কলকাতা: তিলোত্তমা তকমা পেয়েছে অনেক আগেই, তবে কলকাতার আরও একটি বড় পরিচয় সে গানের শহর। সুরের সমঝদারদের এই শহরে এবার বসতে চলেছে এক রাজকীয় জলসা। ভারতীয় সঙ্গীত দুনিয়ার অন্যতম নক্ষত্র, গজল সম্রাট হরিহরণ(Hariharan) তাঁর সুরের সফরের পঞ্চাশ বছর উদযাপন করতে বেছে নিয়েছেন এই শহরকেই। আগামী ২০ জুন, ২০২৬, দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নজরুল মঞ্চে আয়োজিত হতে চলেছে এক অনন্য একক গজল সন্ধ্যা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘উস্তাদ-এ-গজল’(Ustad-e-Ghazal,)। সেদিন ঠিক সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হবে এই সুরের মায়াজাল।
ভারতীয় মার্গ সঙ্গীতের এক অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং স্বতন্ত্র ঘরানা হলো গজল। বলিউড বা টলিউডের চটুল ছবির গানের ভিড়েও গজলের ধারাটি একটি শান্ত, বহমান নদীর মতো নিজের আপন ছন্দে বয়ে চলেছে। গজলের রসিকদের কাছে এর আবেদন চিরন্তন। ঘন্টার পর ঘন্টা স্রেফ গজলের মেহফিলে বুঁদ হয়ে বসে থাকতে পারেন শ্রোতারা। মূলত কথা-প্রধান এই গানের মূল ইউএসপি হলো তার কাব্যিক গভীরতা। প্রেম, বিরহ, একাকীত্ব বা জীবনের নানা সূক্ষ্ম অনুভূতিকে যখন সুরের স্নিগ্ধতায় মুড়িয়ে পরিবেশন করা হয়, তখন তা সরাসরি শ্রোতার হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করে। আর সেই পরিবেশনার কারিগর যদি স্বয়ং হরিহরণ হন, তবে তো কথাই নেই।
আজ থেকে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর আগে গজলের হাত ধরেই সঙ্গীত জগতে হরিহরণের পথচলা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীকালে হিন্দি, তামিল, তেলুগু সহ ভারতের বিভিন্ন ভাষায় প্লে-ব্যাক করে বিপুল জনপ্রিয়তা পান তিনি। ঝুলিতে পুরেছেন জাতীয় পুরস্কার থেকে শুরু করে পদ্মশ্রীর মতো দেশের সম্মানজনক উপাধি। কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে স্বয়ং নিবেদন করেছিলেন হরিহরণের সুর করা গজল অ্যালবাম ‘সুকুন’। এরপর বিগত পাঁচ দশক ধরে সিনেমা, পপ অ্যালবাম এবং গজল— সমস্ত মাধ্যমেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত তিরিশটিরও বেশি গজল অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। আশা ভোঁসলের সঙ্গে তাঁর ‘গুলফাম’ বা ‘আবসর-এ-গজল’ অ্যালবাম দুটি আজও শ্রোতাদের মনে অমলিন। এ ছাড়াও ‘কাশ’, ‘হালকা নশা’ বা ‘জশন’-এর মতো অ্যালবামগুলি গজল প্রেমীদের বুকশেলফের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
স্বাভাবিকভাবেই, কলকাতার সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে এই সন্ধ্যাটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং নস্টালজিক হতে চলেছে। নিজের এই বিশেষ সফর এবং কলকাতা প্রসঙ্গে শিল্পী হরিহরণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন, কলকাতা হলো খাঁটি সঙ্গীতের শহর, গান সমঝদারদের শহর। এখানকার শ্রোতাদের রুচি অসাধারণ। তাই এই শহরে বারে বারে ফিরে এসে গান পরিবেশন করতে তাঁর নিজেরও ভীষণ ভালো লাগে। জুনের ২০ তারিখ নজরুল মঞ্চের সেই মায়াবী সন্ধ্যায় ডুব দিতে এখন থেকেই প্রহর গুনছে তিলোত্তমা।







