কলকাতা: চিরঘুমে টুটু বসু (Tutu Bose)! সবুজ-মেরুনের এক যুগের অবসান, অভিভাবকহীন মোহনবাগান, শোকস্তব্ধ ময়দান।শুধু মোহনবাগান নয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল এবং মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্তারাও এই প্রবীণ প্রশাসকের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।মোহনবাগান ক্লাবের ইতিহাসে টুটু বসু এক বিরাট অধ্যায়। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত সচিব, তারপর ১৯৯৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন টুটু বসু। মাঝে অঞ্জন মিত্রের সঙ্গে তাঁর ‘জুটি’, ২০১৮ সালে তিনি ফের সচিব পদে ফেরেন। যদিও সাম্প্রতিক নির্বাচনে তিনি সরে দাঁড়িয়েছিলেন। বর্তমানে কোনও আনুষ্ঠানিক পদে থাকেননি।স্বচ্ছ ভোটদান পদ্ধতি থেকে শুরু করে ক্লাবের পরিকাঠামো উন্নয়ন—সবক্ষেত্রেই ছিল তাঁর হাতের ছোঁয়া। মোহনবাগানকে বড় বিনিয়োগের রাস্তায় নিয়ে যাওয়া এবং আরপিএসজি গ্রুপের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন তিনিই।সোমবারই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাত ১১ টা ৫৫ মিনিটে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

টুটু বোসের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোশাল মিডিয়ায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি প্রাক্তন সাংসদ টুটু বসুর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত।' শোকবার্তা জানানো হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে।

টুটু বোসের প্রয়াণে শোকবার্তা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোশাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, 'বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক, মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সচিব, প্রাক্তন সভাপতি এবং প্রাক্তন সাংসদ স্বপন সাধন বসু (টুটু বসু)-এর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।

টুটু বোসকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বাসভবনে উপস্থিত বিমান বসু। পুত্র সৃঞ্জয় বোসের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান।

বালিগঞ্জের বাসভবনে টুটু বোসকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানালেন মুনমুন সেন, তাঁর কন্যা রাইমা সেন। শ্রদ্ধা জানান বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত, প্রাক্তন ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্য শ্রদ্ধা জানান । দীর্ঘদিন মোহনবাগানের হয়ে খেলা ফুটবলার বলেন, "উনি যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে মোহনবাগানের সেবা করেছেন, তা ভোলা যায় না। টুটুবাবু এতো কাজ করেছেন, তা বলে শেষ হবে না। ওঁর প্রয়াণ একটা বড় ক্ষতি।
শোকপ্রকাশ করেছেন নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর এবং পুর ও নগরোন্নয়ন বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

টুটু বোসের বিদায়ে শোকসন্তপ্ত রাজ্য বিজেপি'র সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সোশাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, 'প্রয়াত স্বপন সাধন বসু (টুটু বসু) ভারতীয় ফুটবল ও মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব পরিবারের এক অবিস্মরণীয় নাম। সবুজ-মেরুনের সাফল্য, আধুনিকীকরণ ও ঐতিহ্য রক্ষায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ক্রীড়া প্রশাসক, সাংসদ ও সংগঠক হিসেবে তিনি বাংলার ক্রীড়াজগতে এক অনন্য অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছেন। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় ফুটবল তথা বাংলার ক্রীড়াঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হল।
প্রয়াত প্রাক্তন মোহনবাগান সভাপতি স্বপনসাধন বোস (টুটু)। টুটু বসুর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘‘মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি, প্রাক্তন সাংসদ তথা বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক শ্রী স্বপন সাধন বসু (টুটু বসু) মহাশয়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। যিনি টুটু বোস নামেই কলকাতা ময়দানে বেশি পরিচিত ছিলেন। মোহনবাগান ক্লাব ও টুটু বোস একে অপরের পরিপূরক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া প্রশাসনে ওঁর অসামান্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ওঁর নেতৃত্ব, দূরদৃষ্টি এবং খেলাধুলার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, পরিজন, শুভানুধ্যায়ী এবং অসংখ্য অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে ওনার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি প্রার্থনা করি। ওঁ শান্তি।’







