ওয়েব ডেস্ক: তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) তিরুভাল্লুর জেলায় একটি সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানি কারখানায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় (Gas Leak Accident) প্রাণ হারালেন অন্তত সাত জন মহিলা শ্রমিক। কারখানার ভিতরে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হওয়ার জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় আরও বহু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, গ্যাস লিকের পর কারখানার ভিতরে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, বমি-সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হন শ্রমিকরা। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে প্রশাসন। তিরুভাল্লুরের জেলাশাসক কবিতা জানিয়েছেন, মোট ৬৭ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৬ জন ভেলস হাসপাতালে এবং ২১ জন ভেঙ্কটেশ্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর অসুস্থ ন’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের সরকারি স্ট্যানলি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজধানী শিশু পাচার চক্রের রমরমা, গ্রেফতার ১৩
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কারখানার একটি পরিমাপক ভাল্ভ থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। সেই গ্যাস দ্রুত কারখানার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। অসুস্থদের অধিকাংশই ভিন্রাজ্যের শ্রমিক, বিশেষ করে উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে কাজের সূত্রে সেখানে এসেছিলেন।
তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়াপালায়ামের কাছে কান্নিগাইপায়ার গ্রামের ওই চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কারখানাতেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর আতঙ্কিত শ্রমিকরা প্রাণ বাঁচাতে কারখানা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। অনেককে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে অ্যাম্বুল্যান্সে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরেকলার। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশে শিল্প নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগের অধিকর্তা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সদস্য-সচিব এবং জনস্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত অধিকর্তাকে নিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দেখুন আরও খবর:







