কলকাতা: দীর্ঘ জল্পনার অবসান। মেসি-সফর সংক্রান্ত বিতর্কে (Messi Controversy) টানা তিনবার হাজিরা এড়ানোর পর অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় (Bidhannagar South) উপস্থিত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ তিনি থানায় পৌঁছন। সম্ভাব্য হাজিরার ইঙ্গিত আগের রাতেই মিলেছিল। সেই কারণে সকাল থেকেই থানার বাইরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
গত ডিসেম্বরের লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে ওঠা বিতর্কের জেরে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। তাঁর অভিযোগ, মেসি সফরের জন্য তৈরি হওয়া প্রায় ৭০ হাজার টিকিটের মধ্যে ২২ হাজার টিকিট অরূপ বিশ্বাস নিজের প্রভাব খাটিয়ে নিয়েছিলেন এবং সেগুলির একাংশ অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছিল। পাশাপাশি মেসির নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রোটোকলও মানা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অরূপ বিশ্বাসকে একাধিকবার নোটিস পাঠানো হলেও তিনি পরপর তিনবার হাজিরা এড়িয়ে যান। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল।
তবে এই মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের কাছ থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পেয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। আদালত জানিয়েছে, আগামী ১৭ অগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। যদিও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশের পরই এদিন থানায় হাজিরা দিলেন তিনি।
এদিকে বুধবার নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয় লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত ম্যানেজমেন্ট টিমের পাঠানো একটি চিঠি। কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপত্তা ও প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, মেসির মাঠে উপস্থিতির সময় কোনও ভিআইপি বা বিশেষ অতিথির মাঠে থাকার অনুমতি ছিল না। অথচ তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মাঠে প্রবেশ করেছিলেন এবং নির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে গিয়ে মেসির খুব কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ছবি তোলার সময় মেসির কাঁধ ও কোমরে হাত রাখাসহ একাধিকবার অপ্রয়োজনীয় শারীরিক সংস্পর্শের চেষ্টা করা হয়েছিল। পাশাপাশি স্টেডিয়ামের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মেসির টিম। এখন তদন্তে অরূপ বিশ্বাস কী তথ্য দেন এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।







