কলকাতা: বাংলায় রাজনৈতিক পালা বদলের পর ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর নাগপাশমুক্ত টলিউডে স্বস্তির শ্বাস ফেলছে সিনেপাড়া। সিনেইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে বিজেপির তারকা বিধায়করা ইতিমধ্যেই ‘অ্যাকশনে’ নেমে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে বাংলা সিনে ইন্ডাস্ট্রির হাল ফেরাতে বুধবার রাতে নতুন কমিটির (Special Committee Built Tollywood) ঘোষণা হয়েছে। এবার টলিউডের উন্নয়নে গঠন হল নতুন উপদেষ্টামণ্ডলী। যে কমিটিতে রয়েছেন এনসিপিআই সাংসদ দেব (Dev) এবং বিজেপির তারকা বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee)।
হিরণ রয়েছেন বিজেপিতেই। কিন্তু দেব এখন তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন। এবার টলিউডের সুদিন ফেরাতে, বাংলার ভোটের সেই দুই তারকা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এসে দাঁড়ালেন একই কমিটিতে। দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে বাংলা সিনে ইন্ডাস্ট্রির হাল ফেরাতে বুধবার রাতে নতুন কমিটির ঘোষণা হয়েছে। গত ৮ জুন নবান্নে তথ্যসংস্কৃতি দফতরের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। যে মিটিংয়ের মূল বিষয় ছিল বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির নানা সমস্যায় আলোকপাত করা। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্তই এবার রাজ্য সরকারের তরফে বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হল। নতুন এই উপদেষ্টামণ্ডলীতে রয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, যিশু সেনগুপ্ত, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, প্রযোজক মহেন্দ্র সোনি, পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, পরিচালক-প্রযোজক সানি ঘোষ রায়,প্রোডাকশন ম্যানেজার জয়ন্ত কুন্ডু, টিভি পরিচালক অমিত দাস, অভিনেতা তন্ময় দে, তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব সৌমিত্র মোহন প্রমুখ।কমিটিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন ‘বিক্ষুব্ধ তৃণমূল’ তথা অধুনা এনসিপিআই সাংসদ দেব এবং বিজেপির তারকা বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: প্রথম ঝলকেই বাজিমাত করল সানি-প্রীতির ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’
নথি অনুযায়ী, বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল ঘটতে চলেছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধীনে। জানা গিয়েছে, এই দফতরের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ৪০টি কমিটি ও সংস্থার কাজ এবার কড়া নজরদারিতে চলবে। অনেক সংস্থার কাজ একই ধরনের হওয়ায় সেগুলোকে এক ছাতার তলায় আনা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বৈঠকে উপস্থিত বিনোদন জগতের প্রতিনিধিদেরই। শুধু তাই নয়, এই সংস্থাগুলোর সভাপতি বা চেয়ারম্যানের মতো শীর্ষ পদাধিকারী হিসেবে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে তাঁদের। এবার থেকে সমস্ত হল বুকিংয়ের জন্য একটি ‘অভিন্ন আবেদন পদ্ধতি’ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা গোটা প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করবে। পাশাপাশি তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বার্ষিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচিগুলোকেও নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের।নয়া এই কমিটিতে দেব-হিরণের একসঙ্গে থাকাকে ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। হিরণের কথায়, “কমিটিতে এমন মানুষও রয়েছেন, যাঁরা একুশে জুলাইয়ের মঞ্চেও ছিলেন। কীভাবে সৌজন্যের রাজনীতি করতে হয়, এটা তাঁদের শেখা উচিত। রাজনীতির উর্ধ্বে গিয়ে মানুষের উন্নয়ন।







