Thursday, May 14, 2026
HomeBig newsএকসময়ে মমতার বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা থেকে আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
Shuvendu Adhikari

একসময়ে মমতার বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা থেকে আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সংগঠন গড়ে তোলার অন্যতম রূপকার ছিলেন  শুভেন্দু

ওয়েবডেস্ক-  বাংলায় (Bengal)  বিজেপি শাসনকাল (Bjp Rule)  শুরু হল। বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হলেন শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari)। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসানে আজ থেকে শুরু হল বিজেপি শাসনকাল। আজ ৯ মে পঁচিশে বৈশাখ কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড (Brigade)  শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

এক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোদ্ধা থেকে আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  শপথঅনুষ্ঠানের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সহ বিজেপি শাসিত ১৬ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আজ শুভেন্দু শপথগ্রহণ।

শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হলেও কলকাতার ভবানীপুর আসন থেকে জয়ী দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী তিনি। সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই আসন থেকে তিনবার ভোটে লড়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। একসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে সতীর্থ, সহযোদ্ধা বা রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলেন তিনি।

রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুরের মানুষ শুভেন্দু। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দিঘার কাছে কাঁথি শহরে তাঁর বাড়ি। কংগ্রেস ঘরানায় রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়ে ওঠা। বাবা শিশির অধিকারী মেদিনীপুর জেলা দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার আগে সেখানকার অতি পরিচিত কংগ্রেস নেতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল দল গঠন করেন, সেই সময় তিনিও তৃণমূলে যোগ দেন। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলেন শিশির অধিকারী। বাবা দেখানোর পথে এক সময় কংগ্রেসে ছিলেন শুভেন্দু।

আরও পড়ুন-  ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে বাংলার মানুষকে হাঁটু গেড়ে প্রণাম প্রধানমন্ত্রীর

ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু। পরে নিজের শহর কাঁথি পুরসভার কংগ্রেসে ওয়ার্ড কাউন্সিলার ছিলেন তিনি। বাবার শিশির অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলে যোগদান করেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০০৬ সালে তিনি কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা থেকে কেন্দ্র থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হন। কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যানের পদও সামলেছেন তিনি।

২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভা এলাকার সংলগ্ন নন্দীগ্রামে রাসায়নিক শিল্প হাব গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল তৎকালীন বাম সরকার। জমি অধিগ্রহণে বিরুদ্ধে সেখানকার কৃষকরা আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তৃণমূল স্তর থেকে এই আন্দোলনের সংগঠিত করেছিলেন শুভেন্দু।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সংগঠন গড়ে তোলার অন্যতম রূপকার ছিলেন এই তিনি।  ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে সেই সময়ে সিপিএম-এর হেভিওয়েট নেতা লক্ষ্ণণ শেঠকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য হন শুভেন্দু অধিকারী।

সেই বছরই সাংসদ হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী। এই সময় তৃণমূল কংগ্রেসে গুরুত্ব বাড়তে থাকে শুভেন্দুর। জঙ্গলমহলের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। এই এলাকায় তখন মাওবাদীদের দাপট ছিল প্রবলভাবে।

বাম জমানার ৩৪ বছরের শাসনকে  পরাস্ত করে ২০১১ সালে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হননি শুভেন্দু, তিনি তখন সাংসদ।

২০১৬ সালে বিধানসভায় ফিরে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দ্বিতীয় দফায় পরিবহণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শুভেন্দু।  দলের যুব সংগঠনের দায়িত্ব শুভেন্দু অধিকারীর উপরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক ব্যানার্জি নেতৃত্বে ‘যুব’ নামের একটি সংগঠন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ‘যুব’ নামের সংগঠনের সূচনা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সেই জনসভাটি হয়েছিল সেই আজকের কলকাতার এই ব্রিগেডেই।  এর পর সেই সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর দূরত্ব বাড়তে থাকে।

গত ৪ মে ভোট গণনায় বিজেপি রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করেছে, অবসান ঘটেছে তৃণমূল সরকারের। আজ ব্রিগেড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

 

 

Read More

Latest News

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor WDBOS slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ traveltoto toto slot situs toto slot gacor https://todayinnewsfocus.com/ BWO99 poker idn poker situs slot gacor idn poker toto slot MySlot188 toto slot toto SlotPoker188 situs toto