ওয়েব ডেস্ক : ভারত (India) ও আমেরিকার (America) মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) তাঁর ‘ভালো বন্ধু’। আর দুই দেশের মধ্যে খুব শীঘ্রই একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। ট্রাম্প বলেন, “আমরা চুক্তিতে পৌঁছবই। আমি আপনার প্রধানমন্ত্রীকে খুব পছন্দ করি। তিনি আমার ভালো বন্ধু। আমাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে।”
তবে একইসঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে উচ্চ শুল্ক (Tariff) আরোপের অভিযোগও তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভারত আমেরিকার উপর অত্যধিক শুল্ক চাপিয়ে সুবিধা নিয়েছে। ট্রাম্পের কথায়, “বহু বছর ধরে ভারত আমেরিকার সুবিধা নিয়েছে। তারা আমাদের উপর বিপুল শুল্ক আরোপ করেছে, অথচ প্রায় কিছুই দেয়নি। এখন পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে। ভারত থেকে আমরা প্রচুর রাজস্ব আদায় করছি।”
আরও খবর : সাহারা মরুভূমিতে মর্মান্তিক মৃত্যু, তৃষ্ণায় প্রাণ গেল ৪৯ জনের
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, মার্কিন আইনের ৩০১ ধারাকে হাতিয়ার করে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির অভিযোগে ভারত-সহ ৬০টি দেশের পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক (Tariff) আরোপের পরিকল্পনা করছে তারা। এই তালিকায় ভারত ছাড়াও রয়েছে চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইজরায়েল, কাতার এবং রাশিয়ার মতো দেশ। এই আবহেই সপ্তাহের শুরুতে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল ভারতে এসে অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে। উভয় দেশই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যাপারে আগ্রহী।
হোয়াইট হাউসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প (Donald Trump) আবারও হার্লে-ডেভিডসন মোটরসাইকেলের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতে একসময় ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের কারণে মার্কিন সংস্থাটির ব্যবসা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। পরে বাধ্য হয়ে সংস্থাটিকে ভারতে উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতীয় মোটরসাইকেল নির্মাতারা আমেরিকার বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে তেমন কোনও বাধার মুখে পড়েন না, অথচ মার্কিন সংস্থাগুলিকে ভারতে উচ্চ শুল্কের সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
এই বিষয়ে কেন্দ্রের বাণিজ্য মন্ত্রকের বিবৃতি, “৩০১ ধারা কার্যকর করা হবে কিনা সেই নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চলছে। এছাড়াও, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ঘোষিত এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত যৌথ বিবৃতি অনুসারে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে কাজ চলছে।”
দেখুন অন্য খবর :







