মহেশতলা: মহেশতলা (Maheshtala) পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পীযূষ দাসকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভের ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। সোমবার বাটা স্পোর্টস ক্লাবে আয়োজিত একটি সভায় যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন এবং হেনস্তা করেন (District news)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহেশতলা এলাকার সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী ও সহশিল্পীদের নিয়ে একটি সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়েছিল বাটা স্পোর্টস ক্লাবে। সেই সভাতেই উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর পীযূষ দাস। অভিযোগ, সভা চলাকালীন একদল মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাটা স্পোর্টস ক্লাবের পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ক্লাবের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব দেননি কাউন্সিলর। পাশাপাশি নিউ মার্কেটে দোকান বরাদ্দ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বাটা কোম্পানির সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও ক্লাব কমিটিতে বাইরের লোকজনকে যুক্ত করার অভিযোগও ওঠে।
বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, বাটা কোম্পানিতে চাকরি করার পাশাপাশি অন্যত্র সমবায় সংস্থার চাকরির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন কাউন্সিলর। এই সমস্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পীযূষ দাস। তাঁর দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। কাউন্সিলরের অভিযোগ, বাটা স্পোর্টস ক্লাবের বর্তমান সভাপতি অসীম সরকার বিজেপি-সমর্থিত লোকজনকে নিয়ে এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন।
পীযূষ দাস বলেন, “ক্লাবের সমস্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব ব্যাঙ্কের মাধ্যমে হয় এবং প্রতি বছর অডিট করা হয়। আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় ক্লাবের তহবিল প্রায় শূন্য ছিল। বর্তমানে ক্লাবের ফান্ডে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা রয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্লাবের লিজ নেওয়া দুটি পুকুরে মাছের ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত অর্থের হিসাব বর্তমান সভাপতি অসীম সরকার দেননি। সেই বিষয় আড়াল করতেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই বিক্ষোভ সংগঠিত করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত পুলিশি অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।







