নিলেন কেন? (১) এবারে কেরলে কংগ্রেসকে ফিরতেই হবে, সেখানকার মানুষের কাছে বাংলায় দোস্তি, কেরলে কুস্তির মেসেজ তিনি দিতে চান না, কেরালা তাঁর চাই। তাহলে অন্তত তিনটে রাজ্য কংগ্রেসের হাতে থাকবে। (২) সারা ভারতে ৪১ থেকে ৪২টা সাংসদের দলের সঙ্গে তাঁকে জাতীয় স্তরে একটা বোঝাপড়া রাখতেই হবে, বাংলাতে সিপিএম-এর সঙ্গে জোট মানে সেই বোঝাপড়াতে গ্যামাক্সিন ঢেলে দেওয়া। (৩) সিপিএম মার্কা বামপন্থার চেয়ে রাহুল গান্ধীর এখন পছন্দ লিবারেশনে দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের প্রাগম্যাটিক বাম চিন্তা ভাবনা, মার্কসিস্ট জারগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিহারে লড়ছে, আর কংগ্রেসের পাশে আছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর রাজনৈতিক পরামর্শদাতা তো ওই লিবারেশনেরই একজন। সব মিলিয়ে ইয়েচুরিবিহীন কারাত, সেলিম সিপিএম-এর কাছ থেকে দূরত্ব চান রাহুল গান্ধী, আর তাই নির্দেশ দিলেন একলা চলার। কিন্তু রাজ্যের ভেতরে হালকা বোঝাপড়া, তার জন্য তো মিঠুদার মতো কংগ্রেসের নেতারা আছেন। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, কংগ্রেস রাজ্যের ২৯৪টা আসনে একলা লড়ার সিদ্ধান্তে কতটা সঠিক? এর ফলে সিপিএম-এর আসন জেতার সম্ভাবনা কমল না বাড়ল?

কংগ্রেস আর বামেদের জোট এক অস্বাভাবিক ব্যাপার, সিপিএম-এর পার্টি প্রোগ্রামে আজও কংগ্রেস হল এই রাষ্ট্র কাঠামোর পুঁজিবাদী আর সামন্ততান্ত্রিক অবশেষের রাজনৈতিক প্রতিনিধি, যাদের বিরুদ্ধে এক শ্রেণির জোট তৈরি করে সিপিএম-এর নেতৃত্বে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব করবে। খেয়াল করে দেখুন এক্কেবারে বিজেপি তান্ডব নৃত্য শুরু করার আগে পর্যন্ত এক অন্ধ কংগ্রেস বিরোধিতার ফলেই সিপিএম-এর বিজেপির হাত ধরতে কোনও অসুবিধেই হয়নি। তার আগে পর্যন্ত কংগ্রসই ছিল একমাত্র শত্রু। আবার কেরলে ঠিক এই সময়েই সিপিএম নেতৃত্ব একবার নয়, বারবার কংগ্রেসকে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলার অভিযোগ করেছে, মানে সেই সেটিং তত্ত্ব, কংগ্রেসও এক বিরাট সময় ধরে সিপিএম-কে তাদের শত্রু মনে করত, কেরলে তো আজও কংগ্রেস আদত প্রচারই হল বিজেপির ‘বি টিম’ সিপিএম-কে একটা ভোটও দেবেন না। সেই দল বাংলাতে সিপিএম-কে ছেড়ে নিজেরা দাঁড়িয়েছে সেটা খুব অবাক করার মতো কিছু নয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত সম্ভবত তাঁদের শূন্য থেকে গোটা পাঁচ সাত আসনে নিয়ে যাবে। হ্যাঁ, আপাতত এটাই মনে হচ্ছে।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor WDBOS slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ traveltoto toto slot situs toto slot gacor https://todayinnewsfocus.com/ BWO99 poker idn poker situs slot gacor idn poker toto slot MySlot188 toto slot toto SlotPoker188 situs toto